• রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

হাওয়া ভবন বনাম পাওয়ার ভবন কে এগিয়ে

Posted on by

লন্ডন :: দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের অভিজাত আবাসিক এলাকা রিচমন্ড। টেমস নদীর কোল ঘেঁষা এই এলাকাটিতে থাকেন ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। এখানে শুধু ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই থাকেন না। থাকেন অনেক পলাতক প্রবাসীও। লিবিয়ার সাবেক একনায়ক গাদ্দাফির একটি বাড়ি ছিল রিচমন্ডে। মধ্যপ্রাচ্যের ধনকুবেরদের বাড়ি আছে এখানে। এখানেই একটি অভিজাত বাড়িতে থাকেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা। তবে ক্যামডেনের এলাকার বাড়ীতে তার বেশি সময় কাটে । গত দুই মাস আগে রিচমন্ডেই আরেকটি বাড়ি নিয়েছেন শেখ রেহানা। এটি অবশ্য তাঁর থাকার জন্য নয়। এটি শেখ রেহানার তদবিরের অফিস।দেশের জনগণকে ফাঁকি দিয়ে লন্ডনে এই অফিস খুলেছেন শেখ রেহানা। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই অফিসের নাম দিয়েছেন ‘পাওয়ার ভবন’।

বাংলাদেশে থেকে  সিংগাপুর ,দুবাই তারপর  মোনাকু (Monaco), সাইপ্রাসে অফসর একাউন্টে (offshore account) এই সকল অর্থ জমা রয়েছে । যার ফলে ব্রিটেন সরকারের কাছে  এই সকল অর্থের হিসাব নিকাশ নেই । অফসর একাউন্টে মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার ।

কড়া নিরাপত্তার বেষ্টটনিতে ঘেরা এই বাড়ি শেখ রেহানার একান্ত অনুগত এবং বিশ্বস্ত আনোয়ারুজ্জামান  এবং সিদ্দিকী নাজমুল হাসান দেখাশোনা করেন। এরা দু’জনেই শেখ রেহানার তদবিরের শতশত কোটি টাকা লেনদেন করেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিএনপির নেতৃবৃন্দও আমন্ত্রিত না হলে এই ‘পাওয়ার ভবনে’ আসতে পারেন না। তবে এই অফিসে ঢাকার ‘সিআরআই CRI’ অফিসের অংশ হিসেবে গবেষণার কাজ হয় বলে জানালেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের একজন নেতা।

তাঁর মতে, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে এখানে। ওই নেতা কয়েকবার ওই ভবনে গিয়েছিলেন। প্রথমবার গিয়েছিলেন শেখ রেহানার ডাকে। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ওই প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা জানালেন, এখানে ১২ টি কম্পিউটার আছে। আছে নিজস্ব সার্ভার। কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের সমস্যার জন্য তাঁকে ডাকা হয়েছিল।

এছাড়া  যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জোনের সিনিয়র নেতারা দেশে ব্যবসা বানিজ্য স্থাপন করার লক্ষে‍ এই পাওয়ার ভবনে তদবির করতে অাসে । মুলত এই পাওয়ার ভবনের তদবির শতভাগ সফলতা নিয়ে আসে । তাই প্রবাসী ব্যবসায়ীরা পাওয়ার ভবনে অর্থ ঢালতে দ্বিধাবোধ করে না ।

অন্য একজন জানালেন, বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকা, কে তাঁদের পক্ষে, কে বিপক্ষে তার ডাটাবেস তৈরি হয়েছে। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের তালিকা, সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের লিস্ট রয়েছে এখানে। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমও এখানে মনিটরিং করা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নির্ধারিত হয় এখান থেকেই। এখান থেকে যে নির্দেশনা পাঠানো হয়, সেটাই ঢাকায় কার্যকর করা হবে।

আওয়ামী লীগ যুক্তরাজ্য শাখার নেতৃবৃন্দ এই গোপন ভবনে হতাশ ও ক্ষুব্ধ।  আনোয়ারুজ্জামান ও সিদ্দিকী নাজমুল আলমের তত্ত্বাবধানে থাকা ‘পাওয়ার ভবনে’র কারণে এই অফিসটিও জনমানবশূণ্য থাকে। শেখ রেহানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও করেন না। একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘লন্ডনে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা রা থাকতে কেন আরেকটা ‘পাওয়ার ভবন’ তৈরি করা হলো-সেটিই প্রশ্ন।’

একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, ঢাকায় ‘সিআরআই’ অফিসের মতো গবেষণার নামে লন্ডনে ‘পাওয়ার ভবনে’ গবেষণার নামে চলছে মনোনয়ন বাণিজ্য আর চাঁদাবাজি।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে, শেখ হাসিনা ধানমন্ডিতে ‘সিআরআই CRI’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ওই ‘সিআরআই’ হয়ে উঠেছে ক্ষমতার কেন্দ্র। ঢাকায় ‘সিআরআই CRI’ এবং লন্ডনে ‘পাওয়ার ভবনে’র নামে দেশে বিদেশে চলছে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি চাঁদাবাজির মহোৎসব।

Leave a Reply

More News from আন্তর্জাতিক

Developed by: TechLoge

x