• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০

আবার ক্ষমতায় এলে প্রতিটি বিভাগেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় নির্বাচিত হলে প্রত্যেক বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলবে।

রোববার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসেসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত চিকিৎসক সম্মেলনে এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার উপজেলা পর্যায়ে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সুবিধার জন্য এবং তাদের শহরমুখিতা প্রতিরোধেই এটা করা হচ্ছে।এসব ফ্ল্যাটে তারা (চিকিৎসকরা) ভাড়া থাকার সুযোগ পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সরকার হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি। সেজন্য বিশেষায়িত চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, নার্সিং থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে আমাদের প্রশিক্ষণ প্রদান একান্তভাবে প্রয়োজন। তার জন্য আমরা যেমন ইনস্টিটিউশনগুলোও করে দিয়েছি, তেমনই চিকিৎসার সুযোগটাও আরো ব্যাপকভাবে সৃষ্টি করতে চাই। বিদেশ থেকে যেমন প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে, তেমনই বিদেশি প্রশিক্ষক এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপরও আমরা জোর দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার অনুরোধ থাকবে চিকিৎসক ভাই বোনদের কাছে- মানুষের সেবা করা কিন্তু সর্বপ্রথম কর্তব্য। কিন্তু এ প্রসঙ্গে একটা দুঃখের কথা আমি বলতে চাই। সেটা হলো, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে উন্নতমানের করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি, যেখানে আমাদের ৫০ বেডের একটি হাসপাতালে কমপক্ষে ১০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, সেখানে কোথাও একজন কোথাও কোথাও খুব বেশি হলে চারজন ডাক্তার রয়েছেন। সেখানে কিন্তু ডাক্তার থাকেন না। মানুষ তাহলে সেবা পাবে কীভাবে? এটা আমার পশ্ন।

তিনি বলেন, পদ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি কিন্তু এখানে আমরা ডাক্তার পাই না। নিয়োগও আমরা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কেন এই অবহেলা মানুষের প্রতি। এটা নিশ্চয়ই জনগণ প্রত্যাশা করে না। সেটা আমি আপনাদেরকে ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করব।স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালিক এবং কনফেডারেশন অব মেডিক্যাল অ্যাসেসিয়েশন অব এশিয়া অ্যান্ড ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি ডা. রবীন্দ্রান আর নাইডু অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

বিএমএর সভাপতি ড. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এবং বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করে চিকিৎসক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরে তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা ওড়ান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বর্তমান আধুনিক যুগে স্বাস্থ্য খাত বা চিকিৎসাসেবারও অনেক আধুনিকায়ন হয়ে গেছে। নতুন নতুন ডেফিনেশন এসে গেছে। নতুন নতুন চিকিৎসা শাস্ত্রও কিন্তু চলে এসেছে। কাজেই তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার মানটা বাড়াতে হবে। যেন আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রাইভেট হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজ খুব বেশি ছিল না। প্রথমবার সরকারে থাকার সময়ই আমি মেডিক্যাল যন্ত্রাংশ থেকে সকল ট্যাক্স প্রত্যাহার করে নেই বা কমিয়ে দেই, যাতে করে আমাদের দেশের বেসরকারি খাত আরো উন্মুক্ত হয় এবং বেসরকারি খাতে আরো হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজ গড়ে উঠতে পারে। সেজন্য আজকে চিকিৎসকও যেমন তৈরি হচ্ছে, সেভাবে মানুষ সেবাও পাচ্ছে। কিন্তু সেবার মান আরো উন্নত করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামগুলোর দিকে আরো মনযোগ দেওয়া দরকার, যাতে চিকিৎসাসেবা তারা যথাযথভাবে করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থা। সেখানে শত বছরের পুরাতন ভবনও রয়েছে,যদিও কেউ কেউ সেগুলোকে হেরিটেজ বলে। তবে, সেই হেরিটেজ মাথায় ভেঙে পড়লে প্রাণহানি ঘটতে পারে।তিনি বলেন,আমরা একটি নতুন প্ল্যান তৈরি করেছি- একটি অত্যন্ত আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল সেখানে আমরা নির্মাণ করে দেব। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিট করে এর শয্যা সংখ্যা ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ১৩০০ করা হয়েছে এবং নতুন হাসপাতাল করা হলে এই শয্যা সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হবে।

সরকারপ্রধান বলেন,বাংলাদেশে বর্তমানে মোট মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ১১১টি। যার মধ্যে সরকারি ৪২টি এবং বেসরকারি ৬৯টি।তিনি বলেন,সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করতে চায়। যাতে করে নতুন চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলার জনগণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পান। রাজশাহী ও চট্টগ্রামে নতুন দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার জন্য উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সিলেটে আরো একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সরকারি ও বেসরকারি মিলে ২৮টি ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড রিহ্যাবিলেশনের (নিটোর) শয্যা সংখ্যা ৫০০ থেকে উন্নীত করে এক হাজার করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন,তার সরকার ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৪৬ জন চিকিৎসক, পাঁচ হাজারেরও বেশি নতুন নার্স নিয়োগ দিয়েছে। স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে আরো ছয় হাজার চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পথে। স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন,সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।আমরা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে ভ্যাক্সিন অ্যান্ড ইমুনাইজেশন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি।তিনি বলেন,আমরা ২০১১ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন করি।জাতীয় ঔষধনীতি-২০১৬, মানব দেহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনসহ নানাবিধ আইন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।এখন আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট হয়ে গেছে, আমরা সারাদেশে ইন্টারনেট সুবিধা চালু করে দিয়েছি।প্রায় ৯৯ ভাগ জেলায় ব্রডব্যান্ড ইতোমধ্যে চালু হয়েছে।তিনি বলেন,সরকার রাস্তা-ঘাট,পুল-ব্রিজ ব্যাপকভাবে করে দিচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করে দিয়েছে। জলপথ,রেলপথ,সড়ক পথ এবং আকাশ পথ সব পথেরই কিন্তু উন্নয়ন করে দিচ্ছে।কাজেই এখন চিকিৎসকরা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করবেন বলে আশা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাকে আমরা হাতে নিয়েছি সেই চিন্তা থেকে যে,জনগণের সেবা করা আমার কর্তব্য, জনসেবা আমার দায়িত্ব। কারণ, এটা আমি সবসময় স্মরণ করি,এই দেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই ছিল আমার একমাত্র চিন্তা।শেখ হাসিনা বলেন,এ দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা,বাসস্থান,চিকিৎসা,শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা বিধান এবং সুন্দরভাবে যাতে দেশের মানুষ জীবনযাপন করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা,সেটাকে কর্তব্য হিসেবে মনে করেই কিন্তু আমি রাষ্ট্র পরিচালনা করি।ব্যক্তিগতভাবে পাওয়া না পাওয়ার হিসেব আমি করি না।মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম,আর কতটুকু পারলাম না,সেটাই আমার চিন্তা।প্রধানমন্ত্রী অটিজম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্য তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তথ্যসূত্র : বাসস

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x