• শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০

বিয়ানীবাজার খাসা দিঘির পাড় এলাকার জমির মালিকানা বহাল থাকলো শিপনের

Posted on by

দীর্ঘ তিন বছর মামলা চালিয়ে অবশেষে নিজের পক্ষে আদালতের রায় পেলেন লন্ডন প্রবাসী ইফতেখার আহমদ শিপন। সিলেটের সহকারি জজ এ এস এম এমরান গত মে মাসের ছয় তারিখে আসামীদের অনুউপস্থিতিতে এই আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়, বিবাদীগন অত্র মোকাদ্দমায় হাজির না হওয়ায় ও জবাব দাখিল না করায় এই মামলা একতরফাভাবে বিচার নিষ্পত্তি করা হল।

আদেশে বলা হয়, নালিশাকৃত বিয়ানী বাজার থানার দিঘিরপাড় এলাকার ঘাসা মৌজার জেএল নং ১০৫ এস এ খতিয়ানের ১৯৬ এর ৪০৭ নং দাঘের মোট ৪০ শতাংশ জমির মধ্যে ভোগদখলকৃত ৭ শতাংশের বৈধ মালিক হল লন্ডন প্রবাসী ইফতেখার আহমদ শিপনের পরিবার। কিন্তু অবৈধভাবে এ জমির মালিকানা দাবি করে খাসা দিঘির পাড় এলাকার মৃত্য ইরমান আলী বদই মিয়ার ছেলে, আজির উদ্দিন, লাল মিয়া , ফজলুর রহমান , নুরুল আলম তেরা মিয়া এবং বাবুল হুসেন গংরা। অবশেষে দীর্ঘ তিন বছর আদালতে নিজের মালিকানার সকল তথ্যউপাত্ত উপস্থাপন করে ভোগদখলকৃত জমির মালিকানা নিজের কাছেই রাখলেন ইফতেখার আহমদ শিপন। ফলে প্রকৃত সত্য বের হওয়ায় এ জমির অবৈধ মালিকানার দাবিদার আজির উদ্দিন গংদের মুখে চুনকালি পড়ল। আর কেচোঁ খুড়তে বেড়িয়ে আসল অনেক বড় সাপ। যাতে এখন উপকৃত হবে আরো অনেক প্রতিবেশী উত্তরাধীকারি অংশীদাররা যাদের ২১ শতাংশ জমি এতদিন অবৈধভাবে ভোগদখল করে রেখেছিলেন আজির উদ্দিন গংরা।


