• শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০

সড়ক দুর্ঘটনা, একটি দেশের সব কিছু যখন তৃতীয় শ্রেণীর হয় তখন সে দেশটির নাম হয় বাংলাদেশ! তারেক মাসুদ ও মিশুক মনিরের দোষ ছিল

Posted on by

রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী  : গত সপ্তাহে আমার মোবাইল ফোনটির দুটি ম্যাসেজ দেখে একটু বিচলিত বোধ করি, একটি ছিল প্রেমের অপরটি ছিল সম্প্রতি দেশে ছাত্র আন্দোলন। প্রথমটি প্রেমের। আমার খুবই প্রিয় একজন মানুষ তিনি লেখক কবি, লিখেছেন ”তুমি আমার অনেক প্রতিক্ষার একটি প্রিয় মুখ, তোমাকে এতটা উদাসিন হওয়া মানায়না। কত মুগ্ধ চোখকে উপেক্ষা করে আমি শুধু তোমাকে নির্বাচিত করেছিলাম, সেই তুমি কতটা স্বচ্চ সুন্দর নির্মল, ঐ আকাশের নীলের মতন, তাহলে কেন মাঝে মাঝে মেঘ হয়ে”বৃষ্টি ঝড়াও। সবুজের ঐ রঙ্গে কেন মাখাও বেদনার নীল রং? সেক্সপিয়ারের একটি কথা মনে পড়ছে “আমি সব সময় নিজেকে সুখী ভাবি, কারন আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করিনা“,

আসলে কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা সব সময় দু:খের কারন হয়ে দাড়ায়, এবার আমার কথা শুনো আমি সে দু:খটাই বয়ে বেড়াতে চাই তোমার জন্য————। ম্যাসেজ পড়ে আমি অবাক হই। কারন মানুষের ভালোবাসা কত গভীর হলে পড়ে একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে এটি লিখতে পারে। আমি কয়েকবার পড়েছি ম্যাসেজটি। ম্যাসেজ পড়ে আমি ঠিক থাকতে পারিনা। কি করবো ভেবে পাইনা। কবি সাহিত্যিক শিল্পীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। ওরা এতটাই —— যে পরের বউয়ের সাথেও ওরা প্রেম করে। অনেকে লিখা পড়ে বলতে পারেন আপনি কি সাধু? না আমি মোটেই সাধুনা। আমি কাউকে ইনভাইট করিনা আমার সাথে প্রেম করার জন্য। আমি কারো পিছনে ঘুরিনা। কোনো মহিলা লন্ডনে অথবা বাংলাদেশে বলতে পারবেনা আমি তাকে বিরক্ত করেছি। উল্টো মহিলারা আমাকে বিরক্ত করেছেন। এটা আমার অহংকারের কোনো বিষয় নয়, অহংকারের কোনো জায়গাও নয়। আমার কেন জানি লজ্জা হয়, কাউকে বলতে আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমার কেন জানি মনে হয় আমার বলার পর যদি মহিলা না করে দেয়, তাহলে তো ইজ্জতের উপরে হাটু পানি উঠে যাবে। অবশ্য আমার নামে অনেকেই মিথ্যা অপবাদ দেয়। বাংলা ষ্টেইটমেন্টের সম্পাদকের কাছে এক মহিলা নালিশ করেছে আমি নাকি তাকে বিয়ের আলাপ দিয়েছি, অথচ মহিলাকে আমি চিনিনা, জানিওনা। শুধু নালিশ দিয়ে সে কান্ত হয়নি বলেছে আমার যন্ত্রনায় নাকি মহিলা লন্ডন ছেড়ে পালিয়েছে। অথচ আমি যখন সম্পাদককে বলেছি আমি চিনিনা, সম্পাদক হয়তো অবাক হয়েছেন , আমি কিন্তু মোটেই অবাক হয়নি।

