• শনিবার, আগস্ট ১৭, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর চারটি চ্যালেঞ্জ : আমার কিছু ভাবনা

Posted on by

দেওয়ান ফয়সল:

গত সংখ্যায় লিখেছিলাম মাদক নির্মূল প্রসঙ্গে। এখন লিখছি সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ এবং দুর্নীতি দমন নিয়ে। এগুলো লিখতে গেলে দেখা যাবে একটির সাথে আরেকটি ওতপ্রোত ভাবে জাড়িত। বর্তমানে বাংলাদেশে সন্ত্রাস প্রকোপ আকার ধারণ করেছে। খুন, হত্যা, রাহাজানি, ধর্ষণ ইত্যাদি এখননিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলো নিয়ে পর্য্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমাদের নৈতিক চরিত্র এমন ভাবে ধ্বংস হয়েছে যা কল্পনারও অতীত। আমরা নিজেদের স্বার্থ আদায়ে যে কোন ধরণের কাজ করতে দ্বিধাবোধ করিনা। ছেলে পিতা-মাতাকে, ভাই ভাইকে হত্যা করার মতো ঘটনাও এখন পত্রিকা বা অনলাইন পত্রিকাগুলো খুুললেই চোখে পড়ে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করবে কে? আমরা যদি আমাদের চরিত্র ঠিক না করতে পারি, তাহলে সরকার আইন করে কতো আর এগুলো নিয়ন্ত্রনে আনতে পারে? এই সন্ত্রাসের পেছনেও রয়েছে বিভিন্ন ধরণের
ড্রাগ সেবন এর প্রতিক্রিয়া যা আমি গত সংখ্যায় লিখেছি। বিভিন্ন ধরণের ড্রাগ বাজারে প্রচুর সয়লাব হওয়ার
ফলেই এসব ঘটনা ঘটছে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। প্রায়ই দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ করে
চাঁদাবাজিদের আক্রমন, তাদের ডিমান্ড অনুযায়ী চাঁদা দিতে হবে না দিলে রাতের আাঁধারে গলা কেটে হত্যার হুমকি।রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে চোখ বোলালে দেখা যায়, এক দল অন্য দলের সাথে কোন কারণে কথা কাটাকাটি বা মারামারি হলে পরে দেখা যায়, তাদের আক্রমনে হয়তো দলের কাহারও লাশ পড়ে আছে অথবা না মরলেও মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। খুঁজলে দেখা যায় এসব কাজ যারা করছে, তাদের পেছনে রয়েছে তাদের দলেরই উচ্চ পর্য্যায়ের কোন কোন নেতার হাত। পুলিশ এসব সন্ত্রাসীদের ধরলেও উপর থেকে ফোন আসলে থানার পুলিশও তাদেরকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়! লেখাপড়ায় পুলিশের ক্ষমতা
থাকলেও এখানে তারা অপারগ। উপরে আমি যা লিখলাম এগুলো সবই সন্ত্রাসের আওতায় পড়ে। সুতরাং দেখা যায় এসব সন্ত্রাসীদেরও উপরের লেভেল থেকে গাইড করা হয়। অতএব তারা যে কোন সন্ত্রাসীমূলক কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেনা।এবার আসা যাক জঙ্গীবাদের কথায়। জঙ্গীবাদ এখন সারা দুনিয়াব্যাপী এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশই জঙ্গীবাদের বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত। কখন যে কোন দেশ
আক্রান্ত হয়, কেউ বলতে পারেনা আর এই কারণেই বিশ্বের প্রতিটি দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদা জাগ্রত।এই জঙ্গীবাদের আক্রমন থেকে বৃটেন, ফ্রান্স , জার্মানীও রক্ষা পায়নি। বাংলাদেশও এর থেকে পিছিয়ে নেই। আর এসব ঘটনার সাথে একটি ইসলামিক জঙ্গী সংগঠন যে জড়িত তার প্রমান পাওয়া গেছে। কিছু দিন আগে বৃটেন থেকে পালিয়ে যাওয়া এক মহিলার খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। শামীমা বেগম নামের এক মহিলা ১৫ বছর বয়সে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আই এস -এ যোগদান
করে। ২০১৫ সালে ইষ্ট লন্ডন ছেড়ে যান তিনি। গত ২০ ফেব্রয়ারীর এক খবরে জানা যায়, গত সপ্তাহে তাকে সিরিয়ার একটি শরণার্থি শিবিরে পাওয়া যায়। সপ্তাহের শেষের দিকে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জনাম দিয়েছেন। বিবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, তিনি কখনো আই এস এসের পোষ্টার গার্ল’ হতে চাননি এবং এখন তিনি শুরু তার সন্তানকে যুক্তরাজ্যেই বড় করতে চান। অবশ্য তিনি স্বীকার
