আজ বৃহস্পতিবার,২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

ছাতকে খোকন চৌধুরীর রাজনৈতিক ডিগবাজীতে তোলপাড় চলছে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭ ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ   আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭ at ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ
 

বিশেষ প্রতিনিধি,সিলেট থেকেঃ ছাতকের খোকন চৌধুরীর রাজনৈতিক ডিগবাজীতে তোলপাড় চলছে। সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন কে নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।উপজেলা যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় মৌখিক ভাবে ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করায় সমালোচনা শুরু হয়।পদত্যাগের ঘোষনার পর গত ২০ আগষ্ট,খোকন চৌধুরীর মালিকানাধীন ও তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ডেইলী ছাতক ডট কম অনলাইনে প্রথম নিউজ প্রকাশিত হয়।এর পর বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় দৈনিক সহ,অনলাইনে একই নিউজ প্রকাশ হয়। ছাতক উপজেলা আওয়ামীলীগসহ অঙ্গ সংগঠনে গ্রুপিং থাকায় খোকন চৌধুরীর পদত্যাগে বিপাকে পড়ে উপজেলা যুবলীগের নেতা কর্মীরা।সবদিক বিবেচনা করে গত ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার উপজেলা কমিঠির প্রথম সহ-সভাপতি ও জাউয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হুসেনকে ছাতকে উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়।

FB_IMG_1504991431167

            (মুরাদ হোসেন)

শনিবার (৯সেপেম্বর) উপজেলা যুবলীগের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৪সালের ২৩জুলাই সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের তৎকালীন আহ্বায়ক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন লিখিতভাবে সাইফুর রহমান চৌধুরি খোকনকে সভাপতি ও বিল্লাল আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে দু’সদস্য বিশিষ্ট ছাতক উপজেলা যুবলীগের কমিটি অনুমোদন দেন। এরপর ২০১৭সালের ২৩ফেব্রুয়ারি গোবিন্দগঞ্জের তানজিনা সেন্টারে উপজেলা যুবলীগের ৭১সদস্য বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। অবশেষে ২০আগষ্ট অনিবার্য্য কারণ বশতঃ রাজনীতিতে থেকে সরে দাড়ান কমিঠির সভাপতি। এসময় তিনি কমিঠির পদ থেকেও পদত্যাগ করেন সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন। এতে কমিঠির প্রথম সহ-সভাপতি মুরাদ হোসেনকে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনীত করা হয়।এই ঘোষণার পর নড়েচড়ে উঠেন খোকন চৌধুরীর কিছু অনুসারী। তারা দাবী করেন খোকন চৌধুরী পদত্যাগ করেননি।তিনি শুধু ঘোষণা দিয়েছিলেন।সেই হিসাবে খোকন চৌধুরীকে তারা যুবলীগের সভাপতি হিসাবে ঘোষণা দিয়ে এক সভার আহবান করেন।

গতকাল রোববার বিভিন্ন মাধ্যমে তৃণমূল যুবলীগের এক সভা আহবান করেন। আগামী ১২ সেপটেম্বর খোকন চৌধুুরীর ব্যক্তিগত অফিসে এই সভার আয়োজনের ঘোষণা করা হয়।এই ঘোষনার পর ছাতকের রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়।

খোকন চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ছবি দিয়ে বিশ্বজিত ঘোষ ও উপজেলা যুব লীগের দপ্তর সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম ফজল পৃথক ভাবে এই সভার ঘোষনা ফেসবুকে আপলোড করেন।বিশ্বজির ঘোষ প্রথমে লেখেন, “আসসালামু আলাইকুম,আগামী 12 ই সেপ্টম্বর 2017 খ্রীঃ রোজ মঙ্গলবার সময় সকাল 10:30 ঘটিকায় এস এম চৌধুরী মার্কেট নিচ তলায় বাঘবাড়ী মসজিদ এর পাশে ছাতক উপজেলা তৃণমূল যুবলীগ এর জরুরী সভার আযোজন করা হয়েছে উক্ত সভায় আপনাদের উপস্থিতি কমনা করি।দাওয়াতক্রমে:সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন, সভাপতি  বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ছাতক উপজেলা শাখা।

কিন্তু কিছু সময় পর বিশ্বজিত তার পোষ্ট এডিট করে খোকন চৌধুরীর ছবি ও নাম বাদদেন।

একই ঘোষনা দেন উপজেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম ফজল,এই ঘোষণার পর পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় উঠে।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, বিশেষ দিন উপলক্ষে এতোদিন তিনি যুুবলীগের সভাপতি হিসাবে সোশ্যাল মিডিয়াতে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে আসছেন।কিন্তু পদত্যাগের ঘোষণার পর গত ঈদুল আযহায় একজন ব্যবসায়ী হিসাবে ঈদ শুভেচ্ছা জানান।

এব্যাপারে খোকন চৌধুরীর সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউকে বিডিটাইমসকে জানান,খোকন চৌধুরী আওয়ামীলীগ নামধারী কিছু কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন।কিছুদিন পর তাঁর এই উপলব্ধি হবে।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে খোকন চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত ডেইলী ছাতকে যা প্রকাশ হয়েছিলো,তা পাঠকের জন্য দেয়া হলঃ