কিছুদিন আগে আমাদের পরিবারের এক মুরুব্বীকে এক মহিলা ফোন করে বলেছে আপনার ভাতিজাকে সাবধান করে দিবেন উনি যেন আমাকে ডিষ্টার্ব না করে। যাকে বলেছে তিনি আমাকে খবর দিয়েছিলেন তার বাসায় যাওয়ার জন্য, গেলাম তার বাসায়, যাওয়ার পর তিনি ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্ন কথা বলে আমাকে বলেছেন কিভাবে কথা তুলবো ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা। আসলে তোমার যে বয়স এ বয়সে কি আমরা তোমার বিচার শুনবো? আমার তো বুঝতে বাকী নেই ঠিকঠিকি বোধহয় আরেকটা সৃষ্টি হয়েছে, বলেছিলাম কোনো মহিলার বিচার? বললেন তুমি বুঝলে কি করে? বলেছিলাম এ সমাজে কিছু বাজে মহিলা রয়েছে যারা মানুষের ব্যাক্তিগত চরিত্র নিয়ে নানা আজে বাজে কথা বলে বেড়ায়, অথচ আমি তাদেরকে চিনিনা। আমার সাথে চেনা নেই জানা নেই বলবে আমাকে চিনে। এ রকম বলে ”ও ফয়সল চৌধুরী” উনার কথা বলোনা উনাকে তো সেই ছোট বেলায় চিনি, ও তো আমার বাসায় আগে প্রায়ই আসা যাওয়া করতো, অথচ আমি জীবনে যাইনি, আর যে মহিলা বলছে তাকে আমি চিনিও ন। কিছুদিন আগে আমার এক প্রতিনিধি বলেছেন্ বস আপনি নাকি অমুখের বাসায় যান গান শুনেন, আমি তাকে কিছুই বলিনি, আমি ব্যস্ত ছিলাম, পরবর্তীতে জিজ্ঞাস করেছিলাম আপনি এসব কি বলেন, প্রতিনিধি বলেছেন বস আমি যে মহিলার কথা বলেছি আপনি নিশ্চয় চিনতে পেরেছেন, আমি কিভাবে ঐ প্রতিনিধিকে বলি আপনি যে মহিলার কথা বলেছেন সে মহিলা আমার মা-র বাসায়—- এর কাজ করেছে।

