• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯

মহানগর দর্পন সম্পাদক ফজলুল করিম আজাদ স্মরণে ভিবিন্ন সংগঠনের শোক সভা ও দোয়া মাহফিল

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের বর্তমান কার্যকরী পরিষদের সদস্য,
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, বর্ষীয়ান রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও সিলেটের ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ,সিলেট থেকে প্রকাশিত মহানগর দর্পন সম্পাদক মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ স্মরণে সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেছেন, অগ্রসর-শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে মাওলানা আজাদ একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন সদালাপী ও আমলদার মানুষ ছিলেন।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে আজ বুধবার সন্ধ্যায় সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মরহুমের শিক্ষক, সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি শিক্ষাবিদ লে. কর্নেল সৈয়দ আলী আহমদ (অব.)। সংসদের সহ-সভাপতি সেলিম আউয়ালের সঞ্চালনায় সভায় আলোচনায় অংশ নেন সংসদের কমিটির প্রবীণ কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি মুহম্মদ বশিরুদ্দিন, শাবিপ্রবি’র ডেপুটি রেজিস্ট্রার আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, এডভোকেট আবদুস সাদেক লিপন, অধ্যক্ষ ছয়ফুল করিম চৌধুরী হায়াত, অধ্যাপক শওকত আলী, কলামিস্ট ইনাম চৌধুরী, উপাধ্যক্ষ আবদুস শাকুর, ড. মো. হাশমত উল্লাহ, পিএইচডি গবেষক নূরুর রহমান, সাহিত্য সমালোচক বাছিত ইবনে হাবীব, অধ্যক্ষ গোলাম রাব্বানী, রফিকুল ইসলাম মজুমদার, অধ্যাপক আবদুর রহিম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, কলামিস্ট রফিকুল ইসলাম। সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাহিত্য সাময়িকী ভিন্নধারা সম্পাদক জাহেদুর রহমান চৌধুরী, পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মরহুমের পুত্র হাফিজ তাহমিদ হাসান, সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ শফিউল ইসলাম চৌধুরী, দোয়া পরিচালনা করেন লেখক মাওলানা শামসীর হারুনুর রশীদ ও ইসলামি সংগীত পরিবেশন করেন গণশিল্পী মিসবাহ উদ্দিন।
দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী বলেন, মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ সাহিত্য সংসদের অগ্রগতির জন্যে অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মূল ভিত্তি কৃষিভিত্তিক কর্মকান্ডে আত্মনিয়োগ করে ফজলুল করিম আজাদ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্যে তার আন্তরিক প্রয়াস চালিয়েছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে কর্নেল সৈয়দ আলী আহমদ বলেন, ফজলুল করিম আজাদের একজন সরাসরি শিক্ষক হিসেবে তার মৃত্যুতে আমি সন্তান হারানোর বেদনা অনুভব করছি। আজাদ আজীবন জ্ঞানের আলো প্রজ্জ্বলিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন।

এদিকে হবিগঞ্জ সমিতি সিলেট মওলানা ফজলুল করিম আজাদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করেন। হবিগঞ্জ সমিতি সিলেট আয়োজিত ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধায় দরগা গেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এর সম্মেলন কক্ষে হবিগঞ্জ সমিতির আজীবন সদস্য মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ এর স্বরণে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম এর সভাপতিত্বে ও সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সহকারি অধ্যাপক মাহমুদুল আলম মারুফ এর পরিচালনায় স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, মানুষ নিজ কর্মগুনে আজীবন বেঁচে থাকেন মানুষের অন্তরে। হবিগঞ্জ সমিতি সিলেটের আজীবন সদস্য মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, শিক্ষানুরাগী ও লেখক। তিনি সমিতির মানউন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। বক্তারা সমিতির নেতৃবৃন্দদের উদ্দেশ্যে বলেন, মহাগুণে গুণান্বিত ফজলুল করিমের আদর্শকে ধরে রাখার আহবান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সমিতির উপদেস্টা শওকত আলী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. েেমা. সাহাব ্উদ্দিন, ডা. বীরেন্দ্র চনদ্র দেব, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এস এম হাবিবউল্লাহ সেলিম, এডভোকেট আনসার খান, মো.আবু তাহের চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক প্রফেসর শওাকত আলী রিপন, সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও হবিগঞ্জ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মো.আবুল ফজল, আইন বিষয়ক সম্পাদক মুফতি এডভোকেট আব্দুর রহমান চৌধুরী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. ফারুক উদ্দিন আহমদ,সাবেক সভাপতি আবু মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, ইঞ্জিনিয়ার নজরুল হোসেন, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এডভোকেট জোহরা জেসমিন, তাহমিদ হাসান, শামীমা নাসরিন পপি, মাসুদ আহমেদ প্রমুখ।
শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন হাফিজ মাওলানা শফিউল ইসলাম চৌধুরী এবং মরহুমের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন সমিতির সহ-সভাপতি গাজী আব্দুল মাবুদ মমসাদ।

