• বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

কাল প্রজ্ঞাপন না হলে রোববার থেকে ফের আন্দোলনের ঘোষণা

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ কোটা বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পূর্বঘোষিত দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে একযোগে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। কেন্দ্রীয়ভাবে এ কর্মসূচি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৯মে) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে জড়ো হয় কোটা সংস্কারপ্রত্যাশী আন্দোলনকারীরা। বেলা সাড়ে ১১টায় সেখান থেকে মিছিলযোগে তারা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সমবেত হয়। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে আন্দোলনকারীরা সারিবদ্ধভাবে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে তাদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করে। সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। বেলা সাড়ে ১২টায় তাদের এ মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের যে ঘোষণা, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করার দাবি জানান। প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে কোনো কোনো টালবাহানা হলে ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না বলেও জানান তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্‌বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পর ২৭ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। অথচ এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এ নিয়ে সারাদেশের ছাত্রসমাজ ক্ষুব্ধ। ছাত্রসমাজ সবসময় আলোচনার পথ খোলা রেখেছিলো। সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমাদেরকে যতবার ডাকা হয়েছিলো আমরা গিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন বন্ধ করে পড়ার টেবিলে ফিরে গেছে। তাদেরকে আবার রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি প্রজ্ঞাপন জারি করা না হয়, তবে আগামী রবিবার থেকে সারাদেশে ছাত্রসমাজের দাবানল রাজপথ উত্তপ্ত করবে। ছাত্রসমাজ যদি ক্ষেপে যায়, যেকোন অশুভ শক্তিকে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিবে।’

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে কোটা সংস্কারপ্রত্যাশী আন্দোলনকারীরা। গত ৮ এপ্রিল শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিনা উসকানিতে পুলিশ হামলা চালায়। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাক্ষাৎ হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৭মের আগেই কোটা সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ৭ মে পেরিয়ে গেলেও এখনো কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তব কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর ‘কোটা বাতিল’ ঘোষণার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আজ মানববন্ধন করেছেন তারা।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x