• রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

খালেদা জিয়াকে অপ্রস্তুতভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়: রিজভী

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ শনিবার সম্পূর্ণ অপ্রস্তুতভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এসে টানাহেঁচড়া করা হয় শুধু হেনস্থা ও হয়রানি করার জন্য।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেছেন। আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অভিযোগ করেন তিনি।

দুই মাস কারাবন্দি থাকার পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। হাসপাতালের উচ্চপর্যায়ের একটি মেডিকেল টিম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর দুপুর দেড়টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফের কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে আজ বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিজভী। এ নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে বিএনপি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ হাসপাতালে আনার সময় সম্পূর্ণ অপ্রস্তুতভাবে আনা হয়েছে। কারাগারে তাঁর কক্ষের কাছে গিয়ে বার বার তাগিদ দিতে থাকেন কর্মকর্তাসহ সাত-আটজন কাররক্ষী। একজন মুসলিম ধর্মপ্রাণ নারী হিসেবে ৩০-৩২ বছর ধরে তিনি (খালেদা জিয়া) শাড়ির ওপর চাদর অথবা ওড়না পরিধান করেন। এ সরকার এত হীন এবং কুৎসিৎ মনোবৃত্তির যে একজন বয়স্ক নারী যিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাঁকে চাদর অথবা ওড়না পরিধান করার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাঁকে একরকম জোর করেই গাড়িতে ওঠিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছে। পিজি (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে ৫১২ নম্বর কক্ষে তাঁকে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসার নামে পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রহসনেরই নামান্তর। কোনো চিকিৎসাই সেখানে তাঁকে দেওয়া হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কোনো পরামর্শের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আইনেও আছে একজন বন্দি পূর্বে যেসব চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতেন কারাগারেও তাদের চিকিৎসা নিতে পারবেন।’

রিজভী বলেন, ‘গত পরশু দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়েছে যে বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে প্রধান কারারক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অথচ এর কোনো প্রতিফলন আজকে দেখা যায়নি। বেগম জিয়া ১৫-২০ বছর ধরে যে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের চিকিৎসা নিচ্ছেন অথচ চিকিৎসকদের চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বেগম জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে-খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে গেলে সেখানে পরিবারের সদস্যদের পর্যন্ত দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে এসে  টানাহেঁচড়া করা হয়েছে শুধুমাত্র হেনস্থা ও হয়রানি করার জন্য। দেশনেত্রীর গাড়ি হাসপাতালে এসে পৌঁছলে তাঁকে একরকম টানাহেঁচড়া করে ওপরে উঠানো হয়। গাড়ি থেকে নামার জন্য সিড়ি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে হাসপাতালে ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতিতে এক রকম অপমানজনকভাবে তাঁকে হাসপাতালে ওঠানো-নামানো হয়েছে। একজন মানুষ হিসেবে বেগম জিয়ার যে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার সেটাকেও হরণ করতে ক্ষমতাপস্বী সরকারপ্রধান বিষদাঁত লুকাতে পারছে না। নিজেকে সাধু দেখানোর জন্য সরকার বেগম জিয়ার চিকিৎসার নামে নাটক করেছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব আরো বলেন, ‘আওয়ামী রাজত্বের ছাইপাঁশের সঙ্গে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান, দপ্তর, সেবা বিভাগ বলপূর্বক হরণের ধারায় বেঁধে ফেলা হয়েছে বলেই সরকারি হাসপাতালে বিরোধী দলের সেবা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই সুযোগ ও অধিকারহীনতার শিকার হলেন বেগম খালেদা জিয়া। আমি বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি দেশনেত্রীর চিকিৎসা বিষয়ে সরকার আজ যে বায়েস্কোপ দেখালো তা নিন্দা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। দেশনেত্রীর প্রতি সরকারের এ বাতিকগ্রস্ত উদ্ভট আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানচ্ছি। বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ধারাবাহিকতা বন্ধ না করলে কোটি কণ্ঠের হুঙ্কারে এ সরকারের গদিকে উল্টে দিতে জনগণ প্রস্তত।’

সুচিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘অত্যাচার নিপীড়ন জুলুমের তীব্র কষাঘাত ও স্বামীহারা সন্তানহারা এক সর্বংসহা নারী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অটুট মনোবলে সব ধৈর্য ধারণ করেছেন দেশমাত্রিকা ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকারে। বেগম জিয়ার অগ্রযাত্রায় বলপূর্বক প্রতিহত করে কোনো লাভ হবে না। তাঁকে কোনোভাবেই টলানো যাবে না। অদৃশ্য গণতন্ত্রের পুনজ্জীবন করতে তিনি ধ্রুব তারার মতো স্থির অবিচল লক্ষে সকল বাঁধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাবেন।’

Leave a Reply

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x