• শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০

ভোলার খবর

Posted on by

ভোলার  স্কুলছাদে দৃষ্টিনন্দন বাগান
ভোলা প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ের ছাদে সারি সারি ড্রাম আর মাটির টবে বেড়ে উঠা গাছের ডালে ঝাঁকে ঝাঁকে ঝুলে থাকা নানান প্রজাতির ফল, ফুল আর সবজি দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জন করছে।বিদ্যালয়ের ছাদজুড়ে ফুল আর ফলের শোভিত বাগান দেখতে ভীড় করছে উৎসাহী মানুষ।
বিশেষ করে নিজেদের হাতে গড়া বিদ্যালয়ের বাগানে কমলা মালটা আঙ্গুরের মতো ফল দেখে শিশুরাও সীমাহীন আনন্দে ভাসছে।
ভোলার প্রত্যন্তগ্রামে ছাদবাগানের এই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চরফ্যাশনের মাঝের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলা সদর থেকে ৩৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তেতুলিয়া পাড়ের গ্রাম মাঝের চর।
এই গ্রামের মধ্যাঞ্চলে মাঝের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। বিদ্যালয়ের আছে দু’টি দ্বিতল ভবন। একটি ভবনের ছাদে ফল,ফুল আর ওষুধি বৃক্ষের বাগান এবং অপর ভবনের ছাদে সবজি বাগান ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাকি খানম জানান- গত বছরের জুন-জুলাই মাসে ছাদবাগান সৃজন শুরু করা হয়। শিক্ষকদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কাউন্সিল সদস্যরা ‘সবুজ প্রকল্প’ নামে এই বাগান সৃজন করেছে। বর্তমানে বাগানের গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আম, ছাবেদা, কাগজি লেবু, কমলা, মালটা, আমড়া, কামরাঙ্গা, জলপাই, পেয়ারা, আঙ্গুর এবং লিচু ফল । সবজি বাগানে ক্ষেত মরিচ, বোম্বাই মরিচ, বেগুণ আর পেপে চাষ করা হয়েছে।
এছাড়াও চার জাতের গোলাপসহ ৩০ প্রজাতির ফুল এবং ১০ প্রজাতির ওষুধি গাছ আছে এই বাগানে। এই ছাদবাগান সৃজনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬১ হাজার টাকা। বিদ্যালয়ের ছাদে দৃষ্টিনন্দন এই বাগানের উদ্যোক্তা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান- শুরুতে নিজেদের অর্থে বাগান সৃজন করা হয়।
পরবর্তীতে বাগান পরিদর্শনে এসে স্থানীয় নজরুল নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন হাওলাদার, চর কলমী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাউছার আহমদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার খালিদ হোসেন, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোমিন হোসেন, স্থানীয় মেম্বার রিয়াদ বিশ্বাস, যুবলীগ নেতা আকতার হোসেন বাবুল, এসএমসির সভাপতি ও সদস্যগণসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বাগান সৃজনের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন।
সকলের উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি বর্ষা মৌসুমে সৃজিত বাগান সম্প্রসারণের কাজ হাতে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাকি খানম।
জানাযায়-চরফ্যাশন উপজেলায় বিদ্যালয় ছাদে বাগান সৃজনের এটা প্রথম দৃষ্টান্ত। বাগানের গাছে গাছে ফুল আর ফলের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে আসছেন।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও বাগানটি পরিদর্শনে আসছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার খালিদ হোসেন, ইউআর সি ইন্সট্রাক্টর মমিন হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ বাগানটি পরিদর্শন করেছেন।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বলেছেন-বিদ্যালয় ছাদে বাগান একটি প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় প্রচেষ্টা। বাগানটি পরিদর্শন করে আমি নিজেও অভিভূত হয়েছি। উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বাগানটি পরিদর্শনের জন্য বলা হয়েছে। যাতে উপজেলার সব বিদ্যালয়ে এই ধারনা ছড়িয়ে দেয়া যায়।

ভোলা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের চলছে হারবাল চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা 

