• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০

আসেম সম্মেলনে আসছেন শেখ হাসিনা ‘বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন’ নিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করবে ইইউ–

Posted on by

 

ইউরোপ প্রতিনিধি : ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর সরকার প্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক আসেম সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের সামনে ‘বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন’ নিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন। এই প্রস্তাবের মধ্যে বাংলাদেশের ‘আগামী সংসদ নির্বাচন’ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে আগামী সংসদ নির্বাচন যদি সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন না হয় তাহলে ‘রাজনৈতিক সংকট’ ও ‘নিরাপত্তা ঝুঁকির ইস্যুটির’ উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এমন তথ্যই আন্তর্জাতিক আসেম সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের সামনে তুলে ধরবে ইউরোপের দেশসমূহের এই জোটটি।

ঢাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপিয় ইউনিয়ন বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো নিয়ে গঠিত হয়েছে আসেম। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৫৩। ইউরোপিয় ইউনিয়ন এ জোটের সদস্য। আগামী ১৮ থেকে ১৯ অক্টোবর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ জোটের ১২তম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশসমূহের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নিবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা এ সম্মেলনে অংশ নিবেন। বিশ্ব নেতাদের মিলন মেলায় পরিণত হবে সম্মেলনস্থল।

জানা গেছে, আসেমে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮ দেশ, তার বাইরে ইউরোপের আরও দুটি দেশ, এশিয়ার ২১ দেশ এবং আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আসিয়ান সচিবালয় সদস্য। বাংলাদেশ ২০১২ সালে আসেমের ৫১তম সদস্য হিসেবে যোগ দেয় আসেমে।

এবারের সম্মেলনে নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাই সাইড লাইনে নিজ নিজ বিষয়ে দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থ নিয়ে অন্য দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসন্ন আসেম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সারসংক্ষেপ তৈরির কাজ চলছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পায় নি। ফলে আন্তর্জাতিক সমর্থন হারায় বর্তমান সরকার।ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় সকল রাষ্ট্রই এই নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আছে।

এই সম্মেলনের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী কোন কোন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন সেই তালিকা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠক সফল করতে বেলজিয়ামে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন
ফলে বিশ্ব নেতাদের এ সম্মেলনে বাংলাদেশ নিয়ে ইউরোপিয় ইউনিয়নের উদ্বেগজনক আলোচনায় বর্তমান সরকার কতটুকু সুবিধা করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রগুলোর চিন্তা ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান করার জন্য এই জোট গঠিত হয় ১৯৯৬। পরবর্তীতে এ জোটে সদস্য রাজনৈতিক বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আসেম গঠিত হওয়ার পর থেকে প্রতি দুই বছরে পর্যায়ক্রমে দুই মহাদেশের সদস্য দেশগুলোতে এর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x