• রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীর বাসায় পুলিশের তল্লাশি, বিএনপিতে আতঙ্ক

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই নেতাকর্মীদের বাসায়-বাসায় তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে  শুরু হয় আতঙ্ক। এতে বাসা-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে পালিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে তাদের। এর রেশ পড়েছে বুধবার দিনেও। আদালতে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাজিরাকে কেন্দ্র করে অন্য সময় নেতাকর্মীরা শোডাউন দিলেও বুধবার এর মাত্রা ছিল অনেকটাই কম।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছিলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে সরকার শক্ত অবস্থান নিয়েছে। আর এটাই সন্দেহ করেছিলেন তারা, যে সরকার কোনোভাবেই চায় না বিএনপি নির্বাচনে আসুক।’

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, ‘মঙ্গলবার রাত থেকেই নেতাকর্মীদের বাসায়-বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’ তার অভিযোগ, ‘অনুপ্রবেশকারীরাই মঙ্গলবার মিছিল থেকে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।’

ইতোমধ্যে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতারকৃত স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির দফতর থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাতে অর্ধশতাধিক নেতার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে কারও-কারও বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বাসভবনে পুলিশ তার খোঁজ করেছে। ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান ধানমন্ডির বাসভবন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী’র শান্তিনগরের বাসভবন, বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের পল্লবী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আইনজীবী রফিক সিকদার, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন, জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজিজুল হাকিম আরজু’র বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।

রিজভী দাবি করেন, ‘মঙ্গলবার থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৮০ জনের মতো নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে।’

আটককৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ঢাকা মহানগর (উত্তর) দক্ষিণ খান থানার ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এম মিন্নত আলী, দক্ষিণ খান থানা বিএনপি’র সদস্য হারুন অর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক দল উত্তর খানা থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ খান থানার ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, পল্লবী থানা বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান, তুরাগ থানা বিএনপি নেতা বুলু, খোকন সরকার, কবির, রামপুরা থানা বিএনপি নেতা ডল, ঢাকা মহাগর দক্ষিণ কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপি নেতা বাবুল, মানিক, নিউ মার্কেট থানা বিএনপি নেতা মতিউর রহমান, চকবাজার থানা বিএনপি নেতা আলামীন, শ্যামপুর থানা বিএনপি নেতা জামান আহমেদ পিন্টু, পল্টন থানা বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন তালুকদার, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা, মহিলা দল নেত্রী আরজু, শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর নেতা জিল্লুর রহমান, আলম, জসিম ও আলম দেওয়ান।

ছাত্রদল নেতা সায়মন কবির শাওন বাংলা ট্রিবিউনকে  বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ছাত্রদল নেতারা বাসায় ঘুমাতে পারছেন না। তাদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে পুলিশ হানা দিচ্ছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সন্দেহ করেছিলাম, আগেও বলেছি, সরকার বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচনে যেতে চায়। আর যেহেতু বিএনপি ইতোমধ্যে পরিষ্কার করেছে, তারা নির্বাচনে যাবে, সেহেতু সরকার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। তারা মূলত তাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।’

Leave a Reply

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x