• মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০১৯

আনন্দ আয়োজনে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বৈশাখী আড্ডা অনুষ্ঠিত

Posted on by

ইউকেবিডি টাইমস ডেস্কঃ 

উৎসব মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের প্রকাশ। উৎসব কখনো একা একা হয় না, করা যায় না। সেটা একটা সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ঘটে। আর তা মানুষের সম্মিলনের একটা উপলক্ষও বটে। যে মানুষরা উৎসব করে তারা একই ধরনের বিষয়ে আনন্দিত হয়, সাধারণ কিছু আচরণ, প্রথা তৈরি করে। তার মাধ্যমে একটা সাধারণ অভিজ্ঞতার ভাগাভাগি ঘটে। আর সম্প্রদায় বা জাতি গঠনের ক্ষেত্রে এই সাধারণ অভিজ্ঞতার ভূমিকা বিপুল। দুনিয়ার বহু দেশেই একটা সাধারণ উৎসব হলো নববর্ষ। যা পুরনো বছরের হিসাব মেলানো আর নতুন বছরটা যাতে ভালো কাটে তার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত। বাংলা নববর্ষ তেমনি একটি উৎসব।

সেই নববর্ষ উৎসবেই বৈশাখী রঙে রেঙেছে বাংলার প্রকৃতি, রেঙেছে সারা দেশ ও জাতি। বৈশাখী রঙ রূপের এই ছটা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এই প্রবাসেও। যেখানেই বাঙালি, সেখানেই রঙের ফোয়ারা। এই রঙিন ফোয়ারার ঝরনাজলে অবগাহন করতে কে না চায়? বাস্তবতার নির্মম কশাঘাতও দেশের নববর্ষের সেই রঙের রেণু গায়ে মাখা থেকে বঞ্চিত করতে পারেনি প্রবাসীদেরও। 

নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই ব্রিটেনে লাগাতার ভাবে চলছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। রবিবার, ২৮ এপ্রিল লাগাতার এই অনুষ্ঠানের অংশ হলো ব্রিটেনে বাঙালী সংবাদকর্মীদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবও। এ উপলক্ষে সাংবাদিকদের গান, কবিতা, পুথিপাঠ এবং ইলিশ ভাজা ও ভুনা খিচুরীর ভূরিভোজ  আড্ডায় রবিবার পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি সেন্টারের পুরো সন্ধ্যাটি ছিলো সরগরম। 

প্রেস ক্লাব নির্বাহী কমিটি সদস্যদের সমবেত কন্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ..’ গানের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে শুরু হওয়া আড্ডা অনুষ্ঠানের প্রথমেই সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী। এরপর একে একে গান, কবিতা ও পুথিপাঠে মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন প্রেস ক্লাব সদস্যরা। পুরো বৈশাখী আড্ডাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন প্রেস ক্লাব নির্বাহী কমিটির সদস্য রুপি আমিন ও নাজমুল হোসেইন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রথম আলোর কলামিষ্ট ও বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক কামাল আহমেদ, কবি শামীম আজাদ, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ফাউন্ডার সেক্রেটারী নজরুল ইসলাম বাসন,সত্যবাণীর প্রধান সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের।অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্ধের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী,কমিনিকেশনস সেক্রেটারী এম এ কাইয়ূম,আইটি সেক্রেটারী সালেহ আহমদ,নির্বাহী সদস্য কাইয়ূম আব্দুল্লাহ ,শাহনাজ সুলতানা ,পলি রহমান।

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ  ব্রিটিশ মূলধারায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করে কামাল আহমেদ বলেন, পান্জাবী কমিউনিটির উদ্যোগে লন্ডন মেয়রের চেষ্টায় ট্রাফলগার স্কোয়ারে যদি বৈশাখী উৎসব হতে পারে, তাহলে আমাদের উদ্যোগে কেন নয়? এবিষয়ে বাংলা প্রেস ক্লাবকে উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানান তিনি।

আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার ভিত্তি ভুমি এথেন্সের আবাসিক কবি নির্বাচিত হওয়ায় অনুষ্ঠানে  প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে কবি শামীম আজাদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিনিময়ে তাকে শুভেচ্ছা জানানোয় লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শামীম আজাদ।

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুপরিচিত কন্ঠ শিল্পী নাহিদ নাজিয়া, ফজলুর বারী বাবু, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ও সাপ্তাহিক সুরমার সাবেক সম্পাদক আহমেদ ময়েজ। কবিতা আবৃত্তি করেন সিনিয়র সাংবাদিক মিছবাহ জামাল, টেলিভিশন উপস্থাপক উর্মী মাজহার, শহিদুল ইসলাম সাগর, তৌহিদ শাকিল ও স্মৃতি আজাদ,লুৎফুন নাহার বেবী,জিয়াউর রহমান সাকলায়েন,মোস্তফা জামান নিপন, হিমিকা আজাদ প্রমূখ। নববর্ষ বিষয়ক পুথি পাঠ করে মঞ্চ মাতান প্রেস ক্লাব সদস্য আলাওর খান শাহীন। অনুষ্ঠানে ক্লাব সদস্য সাংবাদিক রহমত আলীর একটি কবিতা গান বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রেস ক্লাব নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।

এক সময় সন্ধ্যা থেকে রাত গভীর হয়। অনিচ্ছা সত্বেও ভাঙতে হয় আড্ডা। পুরো নতুন বছরটিই যেন সুন্দরে অবগাহন করে করেই অতিবাহিত হয়, বৈশাখী রঙ্গের হাওয়ায় ভেসে ভেসেই যেন আরেকটি বছরের সীমানা দ্বারে পৌছা যায়, এমন প্রার্থনা করে করেই বাড়ীর পথ ধরেন ‘আড্ডাবাজ’ সবাই।

Leave a Reply

More News from কমিউনিটি

More News

Developed by: TechLoge

x