• সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

পরিষ্কার কথা, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাব না -মির্জা ফখরুল

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া দলটি কোনো নির্বাচনে যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলছি, সবার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এই নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন করে কমিশন গঠন করতে হবে। আমরা দেশ নেত্রীকে ছাড়া কোনো নির্বাচনে যাবো না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।

মঙ্গলবার (২৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদতবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, আসুন আমরা একটি ঐক্য গড়ে তুলি, আন্দোলন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করি এবং গণতন্ত্রের মাতাকে মুক্ত করে আনি।

বিএনপি আগামীতে তাদের আন্দোলন কর্মসূচির ধরন পাল্টাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। তারা বলছেন, এই স্বৈরাচার সরকার আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। তাই আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য বিএনপির চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আগামীতে আর সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্দোলন কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন করা হবে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের পতনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। কারণ, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আদালতের মাধ্যমে সরকার সময়ক্ষেপণ করছে। তাই এ সরকারের আমলে আইনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আর এ জন্য আমরা যে ধরনের আন্দোলন করছি, আগামীতে বিএনপি এ ধরনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।’

মোশাররফ বলেন, ‘আগামীতে যে ধরনের কর্মসূচিতে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়, সেই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি মাঠে থাকবে। সামনের দিনে আন্দোলন কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন হবে। তাই সবাই সামনের দিনে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।’

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের নেত্রী, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রেখেছেন, দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, সেই নেত্রীকে আজকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। যারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল, তারাই আজকে আবার দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশের মানুষের সব অধিকার হরণ করে নিয়েছে সরকার। সেই জন্য সবাইকে জেগে উঠতে হবে। নতুন করে শপথ নিতে হবে, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে। সেই আন্দোলনে অবশ্যই সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাকে ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন হবে না। অবশ্যই তাকে মুক্তি দিতে হবে। পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, একদলীয় নির্বাচনে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। সেই জন্যই বলছি, সবার আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ ও নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তারপর এ দেশে নির্বাচন হবে।বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বাতিলের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিরপেক্ষ লোকদের দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। এ নির্বাচন কমিশন সরকারের তল্পিবাহক হয়ে কাজ করছে।’

জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আজকে বিকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে। জিয়াউর রহমানকে ছোট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একদলীয় শাসন এটা, এক ব্যক্তির শাসনে পরিণত করেছে। দেশের মানুষের কোনও অধিকার নেই।আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। তার মুক্তি ছাড়া কোনও নির্বাচন এদেশে হতে দেওয়া হবে না।’

সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া আন্দোলনের জন্য রাস্তায় নেমে কোনও লাভ হবে না বলে মনে করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হলে দেশে গণআন্দোলন হবে। আর গণআন্দোলনের মুখে এ সরকারকে বাধ্য করা হবে সহায়ক সরকারের দাবি মানেতে। সহায়ক সরকার মানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, অন্য কোনও সরকার নয়। সহায়ক সরকার বলে সংবিধানে কিছু নেই। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা ছিল। এ সরকার জোর করে তা বাতিল করেছে। তাই আন্দোলনের মুখে এই সরকার আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে সরকার।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন। আজকের আওয়ামী লীগও নিষিদ্ধ ছিলো। জিয়াউর রহমানের কারণেই তারা রাজনীতি করতে পারছে। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। অথচ আজকে তাকেই ছোট করার জন্য বিকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে। আমাদের সেই গণতন্ত্র আজ সম্পূর্ণভাবে হরণ করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে আজ একদলীয় শাসন নয়, এক ব্যক্তির শাসনে পরিণত হয়েছে। মানুষের কোনো অধিকার নেই। পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, যারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিলো আজ তারাই বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে। আজ আমাদেরকে শপথ নিতে হবে। জাতিকে সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x