• শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৯

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ২৫ এপ্রিল

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ ও ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিনের আবেদন করেছেন । আগামী ২৫ এপ্রিল এ দুটি মামলার জামিন শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন ঢাকার সিএমএম আদালত।

আজ ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী এ দিন ধার্য করেন।খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া জানান, আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে দুটি মানহানির মামলায় জামিনের আবেদন করলে বিচারক আগামী ২৫ এপ্রিল জামিন শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগের মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে একটি মানহানির মামলা করেন।ওই দিন ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলায় খালেদা জিয়া এবং তাঁর স্বামী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ভুয়া জন্মদিনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ১৫ আগস্ট থেকে জাতীয় শোক দিবসে ইচ্ছাকৃতভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জন্মদিনের ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে তা পালন করছেন খালেদা জিয়া।এ অনুষ্ঠানে ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে নানা রকম কুৎসা, বানোয়াট গল্প প্রচার ও গুজবের মাধ্যমে সম্মানহানি ঘটানো হয়।এভাবে কুরুচিকর বক্তব্যের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করাসহ স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে আনন্দ-উল্লাস করে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যা পৃথিবীর ইতিহাসে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের আইন, রাষ্ট্র ও সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ড।মামলায় আরো বলা হয়, খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালের ২২ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাক ও ১৯৯৭ সালের ২৭ আগস্ট দৈনিক সংবাদে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়।

সেখানে লেখা হয়, খালেদা জিয়ার এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট অনুসারে জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকায় খালেদা জিয়ার জীবনী প্রকাশ করা হয়। সেখানে লেখা হয়, তাঁর জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার কাবিননামায় জন্মদিন উল্লেখ করা হয় ১৯৪৪ সালের ৯ আগস্ট এবং সর্বশেষ ২০১১ সালের তাঁর মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে জন্মদিন উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট।গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং আসামিদের দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়। এর পরে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট।দুদক পরবর্তীতে লিভ টু আপিল করলে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত রাখেন।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x