• রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২০

আগে রাজাকার ভালো ছিলো, এখন বুঝি খারাপ?:বি চৌধুরীকে কর্নেল অলি

Posted on by

বিকল্পধারার চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপর মহাসচিব থাকাকালে রাজাকারদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তবে এখন কেন তিনি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে জামায়াত নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন- এই প্রশ্ন তুলে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে এক হাত নিলেন ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ।

জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে থাকলে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য নয়- বি. চৌধুরীর এমন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তার সমালোচনায় মাতেন অলি। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এলডিপির দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

বি চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট আর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরামের সঙ্গে ঐক্যের জন্য মরিয়া বিএনপি, যাকে তারা বলছে ‘জাতীয় ঐক্য’। তবে অলি আহমেদ এই ঐক্যের পক্ষে নন। নানা সময় তিনি ও তার দলের নেতারা সরাসরিই অবস্থান জানিয়ে এসেছেন।

এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘বি. চৌধুরী যখন বিএনপির মহাসিচব ছিলেন তখন মসুলিম লীগের শাহ আজিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জয়পুরহাটের আব্দুল আলীম (মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত) ছিলেন রেলমন্ত্রী। এ ধরনের আরও অনেকেই বিএনপিতে ছিল।’

‘বি. চৌধুরী যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন তখন মুজাহিদ (জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ) এবং নিজামী (জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, মুজাহিদের পাশাপাশি যার ফাঁসি হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়) মন্ত্রিসভার সদস্য ছিল। তাহলে সময়ের প্রেক্ষিতে বক্তব্যের পার্থক্য হচ্ছে কেন?’

‘মাংস হালাল আর ঝোল হারাম এটা কেন’- বি. চৌধুরীকে এই প্রশ্ন রেখে অলি বলেন, ‘মহাসচিব থাকা অবস্থায় সব রাজাকাররা ভালো ছিল আর এখন তারাই রাজাকার, দেশদ্রোহী!’।

বি. চৌধুরী ও কামাল হোসেনের সঙ্গে ঐক্য চেষ্টায় থাকা বিএনপিকেও একহাত নেন অলি। বলেন, ‘বলি জনগণের কাছে যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, দোকানদারের কাছে যারা পরাজিত, তাদেরকে মাহাথির মোহাম্মদ বানান কেন?’

‘৯০ বছরের বুড়োকে ৮০ বছর বানানো যাবে কিন্তু ৫০ বছর বানানো যাবে না। মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার জন্মদাতা, আধুনিক মালয়েশিয়ার নির্মাতা। যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নেই।’

বি. চৌধুরীর ছেলে মাহী বি চৌধুরীর প্রতি ইঙ্গিত করে অলি বলেন, ‘‘আমরা তো ছেলের কাছে বিক্রি হয়ে যাই। যারা আজকে ঐক্যজোটে আছে তাদের অনেকের ছেলে ভিওআইপি ব্যবসা করে।’

‘ভিওআইপি ব্যবসা কার থেকে নিয়েছে? আওয়ামী লীগের থেকে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে? আর এদিকে বলছে ঐক্য করতেছি। রুমের ভেতরে থাকলে একরকম আর বাইরে অন্য রকম।’

বিএনপিকে ২০ দলের শরিকদের বিষয়ে আরও মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অলি বলেন, ‘জোটে আমাদের অবস্থান বিএনপি স্পষ্ট করতে পারেনি। এটা স্পষ্ট করা উচিত।’

ড. কামালের পক্ষ থেকে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মঈনুল হোসেন তার কাছে বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন বলেও জানান অলি। বলেন, “তিনি বলেছেন, ‘আপনি যদি আসেন এ মুভমেন্টে গতি সঞ্চারিত হবে’। উত্তরে বলেছি, ‘আমি দুর্নীতিবাজ নই।

আমি পরিষ্কার কথা বলি, আমি গেলে গতি সঞ্চারিত হবে তা জানি। তবে আমি ওখানে কাউকে নেতা বানানোর জন্য যাব না। আমি যাব দেশের গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে। সেটাতে যদি আসেন তাহলে কথা বলেন’।”

বিএনপিকে নিজের শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে দলটির সাবেক নেতা বলেন, ‘বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। তারা যদি এ স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্কার করে পুনর্গঠন করে এখনও তাদের পক্ষে যে কোনো কাজ করা সম্ভব।’

এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদৎ হোসেন সেলিমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সিনহারর সঙ্গে জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বৈঠকের মিথ্যা সংবাদ প্রচাররের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে আমাদের সময় ডট কম-এ ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘এসকে সিনহা বৈঠক করবেন জামায়াত নেতা রাজ্জাকের সঙ্গে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বৃহ্স্পতিবার ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক সংবাদপত্রে পাঠানো প্রতিবাদে বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। উক্ত শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন’ যা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন।

শিবিরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত, সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইনসহ নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা এবং ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে শিবির নেতাকর্মীদেরকে গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠা মুক্তিকামী জনতাকে

দমন করতে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সারাদেশে গণগ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলার ফ্যাসিবাদী পথ বেছে নিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে অবৈধ সরকার চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। যা গত কয়েক দিন যাবত চলছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় শফিউল আলম তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধুকে নিয়ে হজ্জ ফেরত মা ও বড় ভাইকে রিসিভ করতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যান।

মা ও বড় ভাইকে নিয়ে বাসার উদ্দেশে গাড়িতে উঠলে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা মায়ের ভাইয়ের সামনে থেকেই শাফিউল আলমকে তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধু সহ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

পরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে মো. শফিউল্লাহ ও মো. মাআজ নামে আরো দুই শিবির কর্মীকে প্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে হাজির না করে গুম করে রাখে। মামলায় পুলিশ উল্লেখ করেছে ৫ জনকে গতকাল গ্রেফতার করা হয়েছে।

অথচ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আরো ১৬ দিন আগেই। এ বিষয়ে পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। প্রায় সব গণমাধ্যমে গ্রেফতারের পর গুমের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হয়েছে।

আজ ১৬ দিন পর তাদের নামে মিথ্যা বিষ্ফোরক মামলা দিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

একই সাথে পুলিশ এই বানোয়াট মামলার সাথে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ নেতৃবৃন্দকে জড়িয়েছে। যা পুলিশের দায়িত্বহীনতার আরেকটি ঘৃন্য নজির।

এমনিতেই গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির না করে ১৬দিন গুম রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার চরম লঙ্ঘন। তারওপর সরকারের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি, সেক্রেটারি জেনারেল,

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা মহানগরীর নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ যে কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে উঠেছে তার প্রমাণ দিয়েছে। মূলত ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করতেই শিবির নেতাকর্মীদের বেআইনি ভাবে ১৬ দিন গুম করে রেখেছে পুলিশ। এর আগেও পুলিশ বহুবার এমন জঘন্য নাটক সাজিয়েছে।

প্রতিবার গণধিক্কার পেলেও পুলিশ এই অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে। জনগণ পুলিশের এমন দায়িত্বহীন ও সেবাদাস চরিত্রের সাথে আগে থেকেই পরিচিত। আইনের রক্ষকের পোষাক পড়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করায় পুলিশের প্রতি জনগণের নূন্যতম শ্রদ্ধা,

আস্থা ও বিশ্বাসটুকুও উঠে গেছে। যা দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিবে। আমরা পুলিশের এই নিচু মানসিকতা, দায়িত্বহীনতা ও আইনের পোষাকে বেআইনি অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অন্যদিকে সারাদেশে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের উপর নির্বিচারে গণগ্রেফতার চালাচ্ছে পুলিশ।

আজও কোন কারণ ছাড়াই ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরী সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবসহ প্রায় ১৭ জন নেতাকর্মীকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ জন নেতাকর্মীকে। এভাবে প্রতিদিনই অন্যায় ভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পরিকল্পিত ভাবে সারাদেশে জামায়াত-শিবির ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উপর ধরপাকড় চালাচ্ছে সরকার।

নির্বিচার গ্রেফতারের মাধ্যমে ছাত্রদের শিক্ষা জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। বেআইনি ও অমানবিক গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে অবৈধ সরকার নিজেদের দেওলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার নামে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গ্রেপ্তারের পরপরই আইনের তোয়াক্কা না করে নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন নিপীড়ণ চালাচ্ছে।

জাতীয় সংকটকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ আওয়ামীলীগ যে আজ কতটা দেউলিয়া হয়ে গেছে তা তাদের কর্মকান্ডেই পরিস্কার হয়ে গেছে। কিন্তু গ্রেপ্তার নির্যাতন আর মিথ্যা মামলা দিয়ে অবৈধ সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।

অবিলম্বে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল নেতাকর্মীর নামে দেয়া সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বিচার গণগ্রেপ্তার বন্ধ ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় ফ্যাসিবাদী সরকারের এই স্বৈরাচারি আচরণ দেশে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। আর সব কিছুর জন্য সরকার ও প্রশাসনকেই দায়ী থাকতে হবে।

নেতৃবৃন্দ গণগ্রেফতার ও গণহয়রানি বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x