• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০

আসছে বৃহত্তর ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

Posted on by

সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ প্রকাশ্য হতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যের সমাবেশ থেকেই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস মিলেছে।উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন- সমাবেশে বিএনপি, তিন দলীয় যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি-বাসদ নেতৃত্বাধীন আট দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ সরকারের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এছাড়াও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।সমাবেশের বিষয়ে ড. কামাল হোসেন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের বর্তমান বিরাজমান অবস্থা, তার পরিবর্তনের পক্ষে জনগণের মধ্যে একটি ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। এই ঐকমত্যকে একটি কার্যকর লক্ষ্যের দিকে যাওয়াই সমাবেশের মূল ফোকাস।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তাফা আমিন বৃহস্পতিবার আজকালের খবরকে বলেন, ‘২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চের সমাবেশের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের চিঠি দিয়ে দলীয় কর্মীসহ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সমাবেশ থেকে বৃহত্তর ঐক্যের লক্ষ্যে আরও বড় পরিসরে যাত্রা শুরু হবে। একইসঙ্গে আগামী দিনের বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে।’উদ্যোক্তারা জানান, ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতারা। সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে প্রতিদিনই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকও হয়েছে। সমাবেশ থেকে একটি যৌথ বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের একটি সমন্বিত বক্তব্যের সঙ্গে সমাবেশে আসা রাজনীতিকদের সম্মতি নেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।

শনিবারের সমাবেশ থেকে কর্মসূচি আসবে কি না? এর জবাবে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী আজকালের খবরকে বলেন, ‘সমাবেশে চমক থাকবে এতটুকু বলতে পারি। তবে নতুন কোনো দফা বা দাবি-দাওয়া দেওয়া হবে না। কেননা যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার দফাগুলো ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সম্মত হয়েছে বিএনপি, গণফোরাম, যুক্তফ্রন্টে থাকা বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্য এবং বাম গণতান্ত্রিক ধারার পৃথক কয়েকটি দল। এছাড়াও আট দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও একই প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।এসব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাম জোটের কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার কারণে সেই বৈঠকটি হয়নি। দ্রুতই সেই বৈঠকটি হবে। অন্যদিকে শিগগিরই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও বৈঠকের আশা করছেন বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নেতারা।

৮ দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক গতরাতে আজকালের খবরকে বলেন, ‘২২ তারিখের সমাবেশের আমন্ত্রণ আমরা পেয়েছি। আমাদের জোটের বৈঠকে সেই সমাবেশে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বৃহত্তর ঐক্যে যোগদানের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তাদের দাবিগুলো ন্যায্য ও যৌক্তিক। এর মধ্যে বেশ কিছু দাবি আদায়ে আমরা ইতোমধ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম নেতাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের কর্মসূচিতে হামলার কারণে সেই বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে। খুব শিগগিরই বৈঠকটি হবে।’যুক্তফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না আজকালের খবরকে বলেন, শনিবারে সমাবেশে আমরা যাবো। আশা করছি বি চৌধুরী সাহেবও থাকবেন।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় আজকালের খবরকে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে ২২ তারিখের সমাবেশের আমন্ত্রণ আমরা পেয়েছি। তবে সমাবেশে যোগদানের বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

অন্যদিকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী বিএনপি। যে কোনো মূল্যে তারা এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন দেখতে চাইছে। এই বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে প্রয়োজনে ড. কামাল হোসেনকে মূল নেতৃত্বে রাখতে নীতিগতভাবেও সম্মত হয়েছে বিএনপি। গত কয়েকদিনে দলটির দায়িত্বশীল নেতাদের কথাতেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের কথা বলে গেছেন। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারকে সরাতে বৃহত্তর ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। যে দুঃশাসন, সমগ্র জাতির ওপর চেপে বসেছে। একে সরাতে হলে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একে সরাতে হলে সমগ্র রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে এক হতে হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’এর কয়েকদিন আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘এই সরকারের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের মধ্য দিয়েই সরকারকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে।’

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বিএনপি যোগ দিচ্ছে কি না? এর জবাবে বিএনপি মহাসচিব গতরাতে আজকালের খবরকে বলেন, ‘হ্যাঁ। ড. কামাল হোসেন সাহেবের শনিবারের সমাবেশে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। তবে সেই প্রতিনিধি দলে কারা থাকবেন তা এখনও ঠিক হয় নি।’২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশের প্রস্তুতিসহ সার্বিক বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ওই সমাবেশ করার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিক অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছে।আরও জানানো হয়- শনিবারের সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন মোস্তাফা মোহসীন মন্টু ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। সভা পরিচালনা করবেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তাফা আমীন।

Bangla voice..

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x