• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯

পিস ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে “প্রত্যাশার বাংলাদেশে ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আমাদের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে লেখা আছে, ‘চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল’ ‘সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।’ এই অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার দেওয়ার কথাও বলা  আছে। অথচ  বাংলাদেশের বর্তমান ফেসিস্ট আওয়ামী সরকার সংবিধানের এসব ধারা উপেক্ষা করে দেশকে অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যা  দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌম ,মানবধিকার ও ন্যায়বিচার পরিপন্থী । এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ একটাই। দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা ,গণতন্ত্র চর্চা ও  আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।  

গত কাল সোমবার  (৪ নভেম্বর ) লন্ডনে অবস্থিত ব্রিটেনের সনামধন্য বিদ্যাপীঠ কুইন্স ম্যারি বিশবিদ্যালয় মিলনায়তনে লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা  পিস ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে “প্রত্যাশার বাংলাদেশে ” শীর্ষক  এক সেমিনারে এ সব কথা বলেন বক্তারা। 
পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ডলার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্যানেল বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন নিউহ্যাম কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ ,সাংবাদিক সামসুল আলম লিটন ,সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান ,ওয়েস্ট মিনিস্টার বিশবিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ 

সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক আমিমুল আহসান তামিমের পরিচালনায় সেমিনারে বক্তারা বলেন যে কোনও গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারভিত্তিক সভ্য সমাজের জন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবেৱ কারণে  প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে ।তারা বলেন ,মহিলা ও শিশুদের জন্য ক্রমেই যেন অনিরাপদ হয়ে উঠছে বাংলাদেশের মাটি। ভয়াবহ রূপ নিয়েছে  নিপীড়ন, ধর্ষণ ও হত্যা। ধর্ষকের বিকৃত যৌন লালসা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না ৮ মাসের শিশু পর্যন্ত। শিক্ষাঙ্গনেও ধর্ষিত হচ্ছে  শিক্ষার্থী। ধর্ষণের পর নির্মমভাবে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে অনেক নিষ্পাপ প্রাণ। পৃথিবীকে ঠিকভাবে দেখার আগেই হত্যার শিকার হচ্ছে নবজাতক। রাজনৈতিক  সহিংসতা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর  হাতে গুম, খুন সোহ নানা উপায়ে   বলি হচ্ছে দেশের শিশু ও মহিলারা ।  ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপত্তা নেই তাদের  ।

বক্তারা বলেন ,বিগত কয়েক বছরে মানবাধিকার সংক্রান্ত এসব  ইস্যুতে শত শত  সুপারিশ পাঠিয়েছে বিশ্বের ১০৫টি দেশ। বর্তমান সরকার এগোলো ভ্রূক্ষেপও করে না। এদিকে যেহেতু বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নয় তাই বাংলাদেশের ব্যাপারে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর তেমন কোনো  আগ্রহ লক্ষ করা যায় না ।বক্তারা আরো বলেন , বাংলাদেশে দ্রুত ধনী হওয়া মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে  ভাবে বাড়ছে, অন্যদিকে বিশ্বের অধিক দরিদ্র মানুষ যে পাঁচটি দেশে বসবাস করছে, সেই তালিকায়ও আছে বাংলাদেশ ।  অতএব, উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে যেমন বৈষম্য দূর করতে হবে, তেমনি নাগরিক স্বাধীনতা,গণমাধমের স্বাধীনতা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের বিষয়টিও নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।


বাংলাদেশের  শুধুই সংবাদমাধ্যম নয়  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও  ক্রমশ  ভীষণ একটা ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে ? একদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন  অন্যদিকে বিজ্ঞাপন হারানোর ভয়৷ ভয়ের মাঝেই হারিয়ে যাচ্ছে বাকস্বাধীনতা৷ জীবন ও জীবিকা উভয় রক্ষায় সেলফ সেন্সর করতে বাধ্য হচ্ছে এই পেশায় নিয়োজিতরা। এভাবে একটা স্বাধীন দেশ চলতে পারে না। 

সেমিনারে নাগরিক অধিকারের অন্তরায় হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড,  ঘুম খুন , ব্যাঙ্ক লুট ,শেয়ার বাজার ধ্বংস ,ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি , সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টর্চার সেল সংস্কৃতি , ধর্ষণের আসামি,দাগি খুনি কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমা করার প্রবণতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার কথাও আলোচনায় এসেছে। 
সেমিনা আরো বক্তব্য রাখেন , জাইন খান ,তরিকুল ইসলাম ,মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।  

Leave a Reply

More News from uk

More News

Developed by: TechLoge

x