• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০

বিএনপির শীর্ষ নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের নেপথ্যে

Posted on by

বিএনপিকে ঠেকাতে আবারো একাট্টা হয়েছেন ইনু-হাসিনা-জয়। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ইমেজ বিনষ্ট করতে অপপ্রচার চালানো। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা তার বিশ্বস্ত কয়েকজনকে নিয়ে একটি বৈঠক করেন। শেখ হাসিনা ছাড়াও মিটিংয়ে ছিলেন হাসানুল হক ইনু , সজীব ওয়াজেদ জয়, এইচ টি ইমাম, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এবং একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকসহ আরো তিনজন। একটি সূত্রমতে, বৈঠকের এক পর্যায়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ইচ্ছায় বৈঠকে হাজির হন তারানা হালিম। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হবে ।

একটি গোয়েন্দা সূত্রের তদন্তে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে “বাংলা ইনসাইডার” নামে একটি ওয়েব পোর্টাল খুলে সাংবাদিক নামধারী বোরহান কবির নামে এক ব্যক্তি। এর আগে ধানমন্ডিতে বোরহানের প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল “ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড”। সেই অফিস থেকেই যাত্রা শুরু করে ওয়েব পোর্টাল “বাংলা ইনসাইডার” । বোরহানের “ক্রিয়েটিভ মিডিয়া” কয়েকজন মন্ত্রী এমপি, দুইজন সম্পাদকসহ অনেকের কাছেই নিরাপদ “হেরেম” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। মিডিয়ার সঙ্গে ভালো যোগাযোগ থাকার কারণে শোবিজের অনেকেই বোরহানের হেরেমে যাতায়াত ছিল নিত্যনিয়মিত । ফলে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতামন্ত্রীদের যাতায়াত ও বেড়ে যায় সেখানে । ফলে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল হিসেবে বোরহানের হেরেমের সেবা নেয়া কমপক্ষে দু’জনের পরামর্শে প্রথমে “বাংলা ইনসাইডার” নামে একটি ওয়েবপোর্টাল চালু করা হয় । তবে বোরহানের কপাল খুলে যায় ইনু-হাসিনা-জয়-ইমাম এবং তারানার বৈঠকের পর। নিজের অপকর্ম আড়াল করার লক্ষ্যে “বাংলা ইনসাইডার” চালু করলেও এটি এখন আওয়ামী লীগের অপপ্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সূত্রমতে, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কৌশল ঠিক করা হয়। এ কাজে তারানা হালিমের মুখ থেকে প্রথমে বেরিয়ে আসে বোরহান কবিরের নাম। বোরহানের “বাংলা ইনসাইডার ” নামে ওয়েব পোর্টালটি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়। হাসানুল হক ইনুও তারানা হালিমের প্রস্তাব সমর্থন করেন। তবে এইচ টি ইমাম এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন বোরহান কবিরকে বিশ্বাস করা যায়না। এইচ টি ইমাম বলেন, তার কাছে রিপোর্ট আছে , বোরহান কবির গ্রামে থাকার সময় শিবিরের সাথী ছিল। পরে সে ঢাকায় এসে আওয়ামী লীগের পক্ষে লেখালেখি শুরু করে। এছাড়াও বোরহান এখন অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। একটি সূত্র বোলেছে, এ সময় শেখ হাসিনা হাসতে হাসতে মন্তব্য করে বলেন, “খারাপ কাজ খারাপ মানুষকে দিয়েই করাতে হয়, দেখেন না ইনু সাহেব বিএনপির বিরুদ্ধে ভালো সার্ভিস দিচ্ছে” ।

শেখ হাসিনার মন্তব্য শুনে হাসানুল হক ইনুর মুখ কালো হয়ে যায়। তবে এইচ টি ইমামও আর কথা বাড়াননি। এদিকে বৈঠকে অপপ্রচারের কাজে ব্যবহারের জন্য বোরহান কবিরের পাশাপাশি “পূর্বপশ্চিম” নাম একটি ওয়েব পোর্টালের পীর হাবিবুর রহমানের কথা উল্লেখ করেন একজন সম্পাদক। সম্পাদক বলেন, এই দু’জন প্রথমে বিএনপির বিরুদ্ধে নিউজ তৈরী করবে তারপর সে নিউজ বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হবে। একটি গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, বিএনপির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অপপ্রচারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

গোয়েন্দা রিপোর্টটিতে বলা হয়, বৈঠকে বোরহান কবিরেরে সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয় জাহাঙ্গীর কবির নানককে এবং পীর হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করছেন “অ” আধ্যাক্ষরযুক্ত আওয়ামী লীগের একজন “নারীনেত্রী”। এরপর থেকেই বিএনপি এবং এর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন মনের মাধুরী মিশিয়ে নিউজ তৈরী এবং সাপ্লাই করছে “পীর হাবিব” এবং “বোরহান কবীর “। এরপর এই দুই গল্পকারের দুই ওয়েব পোর্টালের বরাত দিয়ে সেই নিউজ প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন দৈনিকে। সেই সব রিপোর্ট নিয়ে বক্তৃতা করছেন হাসান মাহমুদ, মাহবুবুল হক হানিফসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে গেলে সেখানে তিনি পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ে’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন এমন একটি সংবাদ পীর হাবিবের ওয়েবপোর্টাল “পূর্বপর্শ্চিমের” বরাত দিয়ে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে একই ঘরানার কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়। এমনকি নিউজের সঙ্গে ছবিও প্রকাশিত হয়। নিউজটি প্রকাশিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক সুবিধা চেষ্টা করলেও দেশের সেনাবাহিনীর একটু গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্টটির সত্যতা যাচাই শুরু করে। তাদের তদন্তেই বেরিয়ে আসে এসব তথ্য।
source: বিডি পলিটিকো

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x