মাওলানা ফজলুল করিম আজাদের ইন্তেকালের সংবাদে লন্ডনে তাৎক্ষণিক আলোচনা সভা এবং দুয়াঃ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পূর্ব লন্ডনের আল হুদা সেন্টারে ২৩ অগাস্ট বাদ মাগরিব অনুষ্টিত সভায় আলোচনা রাখেন লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রাচীন সংবাদপত্র সুরমার সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক কলামিস্ট ফরিদ আহমেদ রেজা,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় জয়েনসেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল কাদের সালেহ ,টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমেদ ,বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সিলেট মহানগরীর সাবেক সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম শাহীন, বিশিষ্ট আইন জীবি বিশ্বনাত এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে সাবেক সভাপতি মির্জা আসাব বেগ , কমিউনিটি নেতা সৈয়দ সালেহ ,লিবডেম নেতা পীর কুতুব ,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এফ কে এম শাজাহান।
আলোচনায় বক্তারা জনাব ফজলুল করিম আজাদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা করেন।তারা বলেন জনাব আজাদ ছিলেন

সমাজের সকল দল এবং মতের মানুষের সাথে ছিল তাঁর ভাল সম্পর্ক। তার চাল চলন, কথা বার্তা, বক্তৃতা, দৈহিক গঠন ও পোষাক পরিচ্ছদ সব কিছুই ছিল আকর্ষণীয়।তিনি সিলেটে ছাত্র ইসলামী আন্দোলন ও বৃহত্তর আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে ঈর্ষণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। আশির দশকে রাজনৈতিক ভূমিকা পালনে তার কোন জুড়ি ছিল না। এক সময়ের তুখোড় ছাত্র নেতা মিছিল , সংগ্রাম এবং শ্লোগানের রাজপুত্র — যিনি জীবনের চেয়েও ভালবেসেছিলেন ইসলামী সমাজ বিপ্লবের আন্দোলনকে , আশির দশকে সিলেটের সংগঠন,আন্দোলন আর সংগ্রামের অগ্র সৈনিক ছিলেন মাওলানা ফজলুল করীম আজাদ।
পরে মরহুমের জন্য মাগফেরাত কামনা করে দুআ পরিচালনা করেন আয়োজক আব্দুল কাদের সালেহ।


লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের শোক

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের শোক :সদস্য ইউকেবিডি টাইমস এর নির্বাহী সম্পাদক আমিমুল আহসান তানিমের পিতা লেখক ও সাহিত্যিক মাওলানা ফজলুল করিম আজাদের ইন্তেকালে  লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের পক্ষে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের ।

এক শোক বার্তায় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্ধ বলেন, মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদ সহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন ছিলেন।

শোক বার্তায় নেতৃবৃন্ধ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান ।

উল্ল্যেখ, মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও জামাতা আজিজুল হক কয়সর সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মাওলানা আজাদের স্ত্রী রাজিয়া নিলুফার আজাদ বিশিষ্ট লেখিকা এবং তাঁর বড় ছেলে আমিমুল আহসান তানিম লন্ডনের বাংলা গণমাধ্যমের একজন প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিক ও টিভি প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার শেখের মহল্লা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় সংগঠক মরহুম মাওলানা ইসমাইল  ছিলেন একজন বিপ্লবী আলিম ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময় মাওলানা ফজলুল করিম আজাদের পিতা  পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অবরুদের ডাক দেন এবং একই দিনে তিনি গ্রেফতার হন এবং প্রায় ৮ মাস করা বরণ করেন।

মাওলানা আজাদ ১৯৭২ সালে ৬টি লেটারসহ প্রথম বিভাগে দাখিল পাশ করেন। শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা থেকে এমএম ও মদনমোহন কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। তিনি ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে আইয়ূব বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে চুনারুঘাট থেকে গ্রেফতার হন। ১৯৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বানিয়াচং থানা সভাপতি ও হবিগঞ্জ জেলা পর্যায়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৭-এ তিনি ছাত্র শিবিরে ও ১৯৮০ সালে জামায়াতে যোগ দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব প্রদান করেন তিনি বাংলাদেশ জামায়াতের সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং মজলিসে সূরার অন্যতম সদস্য ছিলেন। মাওলানা আজাদ ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ -২ (বানিয়াচং ,আজমিরীগঞ্জ ) থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিতদ্বন্দিতা করেন। ১৯৮৩-তে শাহজালাল জামেয়ায় শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের সূচনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে জামেয়া থেকে অব্যাহতি নিয়ে ব্যবসার পাশাপাশি কৃষি খামার গড়ে তুলেন। এক পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন ধরনের গবেষনামুলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

Leave a Reply

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x