পাঠক নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করছিনা। সত্য কথাগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আর যদি শেয়ার করি প্রিয় পাঠক আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেননা। এ নিয়ে অনেক সময় আমার মন খারাপ থাকে। তবে আমার এক বন্ধু বলেছেন ওদের কথা নিয়ে মন খারাপ করার কিছুই নেই, ওরা তোমার কথা বলে সমাজে নিজেকে একটু জাহির করতে চায়। আমার এ ৫০ বছরের জীবনে যা ঘটেছে তা আসলেও বিচিত্র অভিজ্ঞতা।
সে যাক দ্বিতীয় ম্যাসেজটি ছিল, সম্প্রতি দুজন শিক্ষার্থীর গাড়ী চাপায় মৃত্যুবরন। গত সপ্তাহে লন্ডনে বেড়াতে এসেছিলেন ঢাকার পরিবহন শ্রমিক নেতা মোহাম্দ সাদেকুর রহমান হিরু। চ্যানেল আই ইউরোপের সাবেক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের ফোন, ফয়সল ভাই হিরু ভাইকে নিয়ে কি টক শো করবেন? জিজ্ঞাস করেছিলাম তিনি কে? বলেছিলেন তিনি পরিবহন শ্রমিক নেতা। লন্ডনে নৌ পরিবহন মন্ত্রী জনাব শাহজাহান খান আসলে আমি আমার টক শো ষ্ট্রেইট ডায়লগে বসি। দেশের পরিবহন সমস্যা নিয়ে মন্ত্রীর সাথে আমার অনেক কথা হয়েছে। চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সড়ক দুর্ঘটনা কোনো কিছুই বাদ যায়নি। ভাবলাম মন্ত্রী অনেক দিন থেকে লন্ডনে আসছেননা দেশের অসহনীয় যানজট, সড়ক পরিবহন, ড্রাইভার, দুর্ঘটনা এসব নিয়ে কোনো কথা হয়নি অনেকদিন, মাহবুব ভাইকে বলেছিলাম নিয়ে আসুন কথা বলবো। হিরু সাহেব আসলেন, টক শো লাইভ, বললেন ফোন কল নিবেন, বলেছিলাম আপনার কোনো সমস্যা না থাকলে নিতে পারি, বলেছিলেন নেন আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে কেউ গালাগালি করবেনা-তো? বলেছিলাম এক সময় গালাগালি হতো, এখন সময় বদলেছে, লন্ডনের বাংলা টেলিভিশনের দর্শকরা আর গালি দেননা। হিরু সাহেবকে জিজ্ঞাস করি রাজনীতি করেন? বললেন এক সময় বিএনপি করতেন এখন আর রাজনীতি করেননা। কেন করেননা জানতে চাইলে বলেছিলেন গত বিএনপির আন্দোলনে তাদের ৯০ জন পরিবহন শ্রমিক প্রান হারিয়েছেন। এর পর থেকে রাজনীতির প্রতি তার একটা ভীতশ্রদ্ধ ভাব চলে এসেছে তাই রাজনীতি থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে নিয়েছেন। হিরু সাহেব দেশের গাড়ী বাস ট্রাক নিয়ে কথা বলেছেন। কথা বলেছেন তিনি ড্রাইভার সাহেবদের নিয়ে। এখনো বাংলাদেশে প্রকৃত গাড়ী শিখানোর কোনো ড্রাইভিং স্কুল গড়ে উঠেনি। যারা শিখেছে তারা হেল্পার থেকে ড্রাইভার হয়েছে। লন্ডনে ৯০ এর মে মাসে আসার পর অনেকেই উপদেশ দিয়েছিলেন ড্রাইভিং শিখে নেয়ার জন্য। কি করতে হবে? প্রভিশনাল লাইসেন্সের জন্য এপ্লাই করতে হবে। করলাম এপ্লাই, লাইসেন্স আসলো, এখন ড্রাইভিং শিখার পালা, ব্রিটিশ স্কুল অব মটরিং এ যোগাযোগ করেছিলাম, সাদা এক মহিলা কিছুদিন শিখালেন। তারপর দেখলাম সাদা মহিলা সারাক্ষন সিগারেট টানে। আমি তখন সিগারেট ছেড়ে দিয়েছিলাম, পাশে বসে কেউ সিগারেট টানলে আমার অসহ্য লাগতো। বাদ দিলাম তাকে। বাদ দিয়ে বাঙালী একজনের সাথে চুক্তি করলাম, তিনি ছিলেন লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমার প্রধান সম্পাদক আয়শা আহমেদের বড় ছেলে তোফায়েল আহমদ, আমার বন্ধু মানুষ, সেন্স অব হিউমার ছিল। তিনি শিখাতে লাগলেন, শিখলাম তার কাছ থেকে। টেস্ট দিতে গেলাম ফেইল করলাম, দ্বিতীয়বার দিলাম ফেইল করলাম, তৃতীয়বার পাশ করলাম। পাশ করার পর গাড়ী কিনলাম। এই ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে দেখলাম বৃটিশরা সিষ্টেমের মধ্যে সব কিছু ফেলে রেখেছে। বাঙালী অনেকেই ৪/৫ বার টেস্ট দিয়েও পাশ করতে পারেননি। অনেকেই বলেন বর্ণবাদী আচরন করে এর জন্য তিনি পাশ করতে পারেননা। আসলে তিনি নিজেও পারছেননা। প্রিয় পাঠক ব্রিটিশরা যা শেখায় সেখানে কোনো দুনাম্বারী থাকেনা। ভালোভাবে শিক্ষা দেয়। আমাকে একই কারনে তিনবার ফেইল দিয়েছে। যে কারনে ফেইল দিয়েছিল সেটি ছিল রিভার্স পার্কিং, দুটি গাড়ীর মধ্যখানে পার্ক করতে গিয়ে আমার গাড়ী ফুটপাতে ধাক্কা খায়, ধাক্কা খেলেই ফেইল। সে যাক বাংলাদেশে এ রকম সিষ্টেম কি আছে? নেই। পাশ করতে হলে কিছু টাকা ধরিয়ে দিলেই লাইসেন্স বের করা যায়। আর পাশ করলে তো হবেনা। আমি লন্ডনে অনেকের গাড়ীতে উঠিনা। কোথায় নিয়ে মেরে ফেলবে তার কোনো ষ্টেশন নেই। আমি লন্ডনের বাইরে কোথাও গেলে ট্রেইনে চলে যাই। কারন মটরওয়ে অথবা হাইওয়ে তে আমি গাড়ী চালাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করিনা। এক সময় ভালোই লাগতো লং ড্রাইভ। সেই যে আমার নানা রঙ্গের দিনগুলো। এখন বয়স হয়েছে । টায়ার্ড লাগে। তা ছাড়া মটরওয়েতে যেভাবে ট্রাক লরী বোপোয়রা গতিতে চলে একটু এদিক সেদিক হলেই দুর্ঘটনায় পড়তে হবে।

