• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০

‘ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বস্তু নয়, দায়িত্বের’

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ ক্ষমতা শুধু ভোগের বস্তু নয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ক্ষমতা শুধু ভোগের বস্তু নয়, ক্ষমতা হলো দায়িত্বের। জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন করলে দেশ এগিয়ে যায়। মানুষের কল্যাণ হয়।’

শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোকেয়া হলের ‘৭ মার্চ’ ভবন উদ্বোধনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেছেন।এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার জন্য আমরা যা খরচ করি, সেটাকে আমি কখনোই খরচ হিসেবে মনে করি না। এটাকে আমি বিনিয়োগ মনে করি, ভবিষ্যতে দেশ গড়ার জন্য শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ নির্মাণের জন্য বিনিয়োগ। একারণে যারা শিক্ষা দেবেন ও শিক্ষা গ্রহণ করবে, তারাও যেনো নিজেকে সেভাবেই গড়ে তোলেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে সরকারের খরচের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের খরচে চলতে হয়, এটাই নিয়ম। কিন্তু আমাদের দেশে শতভাগ খরচই সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীরা যেনো নিজেদের দায়িত্ব ভুলে না যায়। কোনও উচ্ছৃঙ্খলতা কাম্য নয়। বরং দেশ গড়ার জন্য তারা যেনো নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলে।’

দেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবাষির্কী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হবে। রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ, ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে কর্ণফুলি নদীর টানেল পর্যন্ত আমরা নির্মাণ করছি। দেশে মানুষ বাড়ছে, মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে দেশের মানুষ যথেষ্ট অগ্রগামী। একটু শিক্ষা দিলেই তারা করে ফেলতে পারে। দেশের বাইরে গেলে বিভিন্ন সরকার প্রধানরা জানতে চান- ম্যাজিকটা কী? আমি শুধু একটা কথাই বলি- ক্ষমতা শুরু ভোগের বস্তু নয়, ক্ষমতা হলো দায়িত্বের। জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন করলে দেশ এগিয়ে যায়। মানুষের কল্যাণ হয়।’

শিক্ষার গুরুত্বের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শিক্ষার ওপর আমরা সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। শিক্ষাকে বহুমুখীকরণ ও জনগোষ্ঠীর কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষা। আমরা শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড করেছি যার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়েও বৃত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে চাই। বিজ্ঞান পড়ার দিকে ছেলেমেয়েদের ঝোঁক বাড়ানোর জন্য ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামটি ঠিক করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলার জন্য। এছাড়াও মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন জেলায় আরও বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। শিক্ষাকে বহুমুখী করা ও বহুমুখী গবেষণার জন্য সরকার প্রতিবারই আলাদা বরাদ্দ রাখছে।’

দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের প্রত্যেকটা জেলাকে নিরক্ষরতামুক্ত জেলা হিসেবে গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম, প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক সেবার উদ্যোগ করেছিলাম, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি এসব বন্ধ করে দেয়। সেসময় দেশে স্বাক্ষরতার হারও কমে যায়। যাই হোক, এখন আমরা আবার কাজ করছি।দেশে স্বাক্ষরতার হারও আবার বাড়ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’

জাতির গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৫২ সালের মাতৃভাষার সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, সর্বক্ষেত্রেই অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে। সেকারণেই এই বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা গুরুত্ব বহন করে। ছয় দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে যত সংগ্রাম আন্দোলন হয়েছে, সব আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার প্রতিটি আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনেক।’

বঙ্গবন্ধু ও ৭ মার্চ প্রসঙ্গে তিনি আরও বেলন, ‘৭ মার্চের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িত, ৭ মার্চের ভাষণ জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং সেই ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র গঠন করা এবং দেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল জাতির পিতার জীবনের লক্ষ্য। আজকে বাংলাদেশের যতটুকু অর্জন তা জাতির পিতার অবদান। স্বাধীনতার পর তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর ছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই কীভাবে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন সেসব পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। স্থল সীমান্ত চুক্তি থেকে সমুদ্রের সীমারেখা- সবকিছু নিয়েই পরিকল্পনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আজকে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তার ভিত্তি রচনা করে গিয়েছেন তিনি।’

এক পর্যায়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একটা দুঃখ আছে মনে- আমার বাবাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি, তিনি কর্মচারীদের অধিকার আন্দোলনে গিয়ে বহিষ্কৃত হন। আর ১৯৭৫ সালের ট্রাজেডির পর আমিও আমার লেখাপড়া শেষ করতে পারিনি। তবে আমাকে অনারারি ডিগ্রি (মাস্টার্স ডিগ্রি দেওয়ায়) আমি ধন্যবাদ জানাই।’ এছাড়া বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় আরও একবার ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, সহ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ (প্রশাসন), সহ-উপাচার্য নাসরীন আহমাদ, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ আরও অনেকে।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x