• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০

আপনিই উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন: প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন’ বলে মনে করছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ১৯৮১ সালে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করার বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে এ কথা বলেন বিএনপি নেতা।

আগামী নির্বাচনে কোন পার্টি আসলো বা আসলো না তাতে কিছু আসে যায় না, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতকাল সংবাদ সম্মেলনের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য স্বৈরশাসকের কন্ঠস্বর। কারণ স্বৈরশাসকরা জনগণকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, কারণে অকারণে জ্ঞান দেয়। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটাই করেছেন। তার গতকালের সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্য হিংসায়-প্রতিহিংসায় আকন্ঠ আপ্লুত।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দায়িত্ব নেন তখন তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল। স্বাভাবিক গতিতে মামলা চললে উনার যাবজ্জীবন দন্ড হতে পারতো। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার জোরে মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনি ৮১ সালে দলের সভানেত্রী কিভাবে এবং কোন দেশে থেকে হয়েছিলেন সেটা কি আপনার মনে আছে? তখন আওয়ামী লীগে অনেক বর্ষিয়ান নেতা ছিলেন, তাদেরকে ডিঙ্গিয়ে আপনি কিভাবে দলের সভাপতি হয়েছিলেন? আপনি তো আওয়ামী লীগের সদস্যও ছিলেন না। তারেক রহমান দলে ধাপে ধাপে সদস্য, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি ধারাবাহিকভাবেই জাতীয় রাজনীতির আজকের অবস্থানে উন্নীত হয়েছেন। আপনার এবং আপনার আন্দোলনের ফসলদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত-নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেও তারেক রহমান নিজস্ব আদর্শে অটল থেকে জনগণের মধ্যে যে আস্থার জায়গাটি পেয়েছেন সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর অত্যুগ্র হিংসা তারেক রহমানের দিকে ধেয়ে আসে। আর আপনি কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যতিরেকেই সরাসরি আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আয়নার দিকে তাকিয়ে কথা বলেন না, এটাই তার সমস্যা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার যেভাবে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে সেটির পুনরাবৃত্তির দিবাস্বপ্ন আওয়ামী নেতারা দেখতে পারেন, কিন্তু এদেশে আর একতরফা জাতীয় নির্বাচন হবে না। তাই শেখ হাসিনা যতই মহাপরিকল্পনা করুন না কেনো, সেই নীলনকশার নির্বাচন করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, পরিবর্তনের ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যের আস্ফালন অন্তর্গত ভীতিরই বহিঃপ্রকাশ। আদালতকে ব্যবহার করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দী করে রেখেছেন। কিন্তু আদালত নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রায় এটি। প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, যে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ ছাড়তে হয়, পদত্যাগ করে দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হয়, সেখানে আদালতের স্বাধীনতা থাকে কি করে? আপনি যতই মিথ্যাচার করুন না কেনো আপনার কথা জনগণ বিশ্বাস করে না। আমি জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে আপনাকে পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। বাংলাদেশের জনগণ তা হতে দেবে না। আপনি যতই কূটকৌশল করেন না কেনো, আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং সব দলের অংশগ্রহণে।

‘কোটা আন্দোলনে যারা ছিল তাদের ছবি-টবি সংরক্ষণ করা আছে। তখন দেখা যাবে, ওই জেলার কারা কারা আন্দোলনে ছিল সেটিও আমরা দেখব। তারপর যদি কান্নাকাটি করে তখন আমাদের কিছু করার থাকবে না।’ এই কথার প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এধরনের বক্তব্য নতুন কিছু নয়। এই বক্তব্যে তিনি তার ঐতিহ্যই বজায় রেখেছেন। এটা তো একটি মারলে দশটি মারতে হবে’, অথবা ‘লাল ঘোড়া দাবড়িয়ে দিব’, অথবা ‘আজ কোথায় সিরাজ শিকদার’ কথাগুলো স্মরণে চলে আসে। এ জাতির জন্য লজ্জা এই যে, তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিও প্রধানমন্ত্রীর জীঘাংসা কত তীব্র হতে পারে। এটাই প্রমাণিত হলো যে, প্রধানমন্ত্রী বাকশালের বেওয়ারিশ লাশটাই বয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর মনস্তত্ত্বে যেটি নেই, সেটি হলো-সততা, সভ্যতা, অন্যের প্রতি মর্যাদা, যোগ্যতা ও সহানুভুতি।

তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণকে নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেছেন- যারা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় তারাই এর জন্য দায়ী। কেবলমাত্র জবাবদিহীহীন সরকার প্রধানের পক্ষেই এমন কথা বলা সম্ভব। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এমন সরকার প্রধানের পক্ষেই এ ধরনের বক্তব্য মানায়। প্রধানমন্ত্রী আপনি কি ভুলে গেছেন যে, আপনার কেবিনেটের মন্ত্রী বলেছিলেন- রাস্তায় গরু-ছাগল দেখতে পেলেই তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া হবে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হচ্ছে মূলত আপনার দুর্বিনীত সন্ত্রাসী সরকার। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী খানাখন্দে ভরা সড়ক-মহাসড়ক। প্রধানমন্ত্রী রঙিন চশমা খুলে দেখুন সারাদেশের সড়কের কি বেহাল দশা। কিভাবে আপনার সোনার ছেলেরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোটা পরিবহন ব্যবস্থাকে জিম্মি করে গণপরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি এর দায় এড়াতে পারেন না। এর জবাব পাবার সময় হয়ে গেছে। জনগণ এর জবাব নিশ্চয় নিবে।

রিজভী বলেন, সারা বাংলাদেশ থেকে দুই সিটিতে নির্বাচন উপলক্ষে অস্ত্রধারীদের মজুদ করছে আওয়ামী লীগ। কারণ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে হাতে বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকার বৈধ অস্ত্র জমা নেয়া হয়নি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি। একই সঙ্গে সারাদেশের বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রধারীরা দুই সিটিতে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় নির্বিঘ্নে অবস্থান নিচ্ছে। গতকাল গাজীপুরে ২৯ নয় ওয়ার্ডে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুক এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার সময় গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন ডিবি পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে বাধা দেয় এবং হেনস্তা করে।

গতকাল কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকায় পুলিশ হুমকি দিয়ে দিয়েছে যে, বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর দুই চাচাতো ভাই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণাসহ অন্যান্য নির্বাচনী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ বুধবার রাত ৮টা থেকে গণগ্রেফতার অভিযান শুরু করে। রাতভর মহানগরীর পাঁচ থানা ও জেলায় তাদের চালানো অভিযানে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া ১৯ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাসক দলীয় ক্যাডারদের হুমকি-ধামকি প্রদর্শন, পাঁচটি প্রচার মাইক ভাংচুরের চেষ্টা ও প্রচার কাজে নিয়োজিত ইজিবাইক আটকে রাখা, মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা, প্রার্থী এবং ঢাকা থেকে আগত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পথসভাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। পথসভার জন্য নির্ধারিত স্থান যুবলীগ কর্মীরা দখলে নিয়ে মহড়া দিয়েছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে একাধিকবার।

সরকারি দলের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তালুকদার আব্দুল খালেক নির্বাচনী আবচরণবিধিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চিকিৎসক-প্রকৌশলী-শিক্ষকদের সাথে প্রকাশ্যে সভা করেছেন। তাদেরকে ভুড়িভোজে আপ্যায়িত করেছেন এবং নৌকার পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ভোট গ্রহণের কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবেন যে সকল শিক্ষকরা, তাদেরকেও বাধ্য করা হয়েছে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আপত্তি দেয়ার পরও তাদের এই তৎপরতা বন্ধ হয়নি।

ধানের শীষের পক্ষে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে প্রচারে লিপ্ত কর্মীদের ওপর চলেছে গোয়েন্দা নজরদারি। বিভিন্ন মাধ্যমে নানা পন্থায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে কথা ছড়ানো হয়েছে যে, ৫ মে’র পরে বিএনপির কোনো কর্মীকে আর প্রচারণা কাজে নামতে দেয়া হবে না।

