• শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০

সিলেট বাসীর প্রিয় একটি নাম বদর উদ্দিন কামরান

Posted on by

আলিম উদ্দিন আহমেদঃ

১৫জুন সোমবার দিবাগত রাত লন্ডন সময় প্রায় এগারোটার দিকে শুনতে পেলাম সিলেটের  প্রথম নির্বাচিত সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সাহেব ইন্তেকাল করেছেন । (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন )শোক সংবাদ টা মেনে নিতে রিতিমত একটু হিমশিম খেতে হয় । কারন এর দু তিন আগে কিছু সংখ্যক বিতর্কিত অতি উৎসাহীরা আওয়ামীলীগ এর মূখপাত্র বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ জননেতা নাসিম সাহেব সম্পর্কে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে সাধারণ মানুষ কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন ।তাই অনেক টা বাকরুদ্ধ  ইতস্ততঃ মন নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট  ল কলেজর সাবেক নির্বাচিত  জি এস সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নন্দিত ছাত্রনেতা শ্রদ্ধেয় আনিসুজ্জামান আজাদ কে ফোন করে নিশ্চিত হলাম যে সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা জনাব বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পরপারে চলে গেছেন । মৃত্যু সংবাদে মূহুর্তের মধ্যেই পুরো যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সিলেটি বাঙ্গালী কমিউনিটি যেন শোকে মুহ্যমান ।তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির অবিভাবক জনাব কামরান প্রায় অর্ধশত বছর ধরে রাজনীতি করে বিভিন্ন ভাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে অত্যন্ত সততার সাথে রাজনীতি করে নগর বাসীর দায়িত্ব পালন করে গেছেন ।  দল মতের উর্দ্বে উঠে  সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক সফল জননেতার নাম বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ।তিনি ছিলেন অবহেলিত জনগোষ্ঠীর নিরন্তর প্রেরণার এক উৎস ।তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি তিনবার কাউন্সিলার ,একবার পৌর  চেয়ারম্যান, দুই বার সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়ে আবাল বৃদ্ধ-বনিতা প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের মনি কোঠায় স্হান করে নিয়েছেন । চায়ের দোকানদার থেকে শুরু করে রিক্সাওয়ালা ঠেলাওয়ালা খামার কুমার শ্রমিক সব শ্রেণীর জন্য তাঁর দুয়ার ছিল উন্মুক্ত ।অসহায় হত দরিদ্রদের হাসি-কান্নার আজীবন সহযাত্রী ছিলেন কামরান ।সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন মান উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা অনশ্বীকার্য ।

১৯৭০সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি কামরানের ।ধীরে ধীরে আওয়ামী পরিবারের একজন আস্হাশীল ও ঝানু রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে আবির্ভুত করতে সক্ষম হন তিনি ।১৯৭৩ সালে ছাত্রজীবনেই ( বাংলাদেশের সবচেয়ে সর্বকনিষ্ঠ )ওয়ার্ড কমিশনার পদে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হন কামরান ।উক্ত মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে কিছুদিন মধ্যপ্রাচ্যেঅবস্থান  করে আবার নাড়ির টানে দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন ।এর পর থেকে একের পর এক সফলতার মালা ঝুলতে থাকে কামরানের গলায় ।১৯৯৫সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান, ২০০৩সালের ২০মার্চ অনুষ্ঠিত সিসিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন কামরান ।সেনা সমর্থিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হন তিনি ।২০০৮সালের ৪ আগষ্ট সিসিকের দ্বিতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ।কামরান তখন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ।এই টার্মেও বিএনপি নেতা আ ফ ম কামালকে প্রায় ৮৩হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ।

মূলতঃ এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্যদিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ।

জনাব কামরান  নিঃশঙ্কচিত্তে ও পরম মমতায় বঙ্গবন্ধুর মহান আদর্শকে বুকে ধারন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন ।সকল ঘাত-প্রতিঘাত উপেক্ষা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বঙ্গবনধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রেখেছেন । তাঁর জীবদ্দশায়-অসংখ্য সামাজিক , সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ বিভিন্ন সময়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি । ২০০২ সাল থেকে টানা ১৭বছর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কামরান ।সর্বশেষ  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন ।মুজিবকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের একজন ত্যাগী ,বিশ্বস্ত ও দূর্দিনের পরিক্ষিত সহযাত্রী ছিলেন কামরান ।

কামরান সাহেবের মধুমাখা সদাহাসিমিশ্রিত বুলি আর অমায়িক ব্যবহার দ্বারা অতিসহজেই অচেনাজনও আপন হয়ে যেত । তিনি নিঃসন্দেহে ছিলেন এক অসাধারণ গুণের অধিকারী ।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এর অকাল মৃত্যুতে সিলেটবাসী হারালো তাদের একজন প্রিয় নেতাকে দল হারালো তাদের বলিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত একজন সংগঠককে । একে একে সিলেট আওয়ামী পরিবার মুরব্বী শূণ্যতার দিকে ধাবিত হলো ।স্বগৌরবে বলতে চাই সর্বজন শ্রদ্ধেয় সিলেট বাসীর হৃদয়ের স্পন্দন জননেতা  বদর উদ্দিন আহমদ কামরান তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের জন্য যে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও উদার ভালোবাসার পরিচয় দিয়ে গেছেন আমার মতো অসংখ্য অগণিত ভক্ত অনুরাগীর দৃড় বিশ্বাস সিলেটের রাজনীতির অঙ্গনের ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবেন তিনি । তাঁর বিদেহী আত্বার মাগফেরাত কামনা করি । পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা । সৃষ্টিকর্তা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন ।

আমিন ছুম্মা আমিন 

লেখকঃ সাবেক ছাত্রনেতা আলিম উদ্দিন আহমেদ

                                                  তারিখঃ১৮-০৬-২০ইং

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x