• বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

কাকের মুখে রসগোল্লা সোভা পায় না

Posted on by

ইতালী প্রবাসী সাংবাদিক পলাশ রহমানের ফেইসবুক থেকে 

অধ্যাপক আশরাফ আলি আকন। একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিক। ইসলাম যার কাছে তথাকথিত কোনো ধর্ম নয়, ইসলাম একটি আদর্শ। রাজনৈতিক আদর্শ।
অধ্যাপক আকন ইসলামি আন্দোলনের বড় নেতা। আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাকে জানি। তিনিও আমাকে স্নেহ করেন। আদর শাসন দুটাই করেন। শেষ যেবার দেখা হলো সেদিনও বললেন, টাকার জন্য বিদেশে থাকা জায়েজ নাই, দ্যশে আইস্যা দ্যশের কামে হাত লাগাও। দেশটায় কাজের মানুষের বড় অভাব।
আমার জানা মতে দেশের রাজনীতিতে বর্তমানে অধ্যাপক সাহেবের থেকে বেশি জানা, বেশি রাজনৈতিক পড়াশুনা করা রাজনীতিক কম আছেন।
তিনি ইসলাম এবং অন্যান্য রাজনৈতিক আদর্শগুলো সম্পর্কে সমান তরাল জ্ঞান রাখেন। তার লেখা বইগুলো দেশের আদর্শিক এবং দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ছাত্রদের জন্য অবশ্যই পাঠ্য।
গতরাতে তিনি ঢাকার একটা টিভি টকশোতে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি চমৎকার কিছু কথা বলেন।
তিনি বলেন, কাকের মুখে রসগোল্লা সোভা পায় না। তার বিচক্ষণ ইঙ্গিতের এই কথা দেশি রাজনীতির মানুষরা অনেক দিন মনে রাখবে।
তিনি বলেন, দূর্ণিতিবাজ, সন্ত্রাসরা রাজনীতি করার অধিকার রাখে না।
ইসলামি আন্দোলনের নেতাদের কখনো টিভি টকশোতে দেখা যায় না। আমার জানা মতে চ্যানেলগুলোর অনাগ্রহের থেকে অনেক বেশিগুন অনিচ্ছা দলটির নীতিনির্ধারদের। তারা টকশোতে নারী উপস্থাপক বা নারী আলোচকদের সাথে বসে আলোচনা করা শরিয়তের খেলাপ, পর্দার খেলাপ মনে করেন।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, জনাব অধ্যাপকের দল জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে- তাদের কেউ যদি এমপি নির্বাচিয় হন এবং সেই সংসদের স্পিকার থাকেন একজন নারী তখন তারা কী করবেন? সংসদে তো নারী সদস্যরাও থাকবেন, তখন তারা কী সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন?
প্লেনে বিমানবালা থাকে, তাই বলে প্লেনে চড়বেন না? কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা বা নারী শিক্ষক থাকার কারনে পড়াশুনা বন্ধ রাখতে হবে?
অফিস আদালতের পাবলিক ডেস্কে নারীরা কাজ করেন, কই ওগুলো তো এভয়েড করতে পারেন না! কেনো পারের না?
জনাব আকনের বক্তব্য অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। তাদের নেতাকর্মীরা হাজার হাজার কমেন্ট করে অভিবাদন জানিয়েছেন। কমেন্টগুলো পড়ে আমার মনে হয়েছে ওগুলো ‘অভিবাদন’ ছিল না। ওগুলো রক্তক্ষরণ। কর্মীদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x