• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯

নবম কারী লাইফ এওয়ার্ড: রন্ধন শিল্পীরাই কারী ইন্ডাষ্ট্রির মেরুদন্ড

Posted on by

লন্ডন ডেস্ক :: রন্ধন শিল্পী বা শেফরাই হলেন ব্রিটেনের কারী ইন্ডাষ্ট্রির মেরুদন্ড। ইন্ডাষ্ট্রির মূখপত্রখ্যাত ম্যাগাজিন কারী লাইফের নবম এওয়ার্ড সিরিমনি ও গালা ডিনার অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও অতিথিরা। রবিবার, ৭ই অক্টোবর স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় লন্ডনের রয়েল ল্যাঙ্কাষ্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত জমকালো এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এমপি, রাজনীতিক, সাংবাদিক, সেলিব্রেটিসহ ব্রিটিশ সোসাইটির উচ্চ পর্যায়ের ব্যাক্তিরা। ছিলেন সারা দেশ থেকে আগত রেষ্টুরেন্ট ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যাবসায়ীরা।

অনুষ্ঠানে ছিলো অসাধারণ সব পারফরম্যান্স, ছিলো মন মাতানো বিনোদন। বিজয়ীদের উচ্ছাসের পাশাপাশি ছিলো কারী শিল্পের সংকট নিরসনে জোরালো দাবি। অনুষ্ঠানে আগতরা নাচ-গানে ভরপুর মন মাতানো এই অনুষ্ঠানে পুরো সন্ধ্যাই ছিলেন বিমোহিত।

ব্রিটেনের এওয়ার্ড প্রাপ্ত চ্যানেল ৪ নিউজের প্রেজেন্টার জন স্নো’র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত জমকালো এই গালা নাইটে অঞ্চল ভিত্তিক বাছাইকৃত সেরা রন্ধন শিল্পী শেফদের স্বীকৃতি দেয়া হয় ক্রেষ্ট হাতে তুলে দিয়ে। সেরা শেফদের হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন ব্রিটিশ কারী কেটারিং বিষয়ক অল পার্টি পার্লামেন্টারী গ্রুপের চেয়ার পল স্কেলী এমপি, রোশনারা আলী এমপি, রূপা হক এমপি, লর্ড কারেন বিলিমরিয়া এবং কেয়মেন আইল্যান্ডের সাবেক গভর্ণর আনোয়ার চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারী লাইফের সম্পাদক সৈয়দ বেলাল আহমেদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে কারী লাইফ শেফ এওয়ার্ড প্রবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, রন্ধন শিল্পের মেরুদন্ড হলেন শেফরা। এই শিল্পের আসল শিল্পী এই শেফদের স্বীকৃতি ও তাদের মেধার পরিচয় তুলে ধরতেই আজ থেকে ৯ বছর আগে কারী লাইফ এওয়ার্ড শুরু করি আমরা। এই ৯ বছরে এওয়ার্ডে যোগ হয়েছে নতুন নতুন পর্ব। তিনি বলেন, প্রতিটি পর্বের পরিকল্পনাই কারী সেক্টরকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রয়াস থেকেই নেয়া হয়েছে। শুধু শেফ এওয়ার্ড নয়, বাংলাদেশী শেফদের তৈরী ব্রিটিশ কারি শিল্পকে বিশ্বব্যাপী প্রমোট করারও প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে কারী লাইফ, এমন মন্তব্য করে কারী লাইফ সম্পাদক বলেন, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কারী ইন্ডাষ্ট্রির আধুনিকায়ন চেষ্টা আমাদের একটি চলমান প্রক্রিয়া।পূর্ব প্রজন্মের হাত থেকে আমাদের হাত হয়ে এই ইন্ডাষ্ট্রি একদিন যাবে ভবিষ্যত প্রজন্মের হাতে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের গৌরবের উত্তরাধিকার হয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যেন এই শিল্প ঠিকে থাকে সেই চেষ্টাই করছে কারী লাইফ।