প্রিয় পাঠক বাংলাদেশে আমি জন্ম নিয়েছি দেশের আলো-বাতাসে আমি বেড়ে উঠেছি, অনেকেই বলেন দেশটির প্রতি আমার ঋন অনেক। আমি মনে করি আমার কোনো ঋন নেই। আমি দেশে পড়া-লেখা যাই করেছি পয়সা দিয়েছি। লন্ডন থেকে আমার বাবা টাকা পাঠিয়েছেন সেই টাকায় আমরা চলেছি। ব্যংক থেকে কোনো লোন নেইনি। সরকারের টাকা আত্মসাত করিনি। দেশে চাকুরীর জন্য কারো কাছে যাইনি, বরং যারা এখন বাংলাদেশে চাকুরী করেন তাদেরকে মাঠ ছেড়ে দিয়ে লন্ডনে এসেছি লন্ডনে এসে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। দেখেছি একটি দেশ কিভাবে চলে। দেখেছি বৃটিশদের দেশ প্রেম, সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্ব্বোচচ ব্যাক্তির দেশ প্রেম। আমাকে অবাক করে, আমি ভাবি কেন বাংলাদেশের মানুষের দেশপ্রেম নেই। হিরু সাহেব সেদিন আমার টক শোতে বসে বলেছেন বাংলাদেশে যারা গাড়ী চালায় তাদের বেশীরভাগেরই কোনো লাইসেন্স নেই। ১ লক্ষের ও বেশী বাস ট্রাক চালানোর অনুমতি দিয়েছি সরকার। কোথায় অনুমতি দিয়েছে রাস্তা-ঘাট আছে কিনা? এসবের কোনো কিছুরই ধার ধারেনা সরকারের কর্তাব্যাক্তিরা! যেমন গাড়ী চালানোর কোনো আইন কানুন মানেনা তেমনি সন্তান জন্মদানেও কোনো নিয়ম মানা হচেছনা। একটা লোকের ৭/৮ বাচচা। দেশের জনশক্তি হু হু করে বাড়ছে। বৃটেনে জন্ম এবং মৃত্যুর হার সমান ১৯৭১ এ লোক সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ২০১৮ সালে এসে সামান্য একটু বেড়েছে। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে ছিল সাড়ে সাত কোটি ২০১৮ সালে এসে ১৮/২০ কোটিতে রুপান্তরীত হয়েছে। ঢাকায় শুধু মানুষের মাথা দেখা যায়। ঢাকা শহরে মানুষ বসবাস কিভাবে করে?

