• মঙ্গলবার, মার্চ ২৬, ২০১৯

শ্রদ্ধা ভালোবাসায় অমর একুশে পালিত

Posted on by

ইউকেবিডি টাইমস ডেস্কঃ 

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতি স্মরণ করেছে ভাষা শহীদদের। নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশে পালিত হয়েছে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসের প্রথম প্রহরে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদ মিনার সম্মুখে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ বেদিতে পুষ্প অর্পণের পর, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রীবর্গ ও দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুনরায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। 

এরপরে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে যান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।

এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মেয়র সাঈদ খোকন এবং এরপর উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ভাষা শহীদদের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দরা শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর শহীদ বেদিতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানেরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। 

বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকেও মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর অ্যাটার্নি জেনারেল, আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক, ভাষা সৈনিকবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারবৃন্দ, বিদেশি সংস্থার প্রধানগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের সঙ্গে ছিলেন। বিশিষ্টজনেদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এসময় বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডারসহ একে একে বিভিন্ন ছোট-বড় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে খালি পায়ে শহীদ বেদিতে ওঠেন। হাজারো মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। স্কাউট, বিএনসিসি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় রাতভর সারিবদ্ধ লাইনে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের বেদিতে ফুল দিয়ে স্মৃতিচারণ করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। 

রাত ১২টায় প্রথম প্রহরের পর ভোর পেরিয়ে সকাল হতেই নানান রঙের ফুলে আবারও ভরে উঠে শহীদ বেদি। অমর একুশে স্মরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন প্রভাত ফেরি বের করে। শহীদ মিনারে যাওয়ার রাস্তা থেকে শুরু করে দেয়াল পর্যন্ত ফুটিয়ে তোলা হয় নানা রঙের আচড়ে। আলপনাসহ আঁকা হয় ভাষা শহীদদের বিভিন্ন প্রতিকৃতি। ছাত্র, শিক্ষক, লেখক, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবীসহ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে আসা সবারই দাবি ছিল একটাই -দেশের সব স্তরেই যেন প্রচলন করা হয় বাংলা ভাষা। এদিকে সার দেশে পালিত হয়েছে একুশের নানা কর্মসূচি। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রভাত ফেরী, শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা। 

লন্ডনে ২১শে পালনঃ

যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে মহান শহীদ ও আনত্দর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করেছেন ব্রিটেনের প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করতে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেমেছিল জনতার ঢল।
দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হওয়ায় এই দিবসের কারিগর বাঙালির ভাষা শহীদদের স্মরণ করতে অন্যভাষাভাষি মানুষজনও সমবেত হয়েছিলেন পূর্ব লন্ডনের শহীদ

ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম ও টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল’র নির্বাহী জনবিগসের পুষ্পস্তবেরক অর্পণের মাধ্যমে রাত ১২.০১ মিনিটে ভাষা শহীদদের স্মরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। হাইকমিশনার ও মেয়রের পর পুষ্পসত্দবক অর্পণ করেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কমিটি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, যুক্তরাজ্য বিএনপি, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব, লেবার পার্টি, যুক্তরাজ্য জাসদ, যুবলীগ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাস, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট, মহানগর বিএনপি, মহানগর আওয়ামীলীগ, ইতালি সমিতি, মাদারিপুর সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনসহ শতাদিক সংগঠন

রাত সাড়ে ১১টার পর থেকেই বিভিন্ন সংগঠন মিছিল সহকারে শহীদ মিনারে সমবেত হতে থাকে। স্থানীয় কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ সময় শহীদ মিনারের নিরাপত্তায় নেওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা। নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় বিভিন্ন সংগঠন সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে গিয়ে পূষ্পচ্চবক অর্পণ করে শহীদ মিনারে।
ছোট ছোট ছেলে-মেয়েসহ অনেক দম্পতিও এসেছিলেন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাথায় বেধে নতুন প্রজন্মের অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশীও শহীদ মিনারে এসেছিলেন তাদের শেকড়ের সন্ধানে।

এদিকে পূর্ব লন্ডনের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়াও ব্রিটেনের ওল্ডহাম, বার্মিংহাম, লুটন ও নিউক্যাসেলসহ বিভিন্ন শহরে অমর একুশে উদযাপিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে প্রতিটি শহীদ মিনারে নেমেছিল জনতার ঢল


Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x