• রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাজনৈতিক বৈরিতাকে আরো উস্কে দিয়েছে

Posted on by

সিপিবি, বাসদ ও বাম মোর্চার শীর্ষ নেতারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে গতকাল গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে বৈরিতাকে আরো উস্কে দিয়েছে। নাকে খত দেওযা ও না দেওয়ার অপরাজনীতি দেশের নির্বাচন কেন্দ্রিক বর্তমান সংকটকে আরো বাড়িয়ে দেবে। শুক্রবার উল্লেখিত সিপিবি-বাসদ ও জোটের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ’র) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ক্ষুব্ধ মনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি মোকাবিলায় দলের অভ্যন্তরে, বিশৃঙ্খলা, সাংঘর্ষিক, অরাজগতা ও সার্বিক দেশি-বিদেশি বৈরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় চাপে হয়ত তিনি অযাচিত বক্তব্য দিয়েছেন-যা নির্বাহী প্রধান হিসেবে এবং বর্তমান সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সংযত হয়নি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি’র) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সঙ্গে সংলাপ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকটের কোনো উত্তরণ ঘটবে না। এই গণতন্ত্র সংকটের মূল কারণ হলো আমাদের দেশের ’৭৫ উত্তোর লুটেরা শাসক শ্রেণীর শাসন। তাই লুটেরা শাসক শ্রেণীর বিকল্প শক্তিই পারে গণতন্ত্রের সংকট সমাধান করতে।

ছয় বাম দল নিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার প্রধান সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, এই ধরনের একটি সংকটময় পরিস্থিতি জনগণ সরকারের প্রধান নির্বাহীর কাছ থেকে যে ধরনের মন্তব্য ও আচরণ আশা করেন-প্রধানমন্ত্রী তা রাখতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য সরকার ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ ও বৈরিতাকে আরো উস্কে দিবে। নাকে খত দেওয়া না-দেওয়ার অপরানীতি দেশের নির্বাচন কেন্দ্রিক বর্তমান সংকটকে আরো বাড়িয়ে দেবে। আমি খুবই স্পষ্টভাবে মনে করি যে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে জেদ ও অহমিকা পরিহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও জনগণ আস্থায় নেওয়া প্রয়োজন।

কারণ বাংলাদেশ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বচনী তামাশা করার কোনো অবকাশ নেই। জবরদস্তি করে আরেকটি তামাশা করতে চাইলে তা সমগ্র দেশ ও তার গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতকে গভীর খাদে নিপতিত করবে। আশা করি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে কার্যকরী রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখা উচিত ছিল। গত সংসদ নির্বাচনেও বিরোধীদল ও বামপন্থি দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যদিয়ে বিরোধীদলের প্রতি তিনি কোনো সম্মান দেখাননি। তার এ বক্তব্য কাঙ্খিত নয়-অনাকাঙ্খিত। আগামী নির্বাচনের জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বশীর বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠুক, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

Leave a Reply

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x