• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০

নতুন সড়ক পরিবহন আইন গোজামিলে ভরা

Posted on by

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড৷ আর হত্যাকাণ্ড প্রমাণ হলে মুত্যুদণ্ড৷ কীভাবে হত্যাকাণ্ড প্রমাণ হবে এবং ৩০২ ধারায় মামলা হবে, তা স্পষ্ট নয়৷ সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া সড়ক পরিবহণ আইনে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে৷ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ আহত হলে বা প্রাণহানি ঘটলে এই আইনে মামলা হবে৷ তবে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালানো হয়েছে বলে মনে হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ৩০২ ধারায় মামলা হবে৷ তদন্ত করে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে দুর্ঘটনার প্রকৃতি কী ছিল৷ যদি তদন্তে মনে হয়, হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাহলে সড়ক পরিবহন আইনের ১০৩ ধারায় মামলা হবে৷ এই ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর জেল, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে৷ এছাড়া দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড৷ কিন্তু এই ৩০২ ধারা নতুন কোনো ধারা নয়৷ এটা বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে আগে থেকেই আছে৷ এখন প্রশ্ন হলো, মামলাটি শুরুতে কোন আইনে হবে৷ কারণ ৩০২ ধারা সড়ক পরিবহন আইনের কোনো ধারা নয়, এটা দণ্ডবিধির৷ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইনে বলা হয়েছে তদন্তকালীন সময় যদি হত্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে হত্যার অভিযোগ আসবে৷ আসলে এটা সম্ভব নয়৷ কারণ মামলার শুরুতেই আপনাকে ঠিক করতে হবে কোন আইনে মামলা করবেন৷ সড়ক দুর্ঘটনা আইনে না প্রচলিত আইনে হত্যা মামলা করবেন আপনি৷ যে আইনে করা হবে মামলার তদন্ত সেই আইনেই হবে৷ আর এ নিয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান না থাকলে আইনের মারপ্যাঁচে আর হত্যা মামলায় রূপান্তর সম্ভব হবে না৷” বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এরশাদের সময় প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷ তারপর তা কমিয়ে করা হয় সাত বছর৷ এরপর আরো কমিয়ে করা হয় তিন বছর৷ কিন্তু হাইকোর্ট সম্প্রতি এক পর্যবেক্ষণে সাত বছর করতে বলেছিল৷ কিন্তু হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুসরণ না করে নতুন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে পাঁচ বছর৷” তিনি বলেন, ‘‘৩০২ ধারায় হত্যা মামলার সঙ্গে এই আইনের কোনো সম্পর্ক নেই৷ এটা পেনাল কোডে আগেও ছিল৷ তাই হত্যা প্রমাণ হলে হত্যা মামলা হবে, এটা আসলে কোনো গ্রহণযোগ্য কথা নয়৷ এর মধ্যে ফাঁকি আছে৷ আমরা যে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিলাম, তা হয়নি৷ ছাত্ররা যে দাবি করেছিল, সেটাও মানা হয়নি৷ সরকার পরিবহন মালিক এবং কথিত শ্রমিক নেতাদের চাপে এই আইন করেছে৷ এই আইনে জনস্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে৷” তিনি আরো বলেন, ‘‘এখানে যে পাঁচ বছর শাস্তির বিধান করা হয়েছে আগে তা ছিল সাত বছর (এরশাদের সময় সাত বছর, এখন তিন বছর)৷ আর এখন করা হয়েছে পাঁচ বছর৷ তাহলে তো আরো কমানো হয়েছে৷” নতুন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে৷ চালকের সহকারীর পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া থাকতে হবে৷ সহকারী হতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নিতে হবে৷ গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে৷ আর পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর৷ নতুন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে অনধিক ছ’মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া যাবে৷ চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়৷ চালকদের জন্য পয়েন্ট সিস্টেম থাকবে৷ মোট ১২ পয়েন্ট। যদি শূন্য হয়ে যায় তাহলে লাইসেন্স বাতিল হবে৷ আইন অনুযায়ী মোটরযান মালিককে ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুসারে মোটরযান চালকের সঙ্গে লিখিত চুক্তিপত্র করতে হবে৷ এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গড়ির কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স আপডেট করার হিড়িক পড়েছে৷ বিআরটিএ-র উপ পিরচালক মাসুদ আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে৷ এ জন্য আমরা অফিস করার সময় বাড়িয়ে দিয়েছি৷ এখন আমাদের অফিস সাকাল ৯টা থেকে ৫টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে৷ শনিবারও গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য বিআরটিএ অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷”
সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x