• সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

আওয়ামী লীগের জনসভায় খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রত্যাশা বিএনপির

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিএনপির প্রত্যাশা, তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেবেন।

তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের জনসভা থেকে আমি আশা করি, দেশের মানুষের যে প্রত্যাশা তা পূরণকল্পে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি কথা বলবেন। এগুলো হলো, আমরা আশা করি উনি বলবেন: জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা উনি করছেন, উনি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করছেন, মানবাধিকার যে লঙ্ঘিত হচ্ছে সেদিকে উনি মনোযোগি হবেন, দেশে আইনীর শাসন ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে উনারা (সরকার) মনোযোগী হবেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি মনোযোগী হবেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ সংসদ ও সরকার গঠনের জন্য তাঁর বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি থাকবে।’

বুধবার (৭ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, ‘৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মার্চের আজকের জনসভা। আমরা জনসভাকে স্বাগত জানাই। কারণ প্রত্যেক দল তাদের আদর্শ ও চিন্তা-চেতনা নিয়ে অনুষ্ঠান করবে। আর সেখানে কারো দ্বিমত থাকার কারণ নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে জনসভা করে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন এবং জনগণকে জনসভায় ঢেকে শপথ গ্রহণ করা হচ্ছেন। তাই আমরা চাই, আমাদের সাংবিধানিক, নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার, সভা-সমাবেশ করার যে অধিকার, সেই অধিকার টুকু আমাদের পালন করতে দেন (প্রধানমন্ত্রী)। আমরা কাউকে শপথ গ্রহণ করাবো না। কারণ শপথ গ্রহণ করানো সংবিধান, স্বাধীনতার পরিপন্থী ও অনৈতিক।’

খসরু বলেন, ‘স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা, সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারের সাথে যারা সম্পৃক্ত তারাও জনসভায় আসছেন। এতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কারণ আমরা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ চাই। সুতরাং আজকে যারা ক্ষমতাসীন দল তারা জনসভা করবে, এখানে কোন ভিন্নমত থাকার কারণ নাই।’

১২ মার্চ বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি চেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহ হলেও এখনও অনুমতি মেলেনি। অথচ আজকে যারা জনসভা করছে, তারা গত ১০ দিন ধরে ঢাকায় মাইকিং করছে, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই ব্যানার-ফেস্টুন। দুঃখ হয়, কারণ আমরা তো এগুলো কিছু চাচ্ছি না! আমরা শুধু চাচ্ছি সভার অনুমতি। যেটা আমার সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার। সেই অধিকার থেকে আজকে বিএনপি বঞ্চিত হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ তাদের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা পরিপূর্ণভাবে পালন করছে মন্তব্য করে খসরু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তাদের সব স্বাধীনতা ভোগ করছে। কোন অবহেলা করছে না। কিন্তু আজকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক, সাংবিধানিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রকি অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ। যে কারণে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারছে না, সমতল ভূমিতে রাজনীতি হচ্ছে না, বাক-স্বাধীনতা বাধাগ্রস্থ এবং গণমাধ্যম ও আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে যুব সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

Leave a Reply

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x