• শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০

খালেদা জিয়ার বন্দীশালার চাবি শেখ হাসিনার হাতে: রিজভী

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ খালেদা জিয়ার বন্দীশালার চাবি শেখ হাসিনার হাতে, অন্য কোথাও নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একজনের (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষুব্ধ প্রতিহিংসার শিকার। ভুয়া নথির ওপর ভিত্তি করে সাজানো মামলাতে বেগম জিয়ার বিন্দুমাত্র কোন সম্পর্ক নেই। শেখ হাসিনার নির্দেশেই বেগম জিয়া কারাগারে। এই বন্দীশালার চাবি রয়েছে শেখ হাসিনার হাতে, অন্য কোথাও নয়।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, ‘১/১১ এর সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পাঁচটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে। আর আপনার বিরুদ্ধে দিয়েছিল পনেরটি। আপনার বক্তব্য অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার মামলা যদি সত্য হয় তাহলে আপনারটা মিথ্যা হবে কেন? আপনার সব মামলা মিলিয়ে তো আপনার একশো বছরের বেশী জেল হবার কথা। অথচ আপনি কারাগারে নেই। আপনি ক্ষমতা দখল করে দখলদার প্রধানমন্ত্রী হয়ে জনগণের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। আপনার ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়, আপনার ক্ষমতার উৎস অন্য কোথাও’।

সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, খুলনা-গাজীপুর নির্বাচনের মতোই আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে বিরোধী দলের ভোটার ও পোলিং এজেন্ট শূন্য করার এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে। সরকারের নির্দেশে তিন সিটি কর্পোরেশনে একপেশে নির্বাচন করার ডিজাইনারের কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গতকাল সারারাত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাসায় গিয়ে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের বলেছে ২ আগস্টের আগে কাউকে যেন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দেখা না যায়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে গ্রেপ্তার না করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও সেটিকে অমান্য করে পুলিশ লাগাতার গ্রেপ্তার করছে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের। ধানের শীষের প্রার্থীর উঠোন বৈঠক ও সভাও ভেঙ্গে দিচ্ছে পুলিশ।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গণ গ্রেপ্তারের গতি থামছেই না মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাজশাহী নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট কারচুপির মহা আয়োজনের আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রায় ৯০ শতাংশ আওয়ামী সমর্থিত লোকদের পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভোটের আগের রাতে নৌকায় সিল মারা ব্যালট পেপার ভোটকেন্দ্রে লুকিয়ে রাখা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ধানের শীষের প্রার্থী। ভোটের আগের দিন প্রিজাইডিং অফিসারদের দিয়ে ভোট কেটে সেটি লুকিয়ে রাখা হবে হেড মাস্টার অথবা এ্যাসিসটেন্ট হেড মাস্টারের রুমে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। নৌকা মার্কার প্রার্থী জোর করে বিজয়ী হওয়ার জন্য হাজার হাজার লোককে সিটি এলাকায় ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও অন্যান্য আবাসস্থল দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগের লোকেরা।

সিলেট সিটি নির্বাচনেও রাজশাহী ও বরিশালের মতোই চিত্র মন্তব্য করে রিজভী বলেন, নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মধ্যে কোন আনন্দ উচ্ছ্বাস নেই। ভোটারদের মনে একটা থমথমে ভাব বিরাজ করছে। পরশু রাতেও বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে কয়েকজনকে।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x