• মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০১৯

একটি বনভোজনঃকিছু কথা,কিছু স্মৃতি,কিছু ভালবাসা

Posted on by

মোস্তফা সালেহ লিটনঃ

খুব সকালেই ঘুম থেকে উঠে পড়েছি । ঘরওয়ালী তো অনেকটাই হতবাক ! সূর্য আজ পূর্বদিকে উঠেছে নাকি ? এত্ত সকাল ! হরহামেসা যার কত্ত জরুরী এপয়েন্টমেন্ট মিস হয় ,আর আজ সাত সকালে ? আধুনিক প্রযুক্তির মেমোরাইজেশনে যার কাজ হয় না সে নাকি আজ আবার খুব ভোরে উঠে একবারে মাইন্জা মেরে প্রস্তুত বনভোজন টু পোর্টসমাউথ । সকালবেলার হালকা একটা প্যান প্যানানী আজ মন্দ লাগেনি । কারন হর হামেশা এরকম শুনতে শুনতে স্বর্গীয় শক্তিতে শরীর মন দুটোই এখন পরিপূর্ন । সকালের আকাশ এত পরিস্কার রোদ্রজ্জল বেশ কয়েকমাস পর এমনটা দেখলাম । মনের সবগুলো জানালা যেনো আজ খুলে গেছে । সমুদ্রের জোঁছনা যেমন টানছে ঠিক তেমনি নীল আকাশের ভালোবাসা যেনো মনের ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে । ভাবছি আজ আমি মুক্ত বিহঙ্গের মতো সৈকত পাড়ে ঘুড়ে বেড়াবো। সমগ্র পাপ টাপ সব ধুঁয়ে মুছে সাগরের স্রোতে ভাসিয়ে দেবো । পরাধীনতার শেখলে আজ আর বন্দী হতে চাই না । কোন বাধাঁই আজ আমার সামনের গতিপথ আটকাতে পারবে না । জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি ঝুকি মারছি । অস্থির মাথা । এখনো যে কেউ আসছেনা । এমন জিন্দা লাস টেনে নিতে ছোট ভাইয়েরা আবার বেশ পারদর্শী । কিছুক্ষনপর  নতুন মডেলের মার্সডিজ নিয়ে হাজির ওরা ৩জন । জিল্লুল , তারেক ও তায়েফ । আজ আর পেছনে তাকাইনি । এক রোশেই গাড়িতে । যত সকাল মটরওয়েতে পড়ে কার রেসিংয়ে নামা যাবে ততটা আনন্দেই সমুদ্রে পৌঁছা যাবে । এমনটাই ভাব ছিলো কিন্তু বিধি বাম ! যাত্রাটা শুভ ছিলো কিন্তু গন্তব্যর কাছে এসেই জ্যামের কারনে সময়ের ভাগ্যে যেনো নিজেকে শঁপে দিতে হলো । কচ্ছপ গতিতে গাড়ী চলছে । এখনো ৩০মাইল বাকী কখন যে সৈকত পাড়ে যাব তার কোন গ্যারান্টি ছিলো না । যাক শেষ পর্যন্ত পৌঁছা গেলো তবে ১২টার ট্রেন ২টায়, সবার দেরীতে পৌঁছার কারনে আরো অনেক কিছু দেখা থেকে  বন্চিত হয়েছি । ছুটির দিন না থাকা এবং আবহাওয়া চমৎকার থাকায় সেদিন সৈকতের এই শহরে প্রচন্ড ভীড় ছিলো তাই অনেকেই পার্কিং পেতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে ।