ভোলা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদে ইউনানী-আয়ুর্বেদ, ভেষজ, হারবাল ও কবিরাজি দাওয়াখানার চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা ও টাকা হাতিয়ে নেয়ার অপকৌশল।
নিরীহ সহজ-সরল অসহায় মানুষের কাছ থেকে অপচিকিৎসার নামে তারা হাতিয়ে নেয় প্রচুর অর্থ। এসব বিষয় দেখার যেন কেউ নেই।
সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো বন্ধে সরকারি কোনো সংস্থা উদ্যোগ নিচ্ছে না। কথিত হারবাল সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা নিয়ে রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দূরের কথা, উল্টো অপচিকিৎসার শিকার হয়ে শারীরিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এ ধরনের হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছে কতিপয় ব্যক্তি ও অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান। এলাকার অলিগলির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রচারপত্রে এসব চিকিৎসক যৌন দুর্বলতার চিকিৎসার নামে পুরুষ ও মহিলাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তারা প্রথমেই হরেক রকমের বাহারি চকচকে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে লোভে ফেলার অপচেষ্টা চালায়। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট, হাজিরহাট, বাংলাবাজার, মুন্সীরহাট, চৌমহনী বাজার, একতাবাজার, শিবারহাট, মৌলভীবাজার, জনতাবাজার, মুখারবান্দা, লেতরাবাজার, চেয়ারম্যান বাজার, কেরামতগঞ্জ, ঢালিরহাট, শেমগঞ্জ, গাছিরখাল বাজার, আঞ্জুরহাট, দাশেরহাট, কাজলবাজার, নজির মাঝি, গুলিস্থান বাজার, রৌর্দ্দেরহাট, মতলবমিয়া বাজার, চৌকিদার বাজার, মাঝিরহাট, উত্তর আইচা, দক্ষিণ আইচা, ঢালচর বাজার ও কুকরী-মুকরী বাজার সহ ভোলা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলছে হরহামেশা।
এসব বাজারে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক হারবাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার নামে চলছে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা।
এদিকে কথিত হারবাল সেন্টারগুলো ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে মহৌষধের দোকান খুলে বসে আছে। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চিকিৎসালয়ের সংখ্যা কত এবং ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের কতগুলো প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে- এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই ওষুধ প্রশাসন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে।
এরপরও সব রোগের চিকিৎসার গ্যারান্টি সহকারে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে, কুরুচিপূর্ণ প্রচারপত্র বিলি করে ও ক্যাবল টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রামীণ জনপদের একশ্রেণীর হতাশাগ্রস্ত ও দিশেহেরা সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে মোট অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
দক্ষিণ ফ্যাশন গ্রামের মোতাসিম বিল্লাহ জানান, আমি হারবাল ওষুধ খেয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। পরে ঢাকা গিয়ে চিকিৎসা করাতেহয়েছে।চরমাদ্রাজ গ্রামের রাবিয়া বেগম বলেন, আমি মোটা হওয়ার ওষুধ খেয়েছিলাম। পরে আমার শরীরে পানি জমে গেছে। আমি বরিশাল গিয়ে ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তার বলেছেন আরও পরে এলে কিডনিতে বড় ধরনের সমস্যা হতো।
দীর্ঘ পাঁচ মাস ওষুধ খেয়ে ভালো হয়েছি। ড্রাগ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, কোনো ফার্মেসি দিতে হলে সরকারিভাবে ড্রাগ লাইসেন্স প্রয়োজন।
চরফ্যাশনে কোনো হারবাল চিকিৎসালয়ের ড্রাগ লাইসেন্স নেই। কয়েকটি হারবাল ফার্মেসিকে বারবার তাগাদা দেয়া হয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শোভন বসাক বলেন, হারবাল চিকিৎসার কোনো বৈধতা নেই।
অনেক রোগীর জীবন শেষ করে দেয়া হয়। হারবালের ওষুধ সেবন করে ক্ষতির শিকার অনেক রোগীর চিকিৎসা আমি করেছি। এ বিষয়গুলোর প্রতি সরকারের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

ভোলার আখের বাম্পার ফলন 

ভোলার আখের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকা,ভালো জাত নির্বাচন,রোগব্যাধি কম থাকা,সময় মতো কৃষি উপকরণ এবং পরামর্শ পাওয়ায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ফলন বেশী হয়েছে এমন দাবী কৃষি অফিস ও কৃষকদের। আগাম আখ বাজারে আসায় কৃষকরা বাজার দাম ও বেশী পাচ্ছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর এ উপজেলায় ১৩০-হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আখ আবাদ হয়েছে। অমৃত, রংবিলাশ, ঈশ্বরদি-১.২ সিএসি ২০৮ জাতের আখের গড়ে হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৪৫ টন ।
এ বছরই প্রথম বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষনা কেন্দ্র কর্তৃক উদ্ভাবিত অমৃত এবং রং বিলাশ জাত ইক্ষু বোরহানউদ্দিনে চাষ করা হয়। প্রতি একর জমি থেকে কৃষকরা ৩০হাজার টাকার আখ বিক্রয় করছে।
আখ উৎপাদনে ঝুকি কম, এছাড়া ও এর সাথে সাথি ফসল উৎপাদ করে বাড়তি টাকা আয় করা যায়।যার কারণে আখের উৎপাদন খরচ কম হয়। এতে করে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখ চাষে বেশী লাভবান হন। এ কারণে কৃষকরা আখ চাষের দিকে ঝুকছেন।
উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৩ ওয়ার্ডের বোরহানউদ্দিন কামিল মাদরাসা সংলগ্ন কয়েকটি আখ ক্ষেত পরিদর্শনে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন আখ চাষির সাথে।
ওই এলাকার ইছাহাক মিয়া জানায়, চলতি বছর তিনি ৪৪ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেন। এতে খরচ হয় ৪০হাজার টাকা। ওই জমির আখ তিনি ক্ষেতেই ১লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করেন। তিনি আরও জানান, ধানের চেয়ে আখে খরচ ও পরিশ্রম কম কিন্ত আয় বেশী। গত বছরের চেয়ে এ বছর তিনি আখ বেশী করেন বলে জানান।
আখ চাষী পলাশ মোল্লা, হারুন, শরীফ, ও খোকন জানায়, আখের রোগ বালাই কম।অন্য ফসলের মতো এতো যত্ন করতে হয় না।আখ বিক্রয় করে অর্ধেক অর্ধেক লাভবান হওয়া যায়।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো: ওমর ফারুখ জানান, আখ চাষ একটি লাভ জনক । লাল পচা রোগ ছাড়া তেমন জটিল রোগ নেই এ ফসলে। বর্তমানে আমরা এ উপজেলায় চিবিয়ে খাওয়ার উপেযোগী জাতের আখ চাষের জন্য চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছি।

Leave a Reply

More News from গ্রাম বাংলা

More News

Developed by: TechLoge

x