• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০

‘আমরা কতটা অমানুষ হয়ে গিয়েছি, এটা রিয়ালাইজ করে কাদঁছে আখতার হোসেন’

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশন করছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন। অনশনে তিন দিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এদিকে তৃতীয় দিনে শারিরীক অবস্থায় অবনতি ঘটে এই শিক্ষার্থীর।তাকে দেখতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বুকে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সময়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০.৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এই দৃশ্য দেখা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সমালোচনায় মুখর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। ১৬ অক্টোবর এই ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২৬.২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন। ১২ অক্টোবর এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার আগের দিনই প্রশ্ন ‘ফাঁস’ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করেন।

এদিকে ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে ঢাবির আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আখতার হোসেন মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশন শুরু করেছেন।আকতার হোসেনের দাবি ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এটা প্রমাণিত। পরীক্ষা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এছাড়া পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাম সংগঠনগুলো। পরীক্ষা বাতিল না করলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

এই সময় আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার শারিরীক অবস্থার খোঁজ খবর নেন। কথা বলার এক পর্যায়ে এই শিক্ষার্থী কান্না করতে থাকেন। ঢাবি অধ্যাপক এই সময় তাকে বুকে জড়িয়ে নেন। তার পাশে থাকবেন বলে জানান।

এদিকে পূর্ব ঘোষিত মানববন্ধন হয়েছে রাজু ভাস্কর্যে। মানববন্ধন থেকে চারটি দাবি পেশ করা হয়। সেখানে বলা হয় ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নফাসেঁর প্রতিবাদে আমরণ অনশনকারী আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আখতার হোসেনের সাথে সংহতি প্রকাশ করছি আমরা। ‘ঘ’ ইউনিটের ফলাফর বাতিল করতে হবে, পরীক্ষা ফের নিতে হবে, প্রশ্নফাসেঁর সাথে জড়িতদের বিচার করতে হবে, বিগত বছরে যারা জালিয়াতি করেছে তাদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আমি তার সাথে যখন কথা বলছি তখন মনে হলো আখতার কাদঁছে কেন। আসলে তার শিক্ষকরা অর্থাৎ আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সার্বিকভাবে আমরা কতটা অমানুষ হয়ে গিয়েছি কতটা অসংবেদনশীল হয়ে গেছি আমরা কতটা অনাচারী হয়ে গেছি এটা রিয়ালাইজ করে কাদঁছে আখতার হোসেন।

তাকে কেউ দেখতে আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটা প্রশ্নপত্র ফাসঁ হয়েছে এটার প্রতিবাদে একটা ছেলে বসে আছে কেউ তাকে দেখতে আসিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই দায়িত্ব অনুভব করছেনা। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক, দুঃখজনক আর কি হতে পারে। আখতার এই ইউনিভার্সিটির ছাত্র। এই ইউনিভার্সিটির প্রতিটি ছাত্রের দেখাশুনা করা নিরাপত্তা দেওয়া ভালো-মন্দ দেখা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। এটা প্রতিটি শিক্ষকের দায়িত্ব। আমরা এই দায়িত্ব পালন করতে ব্যার্থ হয়েছি।

আখতারের কাছে আমার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমাদের আরো আগে আসা উচিত ছিল।এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি অহংকার মাত্র অবশিষ্ট আছে।সবচেয়ে বড় অহংকারটা হলো আমরা ভর্তি পরীক্ষাটা ভালোভাবে গ্রহণ করতাম।অনেক জায়গায় আমাদের লজ্জাজনক অবনতি হয়েছে।কিন্তু এই জায়গায় আমরা ঠিক ছিলাম।আমরা গর্ব করে বলতাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাটা সুচারুভাবে হয়।আজকে সেখানে আঘাত লেগেছে।সেখানে যদি আঘাত লাগে আমাদের সবার প্রতিবাদ করা উচিত ছিল।এবং অবশ্যই ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা উচিত ছিল।———–জাস্ট নিউজ

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x