• শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৯

দেলু রাজাকার কিভাবে সাঈদী হয় জানিনা, তবে তারা আমার ঘাড়ে বন্দুক রেখে রায় নিয়েছে -সিনহা

Posted on by

“জামাত নেতারা ছিলো হাসিনার প্রধান টার্গেট, দেলু রাজাকার কিভাবে সাঈদী হয় জানিনা, তবে তারা আমার ঘাড়ে বন্দুক রেখে রায় নিয়েছে। এস কে সিনহা “

সাক্ষী, বিচারক সবাই মিলে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন
আমার একটি প্রশ্ন অাছে। জানিনা কার কাছে উত্তর পাবো তবে রেখে গেলাম। গতকাল শাহরিয়ার কবির সাহেবের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির একটি টিম নির্বাচন কমিশনে যান। তারা সেখানে নির্বাচন কমিশন বরাবর ৫টি দফাও পেশ করেন। তারা দাবী জানান যাতে জামায়াতের কোন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবেও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ না পায়। জামায়াত নেতাদের সন্তানরাও যেন নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ না পায়, সেই দাবীও তারা তুলেছেন। শাহরিয়ার কবির সাহেবের কাছ থেকে এগুলো খুব অপ্রত্যাশিত নয়। আমার প্রশ্নটা অন্য জায়গায়।

কাল টিভিতেই খবর দেখার সময় বিষয়টা নজরে এসেছিল, কিন্তু এক নজর দেখায় বিষয়টা নিশ্চিত হতে পারিনি। আজ পত্রিকাগুলো পড়ে নিশ্চিত হলাম। গতকাল ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির ৮ সদস্যের যে টিম গিয়েছেন তার মধ্যে কমপক্ষে ৩ জন আমার পিতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বিচার কাজের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

শাহরিয়ার কবির সাহেব নিজে হলেন আমার শহীদ পিতার মামলার প্রথম স্বাক্ষী। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষায় স্টার উইটনেস। তার মানে তিনি একটি পক্ষ। তার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রথম চেয়ারম্যান যিনি পরবর্তীতে আপীল বিভাগেও পদোন্নতি পেয়েছিলেন। আমার পিতার মামলাটি একসময় তার ট্রাইবুনালেই বিচারাধীন ছিল। তৃতীয় ব্যক্তি যিনি গতকাল শাহরিয়ার কবির সাহেবের সাথে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন তিনি হলেন আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনিও সরাসরি আমাদের মামলার বিচার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।

অর্থাৎ সাক্ষী, বিচারক সবাই মিলে তারা জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন। মামলা চলাকালে আমার বাবাও তো জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবেই দায়িত্ব পালন করতেন। তাহলে তখন তাদের মধ্যে জামায়াতের ব্যপারে বিদ্বেষ ছিলনা কিংবা অামার বাবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে তারা একসাথে কাজ করেননি- এরকমটা কি তারা দাবী করতে পারবেন? অার করলেও কি কেউ বিশ্বাস করবেন?

সবার বিবেচনার জন্য প্রশ্নটি রেখে গেলাম।

(পুনশ্চ: পত্রিকার বদৌলতে যেই ছবিটি পেলাম, সেখানে শাহরিয়ার কবির ও শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সাহেবকে ভালভাবেই বোঝা যাচ্ছিলো। কিন্তু বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের পরিস্কার চেহারা বোঝা যায় এমন কোন ছবি পাচ্ছিলাম না। পরবর্তীতে রায়হান ভাইয়ের সৌজন্যে ছবিটা পেলাম)

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x