• সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০১৯

ড. ফরাস উদ্দিন সম্পর্কে কিছু প্রসঙ্গ কথা

Posted on by

মুক্তমত:: ড. ফরাস উদ্দিন একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাবেক একান্ত সচিব। সম্প্রতি তিনি হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রাজনীতির মাঠে সরব বা সক্রিয় না হয়েও কেবল দলের উচ্চ পর্যায়ের আশীর্বাদ ও সংযোগের কারণে তার হঠাত মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি জনমনে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ড. ফরাস উদ্দিনের মনোনয়নের খবরটি প্রচার হওয়ার পর তৃণমূলের আওয়ামীলীগ কর্মীদের জিজ্ঞাসা যে তিনি আওয়ামীলীগের সাথে কিভাবে সম্পৃক্ত? উনি কি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সদস্য? উপদেষ্টা? না-কি কর্মী? উত্তরটা যদিও সবাই জানে। উনি কোনোদিনও বাংলাদেশ আওয়ামীলগের কোন সদস্য ও কর্মী ছিলেন না।
কেউ হয়তো বলতে পারে, উনিতো বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী ছিলেন। ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর। গুরুত্বর্পূণ এমন দুইটি পদের দায়িত্ব থাকা ব্যক্তির আওয়ামী পরিচয়ের আর দরকার আছে কি? দরকার আছে, আসল ঘটনা হচ্ছে উনি আওয়ামীলীগের একজন সুবিধাবাদী। দলের সুসময়ে কেবল তার পদচারণা দেখা গেছে, দু:সময়ে তার অস্বিত্ব খুজেঁও পাওয়া যায় নাই। কিন্তু তার এলাকার একজন ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতা তার বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই নেতা বলেন ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনায় ড. ফরাস উদ্দিনের ভূমিকা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু যাকে বিশ্বাস করে একান্ত সহকারী বানিয়েছিলেন। সেই মানুষটি কি করে তার হত্যার ঠিক তিন দিন আগে চাকুরী হতে অব্যাহতি নিয়ে আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তাও সেই পড়ালেখার খরচ যুগিয়েছে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার কথিত মুখপাত্র টঝঅওউ। এসব আপাত: দৃষ্টিতে কাকতাল বিষয় মনে হলেও যখন ১৫ আগষ্টের পরবর্তী ৬ দিন ফরাস উদ্দিন বহাল তবিয়তে ছিলেন, অথচ তিনি বঙ্গবন্ধুর সকল তথ্য জানতেন। এমনকি ২১ আগষ্ট ১৯৭৫ সালে দেশ ছাড়ার সময় ঢাকা বিমান বন্দরে তার ফ্লাইটটি সেনাবাহিনী আটকিয়ে রাখে। তখন খন্দকার মোশতাক সরকারের ইশারায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর এত কাছে থাকর পরেও কিভাবে এতো নিরাপদে ছিলেন? তিনি কি তাহলে খন্দকার মোশতাক সরকারের আর্শীবাদ পুষ্ট ছিলেন? এ প্রশ্নগুলো আজ ইতিহাসের প্রয়োজনেই পরিষ্কার করতে হবে।
তার ঘনিষ্টজন অক্ষেপ করে বলেন উনার পাশে জামাত শিবিররাই সর্বদা স্থান পেয়েছেন। তার একান্ত সহকারি আরেক জন শিবির কর্মী। কেন্দ্রীয় একজন নেতা বলেন ড. ফরাসউদ্দিন আওয়ামীলীগের সুদিনের বন্ধু। বঙ্গুবন্ধুর হত্যার আয়োজন যখন চলছিল তখন উনি কোনো প্রকার ভূমিকা পালন করেননি বরং নিজের আখের গুছিয়েছেন । ১৯৯৬ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর আঁতাতকরে সরকারি জায়গা দখল করে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তাই এলাকার সাথে সংযোগ-বিহীন বিতর্কিত মানুষটিকে নিয়ে এলাকার নেতাকর্মী ও জনমনে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে।

 
ড. ফরাসউদ্দিন সাহেবের পাশে দাড়ানো ছেলেটি তারেক জিয়ার ঘনিষ্টজন সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান যিনি লন্ডনে থাকেন তার আপন ছোটভাই শিবির নেতা মাসুম বিল্লাল! ওর বাবার নাম মৌলনা সানাউল্লাহ বাড়ী মাদবপুর ইটাখোলা! আর পাশে আরেকজন বাংলাদেশ সরকারের সচিব পর্যায়ে আছেন তিনি সাবেক হবিগঞ্জ জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ২য় ছবিতে বাম পাশে চেক শার্ট পড়া ছেলেটি শিবিরের নেতা ওবায়দুল বাড়ী ধর্মঘড়।

ড. ফরাসউদ্দিন মনোনয়নের আবেদন দাখিলের পর হবিগঞ্জ-৪ মাদবপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলমগীর কবির সহ স্থানীয় বিএনপি আনন্দ প্রকাশ যা আলগীর কবিরের সেই দিন ১১ই নভেম্বর সন্ধ্যার ফেইস বুক ষ্ট্যাটাস।

 

Leave a Reply

More News from মতামত

More News

Developed by: TechLoge

x