হিরু সাহেব সেদিন বললেন কেউ আইন মানেনা। গাড়ীতে উঠে সিট বেল্ট লাগাবে তা-ও লাগায় না। তারেক মাসুদ ও মিসুক মনির মারা যাওয়ার পর তদন্তে দেখা গেছে উনারা সিট বেল্ট লাগাননি। অতএব দোষ কার? যে দেশের মানুষ আইন মানেনা সে দেশের গরু ছাগলারাও আইন মানেনা। একটি ব্যাপার আমি দেখেছি সড়কের মধ্যখানে দাড়িয়ে থাকে মোটা ষাড় (গরু)। হর্ন বাজালে হা করে থাকায়, যেমনিভাবে মানুষরাও হর্ন বাজালে উল্টো ড্রাইভারকে মারতে আসে, তেমনি গরুও রাগ দেখায়, কথা না বলতে পারলেও চোখ রাঙিয়ে বুঝিয়ে দেয় এই তুই কার পোলা আমাকে এভাবে হর্ণ বাজাস!। দুজন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে, মাননীয নৌ পরিবহন মন্ত্রী হেসে উত্তর দিয়েছেন অথবা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, এটা নিয়ে তার পদত্যাগ দাবী করেছেন অনেকেই, মন্ত্রী বলেছেন তার পদত্যাগ কি সমস্যার সমাধান? বৃটিশ ষ্টাইলে রাজনীতি তো চলেনা বাংলাদেশে, এটা তো শিক্ষার্থীদেরকে বুঝতে হবে। লন্ডনে এ ঘটনা ঘটলে অনেকেই হয়তো পদত্যাগ করে চলে যেত, কারন লন্ডনের নেতাদের লজ্জা শরম আছে, বাংলাদেশে যে নেই সেটি আমি বলছিনা, তবে তাদেরকে টেনে হেচরে নামাতে হয়। এখন নৌ পরিবহন মন্ত্রী যে পদত্যাগ করবেন সেখানে তো অনেক কিছু জড়িত, ব্যবসা বানিজ্য সহ সব কিছ,ু এসব তো বুঝতে হবে, বললেই হলো পদত্যাগ? এর চাইতে বেশী কিছু লিখতে পারবোনা আমি। জাদ্রেল কলামিস্ট পীর হাবিব সাহেব ঢাকায় বসে সেদিন লিখেছেন তিনি অনেক কিছু বলতে পারেননা লিখতে পারেননা, লন্ডনে বসেও আমার লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। আমাকেও উপর থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সোজা ভাবে টেলিভিশন চালাও, সোজা লিখব্,া গাড় বাকা করলেই বিপদ। আমার মাঝে মধ্যে কষ্ট হয়। আমি তো লন্ডনে আরো দশটা ব্যবসা করে টাকাওয়ালা হতে পারতাম! আমি কেন সাংবাদিকতায় আসলাম? জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজেকে মাঝে মধ্যে প্রশ্ন করি, হিসাব মেলানোর চেষ্টা করি কি পেলাম আর কি হারালাম? কার কি উপকারে আসলাম? চেনা জানা মানুষের কত আশা কত প্রত্য্শাা আমাকে দিয়ে আমি তার একটাও পুর্ণ করতে পারিনি। হিসেব তো মিলছেনা। এখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যদি সেন্সর করে কথা বলতে হয় লিখতে হয় তাহলে কেন এই পেশায় এসেছিলাম???

