• সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

সোমবার সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় ঘোষণা নির্ধারিত তারিখের আগের দিন সোমবার ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশের মহানগরের থানা ও উপজেলা সদরে বিক্ষোভ ডেকেছে বিএনপি। সেই সাথে খুলনা সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে দলটি।

আজ শনিবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।আগামী মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ১৪ মে সোমবার ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশের মহানগরের থানা থানায় ও উপজেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুলিশ, আওয়ামী সশস্র ক্যাডার ও নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে খেলছে বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের আর মাত্র দু’দিন বাকি। নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও সরকারের অনাচারে এক ভয়ানক পরিস্থিতি বিরাজ করছে কেসিসি নির্বাচনী এলাকায়। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার, বাড়িতে বাড়িতে সাঁড়াশি অভিযান সবমিলিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তাণ্ডব চলছে। পাশাপাশি এখন আরও একটি মাত্রা যোগ হয়েছে, সেটি হলো সাদা পোশাকধারী পুলিশ প্রিজাইডিং অফিসারদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, কোন কোন ক্ষেত্রে তারা তাদের বাসভবনে গিয়েও খোঁজ খবর নিচ্ছে। এ নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারদের মনে একধরণের সংশয় ও ভীতি বিরাজ করছে। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীর একজন আত্মীয় ও সরকার দলীয় এমপি দলবলসহ সপ্তাহের বেশী সময় ধরে খুলনায় অবস্থান নিয়ে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদেরও হুমকি ধামকি দিচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পুলিশ, আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডার ও নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে একই টিমে খেলছে।

রিজভী বলেন,কেসিসি এলাকায় ভোটারদের মধ্যে এখন আতঙ্কিত পরিবেশ বিরাজ করছে। এমনও শোনা যাচ্ছে আগামী দু’দিনে ধানের শীষের সরব ও নীরব সমর্থকদের পুলিশ আটক করবে ভোটের দিন পর্যন্ত। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের হাতে হাতে বিপুল পরিমাণ বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। এখনও বৈধ অস্ত্র জমা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি।

অপরদিকে খুলনায় পুলিশ জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করছে। কেসিসি নির্বাচন নিয়ে কমিশনের ভূমিকা সন্দেহজনক। কারণ নির্বাচন নিয়ে সরকারী তাণ্ডবে ইসি উদাসীন। বরং সরকারি দল থেকে রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে আপত্তি ওঠাতে কমিশন সেখানে একজন যুগ্ম সচিবকে পাঠিয়েছে অথচ ইসি সচিব বলছেন রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি, তাহলে যুগ্ম সচিবকে খুলনায় পাঠানো রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করা নয় কী ? ক্ষমতাসীনরদের অনুকূলে নির্বাচন রাখতেই এই ব্যবস্থা। খুলনার ৩১টি ওয়ার্ডের প্রায় সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আমরা বারবার কেএমপি কমিশনারকে প্রত্যাহারের দাবি জানালেও নির্বাচন কমিশন উদেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে প্রত্যাহার করেনি।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, খুলনা সিটিতে ২০দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ সুশীল সমাজ খুলনায় অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির আহবান জানিয়েছেন। এটি তো কোন অন্যায় বক্তব্য নয়। তাহলে নির্বাচনের মাত্র আর ২ দিন বাকি থাকলেও এখনও কেন খুলনাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি সে প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দলের পক্ষ থেকে আবারও খুলনায় সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিসহ কেএমপি কমিশনারকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের ভীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্য নির্বাচনের আবারও সেনা মোতায়েনের জোর দাবি জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আমি ক্ষমতাতপস্বী প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই-আপনার জুলুম করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। আপনাকে মানুষ মিথ্যুক ও ধমকবাজ মনে করে। আপনার কারণে দেশের মানুষ এখন সজ্ঞাহীন ও মৃত্যুর দোলাচলে। এখনও সময় আছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তি দিন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম করুন।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া আগামীতে কোন জাতীয় নির্বাচন হবে না। জনগণ হতে দিবে না। অবিলম্বে তাঁর সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তি নিশ্চিত করুন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x