• সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২০

রাস্তায় নিম্নমানের ইট, ভাঙছে বালির অভাবে

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্ক : নিম্নমানের ইট বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। সেই বিছানো ইটের ওপর দেওয়া হয়নি কোনো বালি। বালি না থাকায় নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ভাঙতে শুরু করেছে ইটগুলো। আর আলগা, উচু-নিচু ইটের উপর দিয়ে যানবাহন চলাকালে ঘড়ঘড় শব্দ শুনছে পথচারীরা। কষ্ট করেই চলতে হচ্ছে এলজিইডির পক্ষ থেকে সদ্য নির্মিত সড়কটি দিয়ে।
এই বেহাল অবস্থা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আলাইপুর জামতলা থেকে চিত্রা নদী পর্যন্ত সড়কটির। স্থানীয়রা বলছেন, তারা নিম্নমানের ইট ব্যবহার না করার অনুরোধ করেও ব্যর্থ হয়েছেন। আর অসংখ্যবার ইটের উপর বালি দেওয়ার অনুরোধও করেছেন, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। উল্টো ঠিকাদার এই কাজের চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন বলে তারা শুনেছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের আলাইপুর ও আলুকদিয়া গ্রামের লোকজনের চলাচলের একমাত্র রাস্তা আলাইপুর জামতলা-চিত্রা নদী রাস্তাটি। একটি সড়কটি ইতিপূর্বে কাঁচা ছিল। স্থানীয় এলজিইডি রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নেন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আইআরআইডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকা করার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দেড় কিলোমিটার রাস্তার কাজের জন্য ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার ৪৭৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট কাজটি শুরুর শেষ সময় ছিল, আর শেষ হওয়ার কথা ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ। কাজটি পান ঝিনাইদহের ঠিকাদার মেসার্স কাজী মাহাবুবুর রহমান। কিন্তু ঠিকাদার কাজটি শুরু করতে দেরি করেন। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে ঠিকাদার রাস্তা নির্মাণ শুরু করেন। চলতি বছরের ৩০ মে কাজ শেষ করেছেন। আর ১১ জুন চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাত্র দুই মাস আগে ইট বিছানো রাস্তাটি ইতিমধ্যে ভাঙতে শুরু করেছে। বিছানো ইট খুবই নিম্নমানের। তাও আবার ফাঁকা করে সাজানো হয়েছে। ফাঁকা স্থান বালি দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। যে কারণে যানবাহন চলাচলের সময় ইটগুলো ভেঙে যাচ্ছে। অনেক স্থানে নিম্নমানের ইট গুঁড়ো হয়ে গেছে।
আলাইপুর গ্রামের রকি ইসলাম জানান, তারা প্রায় দুই বছর আগে জানতে পারেন রাস্তাটি পাকা হবে। কিন্তু কাজ শুরু হচ্ছিল না। অবশেষে কাজটি শুরু হয়। অত্যন্ত নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করার সময় তারা আপত্তি করেন। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন শোনেননি। সবশেষে ইট বিছিয়ে তার ওপর বালি না দিয়ে ঠিকাদার লোকজন ফিরিয়ে নিয়ে যান। তারা এই বিষয়টিও অনুরোধ করেন। বালি দিলে কিছুদিন হলেও রাস্তাটি ভালো থাকবে বললেও ঠিকাদার তা শোনেননি। বিছানো ইটগুলো আলগা রেখেই কাজ শেষ করেছেন। এখন ওই ইটের উপর দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। আর আলগা ইটগুলো যানবাহনের ভারে ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। একই গ্রামের মশিয়ার রহমান জানান, কাজটি এতোটাই নিম্নমানের হয়েছে যে, নির্মাণ শেষ হতে না হতেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী অভিজিৎকুমার বিশ্বাস জানান, জুন মাসে কাজ শেষ করেন ঠিকাদার। সেই সময়ে কাজের প্রচণ্ড চাপ ছিল। তিনি নিজে না পারলেও অফিসের লোক দিয়ে খোঁজ নিয়ে চূড়ান্ত বিল তৈরি করেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, রাস্তায় বিছানো ইটের উপর বালি দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ঠিকাদারের জামানতের টাকা রয়েছে। এই টাকা দিয়ে বালি কিনে রাস্তায় দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস মাহাবুবুর রহমান-এর মালিক মাহাবুবুর রহমান জানান, কাজটি তার লাইসেন্সে পেলেও বাস্তবায়ন করেন আবু সাঈদ নামে এক ঠিকাদার। তিনি কাজটি তুলতে বিলম্ব করেছেন। আর ইটের ফাঁকে বালি দেওয়া হয়েছে কি-না তা তিনি জানেন না। তবে আবু সাঈদ হজ করতে সৌদি আরব থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
অনিয়ম হলে সাঈদ দেশে ফেরার পর ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান ঠিকাদার মাহাবুবুর।

Leave a Reply

More News from গ্রাম বাংলা

More News

Developed by: TechLoge

x