• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

চালকের স্বীকারোক্তি:’ইচ্ছা করেই ছাত্রদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই’

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় আগে যাত্রী উঠানোর জন্য আরেক বাসের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিলাম। ছাত্ররা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় ইচ্ছেকৃতভাবে তাদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই।ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়ে এসব কথা বলেন জাবালে নূর পরিবহনের সেই বাসচালক মাসুম বিল্লাহ।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালতে শহীদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই ছাত্রছাত্রী নিহতের মূল হোতা চালক মাসুম বিল্লাহ এ জবানবন্দি দেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চালক মাসুম বিল্লাহ স্বীকারোক্তিতে আরো বলেন, জাবালে নূর বাসের (যার রেজি. নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭) চালক আমি। ২৯ জুলাই জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারে ওঠার পর বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় আগে যাত্রী উঠানোর জন্য জাবালে নূরের আরেক বাসের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিলাম। ফ্লাইওভারের নিচে নামার সময় দেখি সেখানে জাবালে নূরের আরেকটি বাস। তখন ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪ থেকে ১৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে তাদের গুরুতর জখম করি। এরপর আমি গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যাই। আমার গাড়ির আঘাতেই রমিজ উদ্দিন কলেজের দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আট থেকে দশজন আহত হয়।

সাতদিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম আজ বাসচালক মাসুম বিল্লাহকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন। এ সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় মাসুম বিল্লাহর জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তিনি এবং মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনও করেন। মাসুম বিল্লাহ জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী তাঁর খাসকামরায় ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি রেকর্ড করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, চালক মাসুম বিল্লাহকে স্বীকারোক্তি শেষে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ১ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম এই মামলায় মাসুম বিল্লাহকে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় কলেজশিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব নিহত ও আট থেকে দশজন আহত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে র‍্যাব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের তিনজন চালক ও দুজন সহকারী এবং একটি বাসের মালিককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন বাসচালক জোবায়ের ও সোহাগ আলী, সহকারী এনায়েত হোসেন ও রিপন হোসেন এবং জাবালে নূর পরিবহনের বাসমালিক শাহাদাত হোসেন। তাঁরা সবাই রিমান্ডে রয়েছেন।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x