• শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০

‘তালি বাজানোর কিছু নেই’

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ দেশের রাজনীতি নিয়ে বিশ্বনেতারা কোনও পরামর্শ দেননি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন,নির্বাচনের ব্যাপারে এমন কোনও পরামর্শ আমাকে কেউ দেয়নি।এ সময় সাংবাদিকরা হাততালি দিলে তিনি বলেন,তালি বাজানোর কিছু নেই।জনগণ ভোট দিলে আছি,না দিলে নাই।যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে বুধবার বিকেল ৪টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,যার সঙ্গেই কথা বলেছি,তারা বলেছেন,তারা চান আগামীতেও যেন আমাদের সঙ্গে দেখা হয়।কিন্তু আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে কী হবে না হবে,তা নিয়ে কোনও কথা হয়নি।তবে যাদের সঙ্গে কথা বলেছি,তারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন,আমি যেন পুনরায় ক্ষমতায় আসি।তিনি আরও বলেন,আমি বলেছি,আমাদের দেশে আগে কী হতো,মিলিটারি ডিক্টেটর থাকতে, নির্বাচন বলতে কী হতো? স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকা,নির্বাচনি পরিবেশের যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, সেটা আমরাই করেছি। আমাদের সরকারের আমলে ছয় হাজারের ওপরে নির্বাচন হয়েছে,কয়টা নির্বাচনে আমরা হস্তক্ষেপ করেছি? বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন তদন্ত শুরু করেছে। তারা তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে। আমরা তো সেখানে হস্তক্ষেপ করিনি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন,সিলেটে আমরা হেরে গেছি। সামান্য ভোটে। বিএনপি থাকলে তো সিল মেরেই নিয়ে নিতো।আমরা তো সে পথে যাইনি।কাজেই আমাদের ওপর মানুষের আস্থা-বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন,আমরা দেশের উন্নয় করি মনের টানে,নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করি না।তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে দেওয়া মামলা প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন,২০০৭ সালে কাদের পত্রিকায় বড় বড় হেডলাইন, প্রতিদিন আমাকে দুর্নীতিবাজ বানানোর অপচেষ্টা ছিল? আমার বিরুদ্ধে একের পর এক, মোট ১৬টা মামলা দিয়েছে। প্রত্যেকটা মামলা তদন্ত করে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এখনও কেউ কেউ বসে থাকে যে সরকার চলে যাবে, যারা মানুষের কাছে ভোট চাইতেও যাবে না,তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ আছে।তাদের খায়েশ পূরণ করতে গিয়ে তো মানুষকে খেসারত দিতে হয়।জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশে ১৯টা ক্যু হয়েছে। এটা নিশ্চয় আমাদের কারও ভুলে যাওয়া উচিত না।

শেখ হাসিনা বলেন,আজকে ১০ বছর ক্ষমতায় আছি।সবাই শান্তিতে আছে।এটাই তো সব না।যারা ষড়যন্ত্র বা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের দ্বারা উপকৃত,তাদের তো একটা আকাঙ্ক্ষা থেকেই যায়।তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে গিয়েই তো দেশকে বারবার বিপদে পড়তে হয়।তিনি আরও বলেন,৪১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করবো,২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান অনুযায়ী।

‘‘আপনি মাত্র এসেই আপনার দলের কর্মীদের বলেছেন,দেশে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে।আপনি কী ধরনের ষড়যন্ত্রের অনুমান করছেন?’’এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,ষড়য্ন্ত্র তো একটা থাকবেই।তবে এটা নিয়ে পরোয়া করি না।খালি আমার নেতাকর্মীদের একটু সতর্ক করতে চাই।তারা ভাবছেন ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলাম।অনেক ভালো কাজ করেছি।আবারও ক্ষমতায় আসবো। কিন্তু বাংলাদেশ তো সে রকম দেশ না।রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে ইতোমধ্যেই মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন,বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছি।বিষয়টা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে।রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে বিশ্বনেতারা মিয়ানমারের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।’

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে গত ১ অক্টোবর দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এর আগে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশ ত্যাগ করেন তিনি।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x