রিজভী বলেন, এরপর বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ৮টার পর থেকে মহানগীর পাঁচ থানা এলাকায় গণগ্রেফতার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ। রাত সোয়া ২টার দিকে গ্রেফতার হন মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ। রাত দেড়টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে খুলনা মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারুকে। এর আগে ৩০ এপ্রিল দিনদুপুরে ডিবি পুলিশ নগরীর ব্যস্ততম গল্লামারী এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় বাগেরহাট জেলা যুবদল সভাপতি মেহবুবুল হক কিশোরকে। কিশোর ওই দিন খুলনায় এসে নগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোড এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে এলাকায় ফিরছিলেন। এছাড়া বুধবার দিবাগত রাতভর সকল থানায় অভিযান চলেছে। দৌলতপুর থানার ৬ নং ওয়ার্ড থেকে বিএনপি নেতা আজিজুল খন্দকার ও তার ছেলে আরিফ খন্দকার, তিন নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রকিবুল ইসলাম মিঠু, যুবদল নেতা ফারুক হোসেনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

তিনি বলেন, খালিশপুর থানা পুলিশ যুবদল থানা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সান্টু ও ১৩ নং ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ভুট্টোকে গ্রেফতার করার পর তার হাইকোর্ট থেকে নেয়া জামিনের কাগজপত্র নিয়ে থানায় যাওয়া শুকুর ও সুমন নামে দুজনকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে ২১নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি আবু তালেব ও বিএনপি কর্মী গাউসকে। এছাড়া ৩১নং ওয়ার্ড বিএনপি কর্মী নাসিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে ১৮নং ওয়ার্ড যুবদল কর্মী আপনকে।

এছাড়া রূপসা থানার আইচগাতিতে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্রেফতার করা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলালের ভাই খুলনা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা উল বারী লাভলু, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, বিএনপি কর্মী আব্দুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলমকে। এরপর তাদেরকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

এছাড়া বুধবার দিবাগত সমস্ত রাত নগরী জুড়ে পুলিশ ও ডিবির অভিযান, নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, কর্মীকে বাড়ি না পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্য নারী ও শিশুদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করলে খুব খারাপ পরিণতি হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল এমপি এবং মাহবুবুল আলম হানিফ দুই বার খুলনায় এসে প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করেছেন। যা স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির পরিবর্তে বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠ থেকে বিতাড়িত করার জন্য সর্বাত্মক তৎপর হয়েছে। সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ওই দুই ব্যক্তির নির্দেশনাতেই পুলিশ প্রশাসন নগরী জুড়ে এমনতর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরো বলেন, দুই সিটিতেই মন্ত্রী-এমপি’রা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিটিং করছেন। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করছে। দুই সিটিতে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী হয়নি। শঙ্কা আর শিহরণের ক্ষণে ক্ষণে নৈরাজ্যের ছায়া ফেলেছে দুই সিটি কর্পোরেশনে। এখনো অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ দূরে থাক সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে দুই সিটি কর্পোরেশন। ভোটাদের যাপিত-জীবন এখন আতঙ্কময় সময়ের মধ্যে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও যুক্ত হয়েছে সরকারের অভিলাষ পূরণে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকদের এলাকাছাড়া করতে।

অতএব ভোটে আস্থার পরিবেশ তৈরী করতে হলে সেনা মোতায়েন করতে হবে। সেনা মোতায়েন ছাড়া দুই সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। অবিলম্বে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন পুলিশ সুপার এবং খুলনা সিটির পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার করতে হবে, অন্যথায় দুই সিটি কর্পোরেশনেই ভোটহরণের নির্বাচন হবে। সকল বাধার পরেও এখনও পর্যন্ত দুই সিটিতে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির শ্লোগান উঠেছে। যতই পরিকল্পনা মহাপরিকল্পনা করুন না কেন, জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত।

রিজভী জানান, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মিনু, উপজেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি রুবেল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক রতন, শ্রমিকদল নেতা ওয়াহাব এবং রেজাউল ইসলামসহ ৮ জনের অধিক নেতাকর্মীকে শান্তিপূর্ণভাবে ‘মে দিবস’ এর কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমি তাদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x