• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০

এবারে কুরবানীর পশুর চামড়া পানির দামে বিক্রির নেপথ্যে

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্ক : চামড়া পাচারের ফলে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। চামড় পাচার ঠেকাতে, সিন্ডিকেটবাজি ঠেকাতে মহল্লাভিত্তিক ক্রয়কেন্দ্র বসানো দরকার। পাশাপাশি চামড়া যাতে যথাযথ মূল্যে বিক্রি হয় সে ব্যবস্থা করা দরকার। কোরবানির চামড়ার কেনা-বেচা নিয়ে প্রতি বছরের এই বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য রোধে দেশব্যাপী সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। সরকারকেই এ উদ্যোগ নিতে হবে।

এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ বেশি হলেও দাম ছিল তলানিতে। গত দশ বছরে এবারের মতো এত মন্দা বাজার দেখেননি আড়তদাররা। পানির দামে চামড়া বিক্রি করে মাথায় হাত মৌসুমি ব্যবসায়ীদেরও। হাজারীবাগের ট্যানারিশিল্প স্থানান্তর, কম দামে চামড়া কিনতে সিন্ডিকেট করার চেষ্টাসহ বিভিন্ন কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এদিকে দেশের ভেতর চামড়ার উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় তা পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার নিয়ে এই বিশৃঙ্খলা-নৈরাজ্য প্রতি বছরের চিত্র। এটাকে কি কোনোভাবেই শৃঙ্খলায় আনা যায় না?

প্রতি বছরের মতো এবারো ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। গত বছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম ধরা হয়েছিল প্রতি বর্গফুট ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা। প্রতি বছর কোরবানির পশুর দাম বাড়লেও ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে বছরের পর বছর চামড়ার দাম কমিয়েই যাচ্ছেন। দাম কম নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। কারণ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এই নির্ধারিত দরে চামড়া কিনতে পারেন না। নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি টাকায় চামড়া কিনে লোকসানে পড়েন অনেক ব্যবসায়ী। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে দেশে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এসব চামড়ার ৬০ শতাংশেরও বেশি সংগ্রহ করা হয় কেবল কোরবানির পশু থেকে। কোরবানিরই এ দেশে পশু চামড়া সংগ্রহের মূল মৌসুম। কাজেই কোরবানি পশুর চামড়ার সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিকিকিনি কেন্দ্রিক যে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ এ সময় চলে একে সুশৃঙ্খল করা, সুপরিকল্পিত ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আনা খুবই জরুরি। অথচ এ কাজটি করা হচ্ছে না। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে-পরে একই চিত্র। প্রতি বছরই চামড়ার দাম নির্ধারণ নিয়ে টালবাহানা করেন ব্যবসায়ীরা। বারবারই দাম নির্ধারণের বিপক্ষে থাকে তাদের অবস্থান। তবে শেষ সময়ে এসে তাড়াহুড়ো করে একটা দাম ধরে দেয়া হয়। কোরবানির পর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এই নির্ধারিত দরে চামড়া কিনতে পারেন না। ফলে নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি টাকায় চামড়া কিনে লোকসানে পড়েন অনেক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া কোরবানির পশুর চামড়ার বিক্রিকৃত টাকা এতিমখানা ও গরিব-দুস্থদের দান করাটাই নিয়ম। কোরবানির চামড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থে এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক খরচের একটি বড় অংশ নির্বাহ করা হয়। কিন্তু চামড়ার দাম প্রতি বছর কমতে থাকায় প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে এভাবে দেশের চামড়ার বাজারে মন্দায় প্রতি বছর ভারতে বিপুল সংখ্যক চামড়া পাচার হয়ে থাকে। সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পরও তা ঠেকানো যায় না কখনো। চামড়া পাচারের ফলে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। চামড়া পাচার ঠেকাতে, সিন্ডিকেটবাজি ঠেকাতে মহল্লাভিত্তিক ক্রয়কেন্দ্র বসানো দরকার। পাশাপাশি চামড়া যাতে যথাযথ মূল্যে বিক্রি হয় সে ব্যবস্থা করা দরকার। কোরবানির চামড়ার কেনা-বেচা নিয়ে প্রতি বছরের এই বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য রোধে দেশব্যাপী সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। সরকারকেই এ উদ্যোগ নিতে হবে।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x