একটি দেশের বয়স ৪৭ বছর। এ বয়সে এসে যদি ছাত্ররা গাড়ীর ড্রাইভারদের লাইসেন্স আছে কি-না দেখতে হয় তাহলে রাজনীতিবীদরা যারা সরকারে ছিলেন এত দিন তারা কি করলেন? আখের গুছিয়েছেন? ড: কামাল হোসেন স্যার কে একদিন জিজ্ঞাস করেছিলাম বাংলাদেশে পুলিশ আইন কি? তিনি বলেছেন সেই বৃটিশ আমলের টা এখনো চলছে! বলেছিলাম তাহলে কি আপনি সারা জীবনে একখানা সংবিধান রচনা করেছেন? কামাল স্যার বলেছেন নতুন প্রজন্ম সেটি করুক। বলার কিছুই নেই। অনেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, ফেইসবুকে অনেকেই বলেছেন সাবাশ নতুন প্রজন্ম, আমি সেটাকে সাবাশ বলিনা, বাহবা দিতে চাইনা। আমার কাছে তাদের এই আন্দোলন, সরকারের ভুমিকা, সব কিছুকেই কেমন জানি বেমানান বেখাপ্পা লাগছে। জাবালে নুরের ড্রাইভাররা গাড়ীর রেইস করবে কেন? এখানে রেইস করে মানুষ মারবে কেন? দুর্ঘটনা যে কেউ করলে তার শাস্তি ভোগ করতে হবে। আসলে বাংলাদেশের সব কিছুকেই আমার কেন যেন মনে হয় তৃতীয় শ্রেণীর, মানুষ থেকে শুরু করে অফিস আদালত শিক্ষা প্রতিষ্টান আচার ব্যবহার সব। মানুষের মধ্যে কোনো দয়া মায়া ভালোবাসা নেই। পুলিশ যেভাবে পেটায়, যে ভাবে গালি দেয়, রাজনীতিবিদরা যে ভাষায় কথা বলে , যেন মনে হয় ব্যাক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে তারা মারামারি ঝগড়া বিবাদ করছেন। দেশটা যেন একটা মগের মুল্লুুকে পরিণত হয়েছে। কেউ কারো কথা শুনেনা, কেউ কাউকে মানেনা, শ্রদ্ধাবোধ নেই, পেশাদারিত্ব নেই, মেনার জানেনা, কোথায় কি বলতে হবে বুঝেনা, ছাত্র মারা গেছে মন্ত্রী মহোদয় যদি হেসে কথা বলেন তাহলে তো মানুষ বিগড়ে যাবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন যে রাস্তায় দাড়িয়ে আন্দোলন করছো সে রাস্তা কার? তাহলে তো হবেনা! একটি আন্দোলন হতে পারে, এ জন্য ফেইসবুক বন্ধ করে দেয়া হবে, ইন্টারন্যট বন্ধ করে দেয়া হবে, মিডিয়ায় রেস্টিকশন জারী হবে, ছাত্রলীগকে মাঠে নামাতে হবে, এ সব কেন? তা ছাড় ফালতু কথা বলা হচ্ছে কেন, আওয়ামলীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই! সরকারে থাকলে ভুল হবে, ভুল হলে দ্রুত মাফ চাইতে হবে। মাঠ গরম করে মাফ চেয়ে লাভ কি? ছাত্র আন্দোলনে জামাত বিএনপি সুযোগ নিচ্ছে তা তো নিবেই। আওয়ামলীগ সুযোগ দেয় কেন? যেভাবে আন্দোলন হচ্ছে এটি তো আন্দোলন নয় এটি একটি অরাজক পরিস্থিতি। আমেরিকান এস্বেসেডারের গাড়ীতে হামলা হলে দেশে বিদেশে নিউজ হবে। দেশে বিদেশে নিউজ হলে বিদেশীরা মনে করবে বাংলাদেশ একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।এভাবে একটি দেশ চলতে পারেনা। সমাজ চলতে পারেনা। বাংলাদেশের মানুষগুলোর দিকে থাকালে, সমাজের রাষ্ট্রের দিকে থাকালে কেমন জানি অসুস্থ অসুস্থ লাগে। এই অসুস্থতা থেকে কিভাবে বের হবে? আমি তো কোনো পথ দেখিনা। দিন যত যায় মানুষ উন্নয়নের চরম শিখরে পৌছে। আর আমরা দিন দিন থলিয়ে যাচিছ। অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচেছ গোটা সমাজ ব্যবস্থা।

প্রতিহিংসা মানুষেকে ধ্বংস করে দেয়। কেউ কিছু করলেই বলে শিক্ষা দিয়ে দিতে হবে। স্বামী স্ত্রী কে শিক্ষা দেয়। ছাত্র শিক্ষককে শিক্ষা দেয়, রাষ্ট্র দেয় তার জনগনকে। রাষ্ট্রের সর্ব্বোচচ ব্যাক্তি ছাড়া কোনো কাজ হয়না। সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে থাকিয়ে থাকে। বলার কিছুই নেই। আল্লাহ আমাদেরকে মুক্তির পথ দেখাবেন। আমরা এক মাত্র তার উপরই ভরসা করতে পারি।

লেখক সভাপতি ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাব
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বাংলা স্টেটমেন্ট ডট কম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক চ্যানেল আই ইউরোপ
লন্ডন ৬/৮/২০১৮ ইংরেজী

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x