• শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০

টিলাগড় নিয়ে সরব শফিক চৌধুরী

সিলেটের টিলাগড়ের বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। কিন্তু বাসিন্দা হলেও টিলাগড় নিয়ে তার তেমন মাথাব্যথা নেই। তিনি বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের রাজনীতিতেই ব্যস্ত। টিলাগড়ের স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি কখনোই মাথা ঘামাননি। কিংবা নিজের কোনো গ্রুপও তৈরি করেননি। এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে দলবেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় এবার সরব হয়েছেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্থানীয়রাও। ছাত্রলীগের ‘অপরাধপ্রবণ’ এলাকা টিলাগড়কে রক্ষা করতে পুলিশ ফাঁড়ি চায় এলাকার মানুষ। এলাকার মানুষের সঙ্গে দাবিতে একাত্ম প্রকাশ করেছেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। গতকাল তার নেতৃত্বে এলাকার মানুষ সিলেটের পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে দেখা করে টিলাগড়ে পুলিশ ফাঁড়ির দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০, ২১, ২৪ নং ওয়ার্ড ও টুলটিকর ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে এমসি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান। সিলেটের পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদানে সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী ছাড়াও এলাকার বাসিন্দা অধ্যাপক সৈয়দ মকসুদ আলী, এ আর চৌধুরী সেলিম, ছমর উদ্দিন মানিক, সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, সোহেল আহমদ রিপন, এস এম আলী হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন দ্রুত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর ২০, ২১, ২৪ নং ওয়ার্ড ও টুলটিকর ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। সিলেটের জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ আজাদুর রহমান আজাদ জানিয়েছেন- টিলাগড় এমন একটি জায়গা যেখানে বহিরাগতদের বসবাস বেশি। এর কারণ- টিলাগড়ের পাশেই এমসি, সরকারি, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিপুল সংখ্যক বহিরাগতের বাস টিলাগড়ে হওয়ার অনেকক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে না। আর সব অপকর্মের দায় এসে পড়ে স্থানীয়দের ওপর। এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের গণধর্ষণের ঘটনার পর টিলাগড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা সোচ্চার হয়েছেন। ইতিমধ্যে টিলাগড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এলাকার মানুষসহ আমরা একাধিক বৈঠক করেছি। এসব বৈঠক থেকে কিছু কিছু প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। এসব প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে টিলাগড়ে একটি পুলিশ ফাঁড়ির প্রয়োজন রয়েছে বলে সবাই মনে করছে। দ্রুত একটি পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরুর দাবির সবার। পাশাপাশি গোটা টিলাগড় এলাকাকে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধ কমাতে হলে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে ঘটনাকারীদের সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ ও রণজিৎ সরকার। তাদের দুইজনের পৃথক দু’টি গ্রুপ রয়েছে। এর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। তারা মাঝে মধ্যে শফিকুর রহমান চৌধুরীর ছায়াতলে থাকতে চেয়েছিলো। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত না হতে শফিকুর রহমান চৌধুরী তাদের কখনো প্রশ্রয় দেননি। গত ২৫শে সেপ্টেম্বর এমসি ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে দলবেঁধে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুলিশ ছাত্রলীগের রণজিৎ গ্রুপের ৮ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর জানা গেছে, ছাত্রলীগের ওই গ্রুপের কর্মীরা জোরপূর্বক ছাত্রাবাস দখলে নিয়ে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলো। করোনাকালে ছাত্রাবাস বন্ধ থাকার কথা থাকলেও কলেজ অধ্যক্ষের বিশেষ নির্দেশে ছাত্রাবাস খোলা রাখা হয়েছিলো। এদিকে গ্রেপ্তারের পর ছাত্রলীগ কর্মীরা আলোচিত এ ধর্ষণের ঘটনায় নিজেদের দায় স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছে। এখন মামলার তদন্ত কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আলোচিত এ ঘটনার চার্জশিট প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x