• শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০

যশোরে প্রকাশ্যে বিএনপি কর্মী হত্যা

Posted on by

 নিউজ লাইফ ডেস্ক :: যশোর শহরের শংকরপুরে মশিয়ার রহমান (৪৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন। নিহত মশিয়ার শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত তোকাব্বর শেখের ছেলে।
মশিয়ারের ভাতিজা শেখ রিপন বলেন, ‘আমরা বিএনপি করি। একই এলাকার ডাবলুরা আওয়ামী লীগ করে। আমরা আজ দুপুরে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে আসি। সেখানে ডাবলুও ছিল। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের মুদি দোকানে ডাবলুর নেতৃত্বে ১০-১২ জন মিলে ভাঙচুর করে। আমার চাচা মশিয়ার এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ডাবলুরা চলে যায়। আমার চাচা বাড়িতে ফিরে আসেন।’
‘কিছুক্ষণ পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ডাবলুর নেতৃত্বে এলাকার সানি, সম্রাট, মামুনসহ ২০ জনের মতো দুর্বৃত্ত এসে বাড়িতে ঢুকে চাচার বুকের বাম পাশ ও পেটের ডান পাশে ছুরি মারে। এসময় তারা আমাদেরও মারপিট করে। পরে তারা চলে গেলে চাচাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
রিপন বলেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধ ছাড়া তাদের সাথে আমাদের তেমন কোনো শত্রুতা নেই।’
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক আব্দুর রশিদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মশিয়ারের মৃত্যু হয়।
কোতয়ালী থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, খুনিদের আটকে অভিযান শুরু হয়েছে।
নিহত মশিয়ার বিএনপি কর্মী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন যশোর নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু।

স্থানীয়রা বলছেন, গোলাম রসুল ডাবলু সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফার ছোট ভাই ও বাহিনী প্রধান। যশোরের শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের অভিযোগও আছে। সম্প্রতি তিনি ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের যশোর নগর কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন। ঈদের কয়েকদিন আগে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ তাকে আটক করে। কিন্তু পরে পুলিশ তাকে একটি পেন্ডিং মামলায় চালান দেয়। ঈদের তিনদিন আগে জামিনে ছাড়া পায় ডাব্লু।
ডাব্লুর সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকার বিভিন্ন মানুষকে বাড়িতে ঢুকে নির্যাতন করে। আজ নিহত মশিয়ারের ছোট ভাই মতিয়ার রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিকবার তার বাড়িতে হামলা করেছে ডাবলুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা। কয়েকবার মতিয়ার ওরফে মতি সামান্যর জন্য বেঁচে যান। জীবন বাঁচাতে মতি কয়েক বছর এলাকাছাড়া।
মশিয়ার খুনে অভিযুক্ত আরেকজন হলো মিশ্র। সে কাউন্সিলর মোস্তফার ছোট ছেলে ও এলাকার কিশোর সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান।
নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম বলেন, শঙ্করপুর এলাকার এক কাউন্সিলর ও তার ভাই এই খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত।

Leave a Reply

More News from গ্রাম বাংলা

More News

Developed by: TechLoge

x