• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯

ম্যাগী সাদেক : অনন্য এক মিশরীয় নারী

মিশরের তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ’র স্ত্রী ম্যাগী সাদেক (২৫) অনেকটা নিভৃতচারী এক নারী। যখন অন্যান্য খ্যাতনামা ফুটবলারদের স্ত্রী ও সঙ্গিনীরা প্রায়ই মিডিয়ার শিরোনাম হচ্ছেন, তখন ম্যাগি সাদেক পর্দার আড়ালে থাকতেই পছন্দ করছেন। 
লিভারপুল ও মিশরের ফুটবল তারাকা মোহাম্মদ সালাহ তার পারিবারিক জীবনকে মিডিয়ার চাকচিক্যময় জগত থেকে অনেকটাই দূরে রেখেছেন। কিন্তু তা সত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তার স্ত্রী ও কন্যাকে মিডিয়ার কাছে ধরা পড়ে যেতে দেখা গেছে। সালাহ যখন ‘আফ্রিকান প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে পুরস্কৃত হন তখন তার স্ত্রী ম্যাগি সাদেককেও দেখা গেছে অনুষ্ঠানে। কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়া ম্যাগি তার কন্যা মক্কাসহ সেই অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন যেখানে স্বামী সালাহ ‘প্রিমিয়ার লীগ গোল্ডেন বুট’ পুরস্কার গ্রহণ করেন। ২০১৯ সালে লিভারপুর ইউইএফএ চ্যাম্পিয়ন লীগে বিজয়ী হওয়ার পরেও ম্যাগিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

ম্যাগি সাদেকের যমজ বোন মোহাব ছাড়াও তার আরো ২ বোন রয়েছেন। তারা হচ্ছেন মাহী ও মিরাম। তাদের পিতা মাতা উভয়ই মোহাম্মদ ইয়াদ আল-তানতায়ী স্কুলের শিক্ষক, যেখানে ম্যাগি মিশরের ভবিষ্যত আন্তর্জাতিক তারকার সাক্ষাৎ লাভ করেন। ম্যাগি সাদেক অন্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করেন। বিয়ের বছর দশেক আগেই তিনি সালাহের সাথে ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়েন। তাদের ভালোবাসার কাহিনী তাদের বসবাসের শহরে ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়। ২০১৩ সালে ম্যাগি ও সালাহ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সে সময় সুইস ফুটবল ক্লাব বেসেলের (বাসিল) হয়ে খেলার জন্য ইউরোপের পথে প্রথম পদক্ষেপ রাখেন সালাহ। যখন প্রথম ছুটিতে দেশে ফিরেন তখনই উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ম্যাগি তার স্বামীকে তার গ্রামীণ শেকড়ের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন। অন্যান্য তারকা ফুটবলারের স্ত্রীদের মতো ম্যাগি সাদেকের কোন ফেইসবুক একাউন্ট নেই। তিনি নিজের চেহারার চাকচিক্যের ব্যাপারেও আগ্রহী নন, এমনকি তিনি মেকাপও নেন না। তিনি দেহ আবৃতকারী রক্ষণশীল ঢিলেঢালা পোশাকই পছন্দ করেন। ম্যাগি সাদেক ও তার যমজ বোন উভয়েই মিশরের বিখ্যাত আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে ডিগ্রী অর্জন করেন। ম্যাগি মিশরে তার স্বামীর দাতব্য কর্মসূচীর দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রতিবেশীরা জানান, ম্যাগি সদ্য বিবাহিতদের জন্য গৃহস্থালী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ে সাহায্য করে থাকেন। তিনি দাতব্য কার্য তত্তাবধান করেন। স্বামী লিভারপুলে যোগ দেয়ার পর ম্যাগি অধিক ব্যস্ত হয় পড়া সত্বেও তিনি গ্রামে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান উৎসবে নিয়মিত যোগদান করে থাকেন। 
সালাহ এক সময় তার স্ত্রী সম্পর্কে বলেছিলেন : ‘আমার কাজের প্রকৃতির দরুণ আমি তাকে খুব কম সময় দিয়ে থাকি, এটা ঠিক নয়। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাকে সহায়তা দান ও আমার জীবনের অংশ হয়ে থাকার জন্য।

অনুবাদ : নিজাম উদ্দীন সালেহ
সূত্র : আরব নিউজ

Leave a Reply

More News from এক্সক্লুসিভ

More News

Developed by: TechLoge

x