তবে আমাদের জন্য কাউন্সিল থেকে বেশ কিছু পার্কিং টিকেটের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিলো । পার্কিং করতে গিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা  মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এম লুৎফুর রহমান ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক শরীফুজ্জামান তপনের সাথে । সাক্ষাতে দুজনকেই মনে হয়েছে আজ যেনো তারা বেশ উচ্ছসিত । বন্ধু তপন তো বলেই ফেলেছে যেভাবে প্রচার চালিয়েছো, না এসে আর পারলাম না  । দুজনের বেশ ভূষা দেখে তো আর বুঝতে বাকী ছিলো না যে তারা আজ একেবারে যুদ্বের জন্য প্রস্তুত । আমাদেরকে কার পার্ক থেকে স্বাগত জানিয়ে সৈকত পাড়ের খেলার মাঠে নিয়ে যান আয়োজনকারী সূর্য সেনার দেলোয়ার হোসেন আহাদ ও রিপন । মাঠে গিয়ে তো তাজ্জব এ যেনো ছোট বড় সবার মাঝে মহা আনন্দের ধূম লেগেছে । বিভিন্ন শহর আগত নেতা কর্মীদের কলকোলাহলে সৈকতপাড়ের মনে যেনো আজ রং লেগেছে । অনেককের সাথে অনেক দিন পর দেখা । এক অপরের সাথে চলছে শুভেচ্ছা বিনিময় । চলছে নানান বিষয়ের জমজমাট আলাপচারীতা । এর মাঝে রেফারীর বাঁশী বেজে উঠলো । লাল দলের অধিনায়ক আর নীল দলের দলের অধিনায়কের মাঝে ফুটবল খেলার টস হলো । লাল দলের অধিনায়ক লুৎফুর রহমান জয়ী হয়ে খেলার শুভ সূচনা করেন । ইস্ এ যেনো বিশ্ব কাপ খেলার চরম মহড়া । কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ । শেষ পর্যন্ত সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেফারী জেরীস ভাইয়ের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কোন পক্ষই জয় লাভ করতে না পারায় খেলা ড্রতে গড়ায় । তবে আবহমান বাংলার কাবাডি খেলা ছিলো তুমুল উত্তেজনা পূর্ন । রাসেল গ্রুপ আর রোয়াজ গ্রুপের মধ্যে যেভাবে ধস্তা ধস্তি শুরু হলো এ যেনো বাঘে শিংহের লড়াই । এটাতেও রেফারীর ভূমিকা বিতর্কিত থাকায় দু পক্ষই জয় লাভ করে । খেলা শেষে সৈকত পাড়ের এমিরেটস টাওয়ারের পাশে ইন্ডিয়া প্যালেস রেষ্টুরেন্টে সবার জন্য আয়োজন করা হয় সু স্বাধু খাবারের । নানান রকমের সু স্বাধূ খাবারের মেন্যু থাকায় ভুড়ি ভোজনটা বেশ ভালোই হয়েছে । ভোজন পর্ব শেষে অয়োজনকারীদের অন্যতম সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেনের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিলেতের সুনামধন্য শিল্পী মৌলভীবাজরের অতি পরিচিত মুখ শহিদ জিয়ার সূর্য সেনা শিবলুর দরাজ কন্ঠের গান , সেই সাথে বিলেতের আরেক জনপ্রিয় শিল্পী বাপিতার গানের ছন্দে সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিবেশ যেনো পাল্টে গেলো । তাছাড়া বাপিতার গানের সাথে এক ছোট ভাইয়ের ভারতীয় কথক ধাঁচের অপূর্ব মিশ্রনের ভয়াবহ নাচ অনুষ্ঠানে আনন্দের মাত্রাটা যেনো আরো দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছে । পোর্টসমাউথের সৌখীন শিল্পী শেকুলের  হঠা্ৎ করে বিখ্যাত লিল্পী বনে যাওয়া আমাকে বেশ আনন্দ দিয়েছে । আসলেই সৌখীন নয় অনেকটাই প্রফেশনাল শিল্পীর মত গান করেছে সে । ভালো কন্ঠ । চেষ্টা করলে সূর্য সেনার শিল্পীর খাতায় আরেকজন মৌলভীবাজারী সংগীত শিল্পীর নাম উঠে আসবে । অনুষ্ঠানে কার্ডিফ বি এনপির যুগ্ম সম্পাদক জিল্লুল চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য যুবদলের সাধারন সম্পাদক সোয়ালেহীন করিমের ভরাট কন্ঠের কবিতা দারুন হয়েছে । ক্ষনিকের জন্য মনে হয়েছিলো আমি যেনো বই মেলার  সেই কবিতা উৎসবে আছি । জেলা ছাত্রদল নেতা কমরুর অসাধারন কৌতুন সবাইকে বেশ হাসির খোরাক