• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

যে কারণে তিস্তা চুক্তি করবে না ভারত

Posted on by

নিউস লাইফ ডেস্ক :: বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের প্রশ্নে দিল্লি যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতামতকে অগ্রাহ্য করে কিছুতেই এগোবে না, সেটা আবারও জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ

গত ২৬ মে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সাংবাদ সম্মেলনে স্বরাজ আরও জানান, গত বছর শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তার বিকল্প হিসেবে অন্য দুই-তিনটি নদীর জল ভাগাভাগির যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটা কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব; তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাশাপাশি চলমান রোহিঙ্গা সংকটে ভারত মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে, বাংলাদেশের কাছ থেকে কখনো এমন অভিযোগ তাদের শুনতে হয়নি বলেও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন।

যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাধায় বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি আজও হতে পারেনি, তাদের অগ্রাহ্য করেই কেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে না- এমন একটা দাবি বেশ কিছুকাল ধরেই বাংলাদেশের গণমাধ্যম বা সুশীল সমাজের ভেতর থেকে উঠছে।

সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় কাঠামোতে সেটা কিছুতেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘দেখুন, তিস্তা চুক্তি শুধু ভারত আর বাংলাদেশ এই দুই সরকারের বিষয় নয়- পশ্চিমবঙ্গও সেখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। সে কারণেই আমরা বারবার মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনার কথা বলছি।’

তিনি (মমতা) গত বছর শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় একটা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটা ছিল তিস্তা বাদ দিয়ে অন্য দু-তিনটে নদী (ধরলা, জলঢাকা, শিলতোর্সা ইত্যাদি) থেকে একই পরিমাণ জল বাংলাদেশে পাঠানো। তাতে তারা জলও পাবে, তিস্তাও বাঁচবে’, বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সুষমা বলেন, ‘এখন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবের ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে, কিন্তু আমরা সেই রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। তবে আমি এটাও বলব, আমাদের সরকারের মেয়াদের তো পুরো এক বছর এখনও বাকি, আমাদের আগেই ফেল করিয়ে দিচ্ছেন কেন? এক বছর বাকি থাকতেই আমাদের ব্যর্থ ঘোষণা না করে একটু ধৈর্য ধরুন। আমরা তিস্তা চুক্তির পেছনে লেগে আছি।’

গত শুক্র ও শনিবার যথাক্রমে নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা আলাদা বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে অবশ্য সুষমা স্বরাজ মুখ খুলতে চাননি। কিন্তু মমতাকে রাজি না করিয়ে কেন্দ্র যে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

তার যুক্তি হলো, ‘তৃতীয় স্টেকহোল্ডার পশ্চিমবঙ্গর সম্মতি না নিয়ে যদি আপনি চুক্তি করেও ফেলেন, তার বাস্তবায়ন কীভাবে করবেন? তিস্তার জল তো পশ্চিমবঙ্গ থেকেই যাবে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতাও বলে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মত নিয়ে সমঝোতা হলেই কিন্তু সেটা টেকসই হয়।’

শেখ হাসিনা ও তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই তিস্তা চুক্তি হবে বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি যে কথা দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যাবে কি না, সেটা অনেকটাই ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। প্রকারান্তরে সুষমা স্বরাজ সেটা মেনেই নিয়েছেন।

অবশ্য তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের যা-ই ক্ষোভ থাকুক, রোহিঙ্গা প্রশ্নে তারা কখনো ভারতের কাছে কোনো অনুযোগ জানায়নি বলে স্বরাজ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে দাবি করেছেন।

সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘দেখুন, এই সংকটে ভারত মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে, এমন অভিযোগ কিন্তু বাংলাদেশ কখনো করেনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে এসেছিলেন, আমিও সদ্য মিয়ানমারে গিয়ে অং সান সু চি-র সঙ্গে দেখা করে এলাম। বরং দুজনেই আমাকে বলেছেন, তাদের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়ে গেছে।

এমন কী আমি এটাও জেনেছি, মিয়ানমার ইতিমধ্যেই ১ হাজার ২২২ জনের তালিকা যাচাই-বাছাই করে তাদের ফিরিয়ে নিতেও রাজি হয়ে গেছে। সংকটের ব্যাপকতার তুলনায় এটা হয়তো ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সততার সঙ্গে এগোলে এর সমাধান অবশ্যই সম্ভব।’

অবশ্য মিয়ানমার যাতে সংকট নিরসনের চেষ্টায় আন্তরিক থাকে, সে জন্য ভারত কোনো প্রভাব খাটাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব দেননি সুষমা স্বরাজ। তিস্তা ও রোহিঙ্গা উভয় ইস্যুতেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে যে বেশ অস্বস্তির উপাদান তৈরি হয়েছে সেটাও কিন্তু তার বক্তব্যে গোপন থাকেনি।

সূত্র। .বি বি সি

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x