আদালতের আদেশে আরো বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নালিশা ভূমির মূল মালিক ছিলেন, বঙ্কিম চন্দ্র চক্রবর্তী, হেম চন্দ্র চক্রবর্তী ও শীতল চক্রবর্তী এবং তারা ১৭১১/১৯৩৮ ইং রেজি: কবলা দলিল মুলে ৩ পোয়া ভুমি নফিজা বিবি বরাবরে বিক্রয় করেন। এর পরে ১৯৬১/৬২ সালে এ জমি থেকে নফিজা বিবির উত্তরাধিকারীরা ১১ শতাংশ ভুমি সাফ কবলা কছির আলী, মতছিন আলী, এবং মদরিছ আলীর কাছে বিক্রয় করেন। পরবর্তীতে কছির আলী গংরা ১৯৭৫ সালে এ জমি লন্ডন প্রবাসী আবদুল হক বরাবর বিক্রয় করেন। আর এই আবদুল হকই হলেন লন্ডন প্রবাসী ইফতেখার আহমদ শিপন এর বাবা। ১৯৭৫ সাল থেকেই এ ভূমির ভোগদখল করে আসছে শিপনদের পরিবার।
কিন্তু ২০১৪ সালে হঠাৎ করেই ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এই জমি নিজেদের দাবি করেন খাসা দিঘির পার এলাকার মৃত্য ইরমান আলী বদই মিয়ার ছেলে, আজির উদ্দিন, লাল মিয়া , ফজলুর রহমান , নুরুল আলম তেরা মিয়া এবং বাবুল হুসেন গংরা । একই বছর সিলেট জেলা অতিরিক্ত মেজিস্ট্রেটের কোর্টে মামলাও করেন তারা। এক বছর যুক্তিতর্কের পর আদালত জমির প্রকৃত মালিক ইফতেখার আহমদ শিপনদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। এ রায়ে অমান্য করে আদালতে আবার আপীল করেন বাদীপক্ষ আজির উদ্দিন গংরা। অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে আপীল করে বার বার শুনানীর তারিখ দিলেও আদালতে হাজির হন নি আজির উদ্দিনরা।
অবশেষে ২০১৬ সালে আদালত তাদের অনুউপস্থিতি পূর্বের রায় বহাল রেখে আদেশ জারি করেন। এর পর থেকে আজির উদ্দিন গংরা বিভিন্নভাবে জমির মালিকানা দখল নিতে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। ফলে জমির প্রকৃত মালিকরা আদালতের রায়ের পরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। অনেকটা বাধ্য হয়েই ২০১৬ সালে আজির উদ্দিনের ভূয়া কাগজপত্র বাতিল চেয়ে এবং তাদের সকল রেকর্ড সংশোধন করতে সিলেটের আদালতে মামলা করেন ইফতেখার আহমদ শিপন। যার মামলা নং – স্বত্ব মোকদ্দমা নং: ১৬৫/২০১৬ ইং। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কয়েকবার গুনানী করে আদালত অবশেষে ২০১৮ সালের মে মাসে, জমির ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে অবৈধভাবে মালিকনা দাবি করা, আজির উদ্দিন গংদের সকল কাগজ পত্র বাতিল ঘোষনা করে আদালত রায় প্রদান করেন । এবং রায় প্রদানের নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে ইফতেখার আহমদ শিপনে দায়েরকৃত আবেদন অনুযায়ী সকল কাগজ পত্র সংশোধন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদন করা হয়।
আদালতের আদেশে আরো বলা হয়, ৪০ শতাংশ ভূমির মালিক ছিলেন নাফিজা বিবি এবং তার মারা যাবার পর তার ৫ সন্তানই হবেন ঐ জমির উত্তরাধীকারসূত্রে মালিক। এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু বর্তমান অভিযুক্ত আজির উদ্দিন কাগজপত্রে দেখিয়েছেন, ১৯৯২ এবং ১৯৯৩ সালে আব্দুল হাছিব মোনিয়া ও তাহার স্ত্রী বদরুন্নেছা খানম আরফান আলীর কাছ থেকে ক্রয় করিয়া ভোগদখলে থাকা অবস্থায় ১৯৯৩ সালে আজির উদ্দিন গং এর নিকট বিক্রি করেন ২২ শতক ভূমি। অপরদিকে ১৯৯৫ সালে আরফান আলীর সন্তান আব্দুল মালিক ও জয়তুরি বিবি এবং আরফান আলীর স্ত্রী ফুলই বিবির নিকট হইতে অবশিষ্ট ১৮ শতক ভূমি আজির উদ্দিন গং ক্রয় করেন। পূর্বে ক্রয়কৃত ২২ শতক সহ মোট ৪০ শতক ক্রয় করে নেয় বলে কাগজে উল্লেখ করেন আজির উদ্দিন গংরা। যা আদালতের কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। কারণ আরফান আলী উত্তরাধিকারী সূত্রে একাই ৪০ শতক ভূমির মালিক হতে পারে না। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বিয়ানীবাজার পৌরসভা কর্তৃক নাফিজা বিবির ওয়ারিশ গণের উত্তরাধিকারী সনদ নং ১০৩৭/১৬ অনুযায়ী উত্তরাধিকারী সূত্রে ৪০ শতক ভূমির মালিক হবেন নাফিজা বিবির ৫ ছেলে, মনির আলী, রুপা খলিফা, করপান আলী, ইরফান আলী এবং আরফান আলী সর্ব পিতা মৃত আসকর আলী।
সুতরাং আদালতের কাছে এটা প্রতিয়মান হয় যে, আরফান আলী শুধু ৮ শতক জমির উত্তরাধিকারী সূত্রে মালিক হবেন এবং এর চেয়ে বেশি তিনি বিক্রি করতে পারবেন না। এবং বিবাদী, আজির উদ্দিন গং আরফান আলীর কাছ থেকে ৮ শতক ভূমির বেশি খরিদ করতে পারবে না। কিন্তু আজির উদ্দিন ভুয়া কাগজপত্রে দেখিয়েছেন তিনি ৪০ শতক ক্রয় করেছেন যা আদালত গ্রহন করে নি। এবং এই মর্মে আদেশ দিয়েছেন যে, আজির উদ্দিন গংদের খতিয়ান নং ৫৬৮ (২২ শতক) এবং খতিয়ান নং ৬১২ (১৮ শতক) ডি পি খতিয়ান নং ৪৬২ মোট ৪০ শতক জমি আরফান আলীর কাছ থেকে খরিদ করেছেন তা কিছুতেই প্রমান করতে পারেনি বিবাদী গন। সুতরাং তফসিল বর্ণিত বিয়ানীবাজার থানাধীন খাসা মৌজার ১০৫ নং জেএল স্থিত, ১৯৬ নং ছাপা খতিয়ান, ৫৬৮ নং এবং ৬১২ নং নামজারী খতিয়ানের, ৪০৭ নং দাগের, মোয়াজি ৪০ শতক ভুমির এস এ মালিক, আরফান আলীর স্থলে আরফান আলী সহ আরও তার ৪ ভাইয়ের নাম লিপি বদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের স্বত্ব মোকদ্দমা নং ১৫৬/২০১৬ নামজারী নং ১৫৮/১৮-১৯ ।
বিবাদী আজির উদ্দিন গং আরফান আলীর ভুয়া ৪০ শতক ভূমির রেকর্ডটি ব্যবহার করে একই দাগের বাকী জমিগুলো বার বার বিক্রি করায় দেশে বিদেশে বহু মানুষ প্রতারণার স্বীকার হয়েছে। তার একমাত্র কারন হলো পাঁচ ভাইয়ের মোট জমি এক ভাইয়ের নামে ভুলবশত এস এ রেকর্ড এ লিপিবদ্ধ হয়েছে।
বাদীর সন্তুষ্টি প্রকাশ:
মামলার বাদী ইফতেখার আহমদ শিপন বলেন, আদালতের রায়ে এটা প্রমানিত হয়েছে যে আমরা এ জমির প্রকুত মালিক ছিলাম এবং আছি। তিনি আরো বলেন এ রায়ে সত্যের ই জয় হয়েছে এবং অনেক গরীর মানুষের উপকার হয়েছে যারা তাদের প্রকৃত উত্তারাধীকারসুত্রে প্রাপ্ত ২১ শতক জমি বুঝে পাবেন, নাফিজা বিবির উত্তরাধীকারীর পাঁচ ছেলের অংশ থেকে। ফলে আর্থিকভাবে অনেক অসহায় পরিবার লাভবান হবে। অন্যদিকে, সমাজের কিছু খারাপ কুচক্রী মহলের মুখোশ উম্মোচিত হল। যারা বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে প্রবাসীদের ভুমি অবৈধভাবে দখল করতে চায়।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x