করেছেন যে, ২০১৭ সালে ম্যানচেষ্টারের আরেনা হামলার ঘটনায় তিনি আঘাত পেয়েছেন। ঘটনায় ২২জন নিহত হয়েছিলো যার দ্বায় আই এস স্বীকার করেছিলো। তিনি আরও বলেন,আমি কষ্ট পেয়েছি, নিরীহ মানুষ খুন হয়েছে। এছাড়াও তিনি বিবিসিকে দেয়া স্ধাসঢ়;ক্ষাতকারে আরও অনেক লোমহর্ষক কাহিনীর বর্ণনা দিয়েছেন। এই আই এস বাহিনী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন একটি প্রোপাগান্ডা বা গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিলো যে, যারা আই এসে যুদ্ধ করে মারা যাবে, তারা বেহেস্তে যাবে। এই বেহেস্তে যাওয়ার হিরিকে মুসলমান যুবক যুবতীরা আই এসের এ্ধসঢ়;ই ভ্রান্ত পথে পাড়ি জমায়। শেষ পর্য্যন্ত তারা বুঝতে পারে যে, তাদের খারাপ পথে ব্যাবহারের জন্যই এই গুজব তারা ছড়িয়েছিলো। এখন তারা মহা বিপদের সম্মুখীন। না সে দেশ, না স্বদেশ। এই জঙ্গী সংগঠনই সারা দুনিয়ার শান্তিকামী মানুষের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।গত বছর বাংলাদেশে জঙ্গীবাদীদের আক্রমন মারাত্মক আকার ধারণ করেছিলো. তবে সরকার এব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়্ধাসঢ়;য় সেটা সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে আবার দেখা যায়, সেই জঙ্গীবাদের উত্তান ঘটেছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গীবাদ এর নাশকতা মূলক কাজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।। বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটতে এখন শুরু হয়েছে। ্য়ঁড়ঃ;গত ২৮ ফেব্রুয়ারী যুগান্তর পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে রাজধানীর মিরপুরের ভাসানটেক জাহাঙ্গীর বস্তিতে ভয়াভহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রনে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট কাজ করছে। বুধবার রাত দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুন লাগার কারন জানা যায়নি। সিআরপি হাসপাতালের
পাশে ওই বস্তিতে প্রায় এক লাখের মতো বাসিন্দা বসবাস করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে একই দিন রাতে কেরানীগঞ্জের নরুন্দি এলাকায় বিদ্যুতের একটি সাব-স্টেশনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।”এছাড়াও গত ২০ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরনো ঢাকা চকবাজারের চূড়িহাট্টায় যে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে গেল তা সবারই জানা। ভয়াবহ সেই আগুনে পুড়ে মারা যায় অন্তত:
৬৭ জন। তদন্ত করলে দেখা যাবে এসব ঘটনার অধিকাংশের সাথে নাশকতা মূলক ঘটনার সাঙ্গে জড়িত।
এই ঘটনাগুলোর পেছনেও যে, কোন একটি বিশেষ কুচক্রিমহল জড়িত তাতে সন্দেহ নেই। এই চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, তারা চায় না বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে পেট ভরে ভাত খাক, শান্তিতে ঘুমোক, ভালো কাজ,কর্ম করে দিন যাপন করুুক। তারা চায়না বাংলাদেশ বিশ্বে
একটি শান্তিকামী দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করুক। তাদের ধারণা, যদি জানমালের ক্ষতি করা যায়, মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তাহলে মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করবে, তখন এই সরকার সরতে বাধ্য হবে। বাংলাদেশের বর্তমান এই গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসা- ই এই চক্রের লক্ষ্য। আর লক্ষ্যেই তারা জঙ্গীবাদ আর নাশকতা মূলক কাজে লিপ্ত হয়েছে। সুতরাং এই কুচক্রি মহলের সাথে কারা জড়িত, এদের খুঁজে বের করতে হবে। এদেরকে কঠোর আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে। ক্রসফায়ারে এদের মৃত্য যাতে না হয়, বরং কৌশল অবলম্বন করে এদের জীবিত ধরে এনে তাদের পেছনে কে বা কারা জড়িত খুঁজে তা বের করতে হবে।বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন তা তারা সহ্য করতে পারছেনা। বাংলাদেশ যে বিশ্বের দরবারে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে এতে তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। আর এজন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং আপ্রান চেষ্টা করছে কি ভাবে দেশে একটা বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে এই সরকারের পতন ঘটনো যায়।এবার আসা যাক দুর্নীতির কথায়। দুর্নীতি আমাদের দেশে ক্যান্সারের মতো একটি সংক্রামক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।সমাজের প্রায় প্রতিটি মানুষের মধ্য্ধেসঢ়;ই এই সংক্রামক
ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। একে নিবারণ করা কোন মতেই সম্ভব নয় বলে আমার ধারণা। কেননা, এটা আমাদের রক্তের মধ্যেই ঢুকে পড়েছে, অনেকটা ব্লাড ক্যান্সারের মতো। এটা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে থেরাপী দিলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আসতে পারে তবে সারানোটা সম্ভব নয়। এটা একমাত্র নির্ভর করবে, যারা দুর্নীতি করছে তারা যদি নিজ থেকে শুধরে নিতে পারে। তারা যাদি নিজের থেকে বুঝতে পারে যে, তারা যে কাজ
করছে সেটা মানবিক ভাবে অন্যায় করছে। টাকার লোভে তারা সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করছে। এই দুর্নীতির রোগ বাংলাদেশের উপর থেকে নীচ তলার কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। এমন কি, যাদের হাতে একজন মানুষের জীবন -মরন নির্ভর করে সেই ডাক্তাররা পর্য্যন্ত তাদের
আওতায় এসে গেছে। তাদের ডিমান্ড অনুযায়ী টাকা না দিতে পারলে, সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়।একজন গর্ভধারিনী মা টাকা না দিতে পারলে সন্তান প্রসব করাতে পারেনা হাসপাতাল গুলোতে। সামান্য ব্যামারের জন্য একগাদা প্রেক্স্রিপশন লিখে দেন ডাক্তার সাহেব! সেটা একজন রোগীর পক্ষে কেনা সম্ভব কি না তাও খুঁজে দেখেননা। অথচ এই ডাক্তারী পেশাটা হচ্ছে মানুষ সেবার উৎকৃষ্ট পেশা।টাকা রোজির জন্য সেটাতে তাদের পদাঘাত! হাসপাতালের প্রতিটি ডাক্তারেরই একটি নিজস্ব ক্লিনিক আছে।বিনামূল্যে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে, তাদের বলে দেয়া হয় ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য। এখন বাংলাদেশে ক্লিনিক ব্যবসা ব্যাঙেগর ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের এদের থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি? এটা কেউই বলতে পারবেনা। এটা একমাত্র নির্ভর করবে যদি ডাক্তাররা তাদের পেশার মূল্যায়ন তারা করতে পারেন, মানুষ সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করতে যদি তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, তা হলেই তা সম্ভব।সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চারটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে যে যুদ্ধ ঘোষণা দিয়েছেন, সেটা মানবতার দিক
বিবেচনা করেই দিয়েছেন। তাঁর এই ঘোষণাকে দেশবাসী স্বাগত জানাবে নি;সন্তেহে। এই ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর
কোমল মনে মানুষকে সেবা করার যে মনের বাসনা প্রকাশ পেয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁকে সাহায্য করবে কে?তিনি একা তো করতে পারবেন না। তা নির্ভর করবে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের, বিভিন্ন দফতরের উপর থেকে নীচ তলার কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উপর। এরা যখন দেখবে যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় তাদের স্বার্থের উপর আঘাত পড়ছে, তখন তারা তা কতটুকু সহ্য করতে পারবে, এটাই
প্রশ্ন। তারা এই আঘাত সহ্য না করতে পারলে, এটা যে প্রতিহিংসায় রূপ নেবে না তারই বা নিশ্চয়তা কোথায়?বর্তমানে যে ভাবে দেশের প্রতিটি সরকারী – বেসরকারী দফতরে এগুলো নির্মূলের অভিযান শুরু হয়েছে,তা শুভ লক্ষণ বলে আমার মনে হচ্ছেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ, এক সাথে সবক’টি দফতরে হাত না দিয়ে এক একটি করে ঠিক কর্ধাসঢ়;রচেষ্টা করা। এটাকে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবস্থায় আনা। তাড়াহুরো এসব কাজে হাত দিলে কোনটাই সফলতার মুখ দেখবেনা বলে আমার বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর এই যুদ্ধ ঘোষণার যদি শতকরা
৫০ ভাগও কার্য্যকরী করতে পারেন, তাহলে বলতে হবে তিনি কৃতকার্য্য হয়েছেন। দেশের মানুষও কিছুটা হলেও তার সুফল ভোগ করতে পারবে। এতে জনগণের সহযোগিতা তাঁর সরকার পাবে। সব শেষে এটাই বলবো, আল্লাহ পাক রাব্বুল আ-লামীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মনোবাসনা পূর্ণ করুন এবং তাঁকে
দীর্ঘজীবি করুন।( (গত সংখ্যার পর)

সাংবাদিক ও লেখক

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x