স্টাফ সংকটসহ কারী সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্রিটিশ সরকারের আরও মনযোগী হওয়া উচিত, এমন মন্তব্য করে কারী লাইফের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, রাষ্ট্রিয় কোষাগারের অন্যতম যোগানদার এই সেক্টরটি যদি সমস্যার কারনে মুখ থুবরে পড়ে তাহলে ক্ষতি শুধু এই সেক্টরের সাথে জড়িতদেরই নয়, পুরো জাতির। কারী লাইফ এই বিষয়গুলোই বারবার সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করছে।

কোবরা বিয়ারের চেয়ারম্যান লর্ড কিরান বিলিমরিয়া কারী শিল্পের প্রতি সরকারের অবহেলার অভিযোগ এনে তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি আশা করেছিলাম সেক্রেটারী অব স্টেইট ফর ফুড মাইক্যাল গোভ আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু তিনি নেই। কারী শিল্পকে উদ্দেশ্য করে সাবেক ফরেন সেক্রেটারী বরিস জনসনের কোন এক সময়ের বিতর্কিত মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে লর্ড বিলিমরিয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্যাক্স নেবেন, ভিএটি নেবেন, এই ইন্ডাষ্ট্রির অর্থে রাষ্ট্রিয় কোষাগার মোটা তাজা করবেন, অথচ এটির সংকটে পাশে দাড়াবেননা এটিতো হয়না।কারী ইন্ডাষ্ট্রির বিকাশ ও উন্নয়নে কারী লাইফের অব্যাহত ভূমিকার প্রশংসা করে লর্ড বিলিমরিয়া সুখে-দুঃখে এই শিল্পের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেন তাঁর বক্তৃতায়।

কারী লাইফ এওয়ার্ডের দীর্ঘ ৯ বছরের পথ চলায় এবার নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে আরও কিছু ব্যাতিক্রমী পর্ব। এরমধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মরহুম আব্দুর রহিমের নামে ‘কারী লাইফ এম এ রহিম স্মৃতি এওয়ার্ড’, কারী লাইফ আন্তর্জাতিক সম্মাননা এওয়ার্ড এবং কাষ্টমার পছন্দের সেরা ডিস। কারী সেক্টরে বিশেষ অবদান রাখায় এবার কারী লাইফ এম এ রহিম স্মৃতি এওয়ার্ডে ভূষিত হন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বজলুর রশীদ এমবিই এবং কারী লাইফ আন্তর্জাতিক সম্মাননা এওয়ার্ড পান হিলটন সিংঙ্গাপুরের চীফ এক্সিকিউটিভ কাজী হাসান।
এওয়ার্ড সিরিমনি ও গালা ডিনারের আগে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একই হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড কারী এক্সপো। রন্ধন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহকারীরা নিজেদের পণ্যদ্রব্য প্রদর্শন করেন এই এক্সপোতে। ইন্ডাষ্ট্রির সাথে জড়িত প্রতিটি সেক্টর যাতে একে অন্যের সহযোগী হতে পারে, এই চিন্তা থেকেই এবার অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড কারী এক্সপো। কারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ক্রেতা বিক্রেতাদের যুগসূত্র স্থাপনের জন্য এ ধরণের একটি এক্সপো বা মেলার আয়োজন লন্ডনে এই প্রথম। এখন থেকে প্রতি বছরই এই এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে, এমনটিই জানান কারী লাইফ কর্মকর্তারা।

এওয়ার্ড সিরিমনির শুরুতে কারী লাইফ পাবলিকেশনের আরেকটি নতুন প্রকাশণা ‘ওরিয়েন্টাল ফুড লাইফ’-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এই প্রকাশনাটি কারী শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত পণ্যসামগ্রী সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দেবে কারী পরিবার সদস্যদের।

সত্যবাণী থেকে নেয়া

Leave a Reply

More News from অর্থনীতি

More News

Developed by: TechLoge

x