• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২০

ইউনাইটেডে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেয়ার দাবি মির্জা ফখরুলের

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ না পেয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি বলেছে, তাদের নেত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে সরকারকেই দায় নিতে হবে।দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তার বেশ কিছু রক্ত পরীক্ষা এবং এমআরআই করা জরুরি বলেও দাবি করেন ফখরুল।

শনিবার সকালে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল। এ সময় তিনি দলের চেয়ারপারসনকে বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেয়ার দাবি জানান।

ফখরুল বলেন, ‘এখনও সময় আছে অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তাঁকে তাঁর পছন্দনীয় চিকিৎসক দ্বারা এবং হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন এবং সারাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করুন। অন্যথায় দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তার দায়-দায়িত্ব পুরোটাই সরকারকে বহন করতে হবে।’

খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার বিষয়ে কোনো লিখিত আবেদন করবেন কি না-এমন প্রশ্নে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হলে আপনাদেরকে জানাব।’জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

গত ২৮ মার্চ খালেদা জিয়াকে একটি মামলায় আদালতে হাজির না করার পর তার অসুস্থতার বিষয়টি ছড়ায়। আর পরদিন ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে দেখে আসে। এর তিন দিন পর ১ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার জন চিকিৎসককে নিয়ে গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড।এই বোর্ডের পরামর্শে গত ৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এসে খালেদা জিয়ার বেশ কিছু এক্সরে করানো হয়।

এর আগে ৩০ মার্চ বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল। কিন্তু এর অন্য রাজনৈতিক মানে তৈরি হয় এবং বিএনপি সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসতে চাইছে কি না, এ নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে বিএনপি বিদেশে চিকিৎসা দেয়ার দাবি পাল্টে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি তোলে।গত বুধবার মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস এবং নজরুল ইসলাম খান কারাগারে গিয়ে তাদের নেত্রীর দেখা পাননি। পরদিন কারাগার থেকে ফিরতে হয় খালেদা জিয়ার কয়েকজন স্বজনকেও।

ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কারাগারে ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আমরা যে খবর পাচ্ছি তাতে সারাদেশ জাতি উৎকন্ঠিত। গতকাল ২০ এপ্রিল তারিখে তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ পূর্ব সিদ্ধান্তে সাক্ষাৎ করতে পারেননি।’

‘তার আগে ১৮ এপ্রিল তারিখে আমিসহ আমাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব মির্জা আব্বাস ও জনাব নজরুল ইসলাম খানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ সুস্পষ্টভাবে কোন কারণ দেখানো হয়নি। জেলার ভেতর থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে জনাব মির্জা আব্বাসকে জানান যে, আজ সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ প্রায় ১০ দিন যাবৎ পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং দল দেশনেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পায়নি। এতে করে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।’

‘আমরা সংবাদপত্র সূত্রে জানতে পেরেছি যে, সরকার কর্তৃক গঠনকৃত একটি মেডিকেল টিম তাঁকে পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রফেসর মালিহার রশীদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি মেডিকেল টিম তাঁকে দেখতে যান। সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, তিনি বেশ কিছু ব্যাধিতে আক্রান্ত, এর মধ্যে এক্যুইট রিউমেটিক আর্থারাইটিস তাঁকে বেশ কষ্ট দিচ্ছে।’

‘তাঁরা অবিলম্বে তাঁর পছন্দনীয় হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করেছেন। বিশেষ করে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা এবং এম আর আই পরীক্ষা তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। অথচ এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কোনো বক্তব্য আমাদের দেননি বা জাতির সামনে তুলে ধরেননি।’

ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের গণমানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। মিথ্যা সাজানো মামলায় তাঁকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে তাঁকে এবং তাঁর দলকে রাজনীতি থেকে দুরে সরিয়ে দেওয়া।’

‘গণবিচ্ছিন্ন ও রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া সরকারের ২০১৪ এর মতো একতরফা নির্বাচনের প্রহসনের মধ্য দিয়ে আবারও ক্ষমতা দখলই হচ্ছে তাদের মূল উদ্দেশ্য। আইনের বিধানকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে দেশনেত্রীকে জামিন না দেওয়ায় কারাগারে তাঁর প্রাপ্য সুবিধা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা, সুচিকিৎসা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা-এটা অমানবিক।’

যে কক্ষে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে তা সংবিধানপরিপস্থি দাবি করে বিএনপি নেতার অভিযোগ, সরকারি ডাক্তাররা তাদের নেত্রীর জন্য অর্থোপেডিক বেড সরবরাহ করার সুপারিশ করলেও তা মানা হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘হায়াত-মওত আল্লাহর হাতে’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তারও তীব্র নিন্দা জানান ফখরুল। বলেন, বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে এবং আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

Leave a Reply

More News from বাংলাদেশ

Developed by: TechLoge

x