যুগিয়েছে । সারাদিন ষ্টিক দিয়ে শফিকের সেলফি তোলা আমাকে বেশ আনন্দের কোরাক যুগিয়েছে । আহারে বেচারা সবার ছবি তুলতে গিয়ে নিজেকে আর সেলফি থেকে বের করতে পারেনি । যুক্তরাজ্য বি এন পির সাবেক সভাপতি পর পর দুবার বি এন পি কেন্দ্রিয় কমিটির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সস্পাদক মাহিদুর রহমানের হৃদয় কাড়া বক্তব্য শহিদ জিয়ার সূর্য সেনাদের বেশ উৎসাহ যুগীয়েছে । অনুষ্ঠান শেষে আবার দল বেঁধে সমুদ্রের দিকে যেনো সবার ভোঁ দৌড় । যে যেভাবে পেরেছে জলকেলীতে মেতে উঠেছিলো । লুৎফুর রহমান আর তপনের সমুদ্র যুদ্ধ অনেকেই উপভোগ করেছে  । আমিও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক অদুদ আলম , যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহিন , জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক শাকেরুজ্জামান , আব্দুল বাকী সিদ্দীকি , শফিক , জিল্লুল, তায়েফ , তারেক, জলিল , মুন , শিবলু  সহ অনেকেই শেষ বিকেলের গোধুঁলীতে বিশাল সাগরের উপরে ভেসে উঠা চাঁদ মামার সাথে বসে বসে অনেকক্ষন জোছঁনা খেয়েছি । সেখান থেকে ছোট ভাই তপু বায়না ধরেছে রাতের খাবার না খিলিয়ে কার্ডিফে যেতে দিবে না । অগত্য এই প্রিয় মুখ খানার কথা না রেখে আর পারলাম না । দল বেধেঁ অনেকেই আবার সেখানে । কথা আছে না শুরু ভালো যার শেষও ভালো তার । আসলেই তো এ যেনো ভালোর উপর আরো ভালো । নানান পদের মাছ সেই সাথে শাক দিয়ে মাছের ভর্তা । শিংঙ্গী মাছের সাথে কাচ কলা , আহ । অনেক দিন মুখে লেগে থাকবে । ধন্যবাদ তপু ।  । আবার আসলে কিন্তু তোমার আর দাওয়াত দেয়া লাগবে না ।  নিজ থেকেই জোর করে দাওয়াত নিয়ে নিবো । জমপেশ আড্ডা হয়েছে মধ্যরাত অবদি । মোদ্দাকতা হচ্ছে সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিলো আসলেই প্রানবন্ত । নিখূত ভিন্নধর্মী এক মিলন মেলা । কৃত্রিমতা বলতে কিছুই ছিলো না । এমন একটি আনন্দের দিন এই প্রবাসের মাটিতে কবে কখনো পেয়েছি কিনা মনে পড়ছে না । যান্ত্রিক সভ্যতার ঘোড়ার রেসে দিন দিন সবাই যেনো হাপিঁয়ে উঠছি । এভাবে মাঝে মধ্যে আনন্দ উল্ল্যাসে মনে হয় জীবনটা যেনো কত্ত সুন্দর । মনে হয় ইস সারা জীবন যদি এভাবে বেঁচে থাকতে পারতাম ।পরিশেষে বিদায়ের করুন বাশীঁ যখন বেঁজে উঠলো তখন কেউ কাউকে ছেড়ে আসতে মন চাইছিলো না । তবু ও তো আসতে হবে । এই তো নিয়ম । তবে আগামীর অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় আবারো পথ চেয়ে থাকলাম । শেষমেষ এই অনুষ্টানটিকে সফল ও সার্থক করার জন্য জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জেরীস ভাই , সাদিক ভাই , বাকী সিদ্দীকী, দেলোয়ার হোসেন আহাদ , বকশী শামীম, সেকুল , রিপন , বি এন পি সভাপতি আহাদ ভাই সাধারন সম্পাদক সুমেল ও সাবেক সাধারন সম্পাদক ফজলু চাচা, শাহিন সহ শহিদ জিয়ার সূর্য সেনা শাকেরুজ্জামান , তাজুল সবার প্রতি থাকলো আমাদের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ । যদি কোন ভূল ত্রুটি হয়ে থাকে প্লিজ আক্ষেপ নয় , কষ্ট নয় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । সেই সাথে সুর্য সেনার এই আনন্দের সাথে শরীক হতে দূর দূরান্ত থেকে যেসব অতিথিরা এসে অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদেরকে জানাচ্ছি প্রানঢালা শুভেচ্ছা ।  সবাই ভালো থাকুন । আগামীর দিনগুলোতে আমরা সবাই যেনো আরো বেশী ভালো থাকি এই প্রত্যাশা থাকলো ।

সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতা

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x