ছাতক প্রতিনিধিঃছাতক উপজেলা যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষনা দিয়েছেন উদিয়মান বিছক্ষণ ও পরিচ্ছন্ন  আওয়ামী ঘরনার রাজনীবিদ বিশিষ্ট শিল্পপতি সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন। একবিবৃতিতে  রাজনৈতিক কাদা-ছুড়া- ছুড়ি থেকে নিজেকে দুরে রাখতেই যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করার ঘোষনা দেন। সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন ছাতক শহরের বাগবড়ি
এলাকার স্বনামধন্য কুলিন মুসলিম পরিবারের সন্তান। তার পিতা সুনু মিয়া চৌধুরী ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের অন্যতম  একজন। তার বড় ভাই বাবর চৌধুরী ব্যবসায়ী ম্যাগনেট হিসেবে দেশে-বিদেশে রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। পারিবারিক সুত্র ধরেই সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন ছাত্র জীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মনে-প্রানে উপলব্ধি করে অনুপ্রানিত হয়েছেন। ছাত্রলীগের গর্বিত সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়েই তার রাজনীতির হাতেকড়ি ঘটে। রাজনীতির পাশাপাশি অল্প বয়সেই একটি দক্ষ ও সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন
করতে সক্ষম হয়েছ্ধেসঢ়;ন তিনি। কোটি-কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দেশে-বিদেশে গড়ে তুলেছেন একটি মজবুত ব্যবসায়ী প্লাটফর্ম। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা-মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান-দক্ষিনা করে নিজেকে একজন শিক্ষানুরাগী ও ইসলাম ভিরু মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আওয়ামী রাজনীতিতে পরিপূর্নভাবে নিজেকে সক্রিয় করে তুলেন মুলত
২০০৮ সালে। ছাতক-দোয়ারার আওয়ামীলীগ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত থাকলেও সাইফুর রহমান
চৌধুরী খোকন নিজেকে গ্রুপিং রাজনীতি থেকে দুরে রাখার পক্ষেই ছিলেন। দলের পরিচ্ছন্ন
রাজনীতির স্বার্থে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্তা রেখে তিনি সব সময়ই নৌকার পক্ষে কাজ করে গেছেন। সে সুবাদেই ছাতক-দোয়রার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সাথে হাত মিলিয়ে বিগত ১০ বছর ধরে নিঃস্বার্থভাবে দলের কাজ করে
গেছেন তিনি। নিজের পকেটের টাকা ব্যয় করে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে চাঙ্গা রাখতে তিনি চেষ্টা করে গেছেন সব সময়। সম্ভাবনাময় ও সৎ নেতৃত্ব তার মাঝে ফুটে উঠলে পৌর এলাকার নাগরীকরা তাকে নিয়ে এক অন্য রকম স্বপ্ন দেখতে থাকে। নাগরীকদের চাপে একবার তাকে মেয়র পদে নির্বাচনও করতে হয়েছে। একজন প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সাইফুর রহমান চৌধুরী অফিস-আদালতে কখনই প্রভাব বিস্তার করেননি। দলীয় পদ-
পদবীর প্রতি ছিল না তার কোন লোভ-লালসা বা তদবির। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন আদর্শ সৈনিক হিসেবে দলের কাজ করাই ছিল তার নেশা। দলের একজন আদর্শ কর্মী
হিসেবে সকলের মনে স্থান করে নেয়ায় ২০১৫ সালের প্রথম দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইফুর
রহমান চৌধুরী খোকনকে ছাতক উপজেলা যুবলীগের সভাপতির আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়। তার শত
অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যুবলীগের শত-শত নেতা-কর্মীদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে যুবলীগের এ মহান দায়িত্ব তিনি সাদরে গ্রহন করেন। উপজেলা যুবলীগের দায়িত্ব নেয়ার পর গোটা উপজেলা জুড়ে যুবলীগের সুপ্ত নেতা-কর্মীরা আকষ্মিকভাবে জাগ্রত হয়ে উঠে। নেতা-কর্মীদের
অনুপ্রেরনায় অনুপ্রানিত হয়ে এক এক করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড যুলীগের কমিটি গঠনে ঝাপিয়ে পড়েন তিনি। অল্প দিনেই উপজেলা যুবলীগের একটি শক্তিশালী কাঠামো বা ভিত গড়তে সক্ষম তিনি হন । কিন্তু রাজনীতির কাদা-ছুড়াছুড়ি ও নোংরামী প্রতিনিয়িত তাকে ভিষমভাবে পীঁড়া দিত। প্রশাসনে দলীয় প্রভাব, মামলা-মোকদ্দমায় তদবীর, প্রশসানিক কাজে অহেতুক
হস্তক্ষেপ, ঘুষ-দুর্নিতি, অনিয়ম, লুটপাট এসব তিনি কিছুতেই মানতে পারছিলেন না। যে করনে এখানের রাজনীতি থেকে নিজকে সরিয়ে নিতে পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন। পদত্যাগের বিষয়ে সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আওয়ামীলীগ হল একটি গণ-মানুষের দল। মানুষের কল্যাণে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর সু-যোগ্য তনয়া জননেত্রী শেখ
হাসিনাও পিতার দেখানো পথ ধরেই হাটছেন। দেশরতœ শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন সামনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি পূর্ন আস্তা
রেখেই মুজিব সৈনিকরা মানুষের কল্যাণে তৃণমুল পর্যায়ে রাজনীতি করছেন। কিন্তু অল্প সময়ের
রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন এখানের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এখানের
নেতৃত্বস্থানীয়রা গ্র“পিং রাজনীতির নামে গড়ে তুলেছেন স্ব-স্ব লীগ। নেতা-কর্মীরা

ব্যক্তিলীগে সম্পৃক্ত হয়ে আলাদা-আলাদা গ্র“পে বিভক্ত হয়ে আছেন। ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে একে অন্যের প্রতি কুৎসা রটনা করে ড়োচ্ছেন। প্রতিনিয়ত চলছে পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছুড়া-
ছুড়ি। দল বড় করতে নয় নিজেদের পাল্লা ভারি করতেই দলের নাম ব্যবহার করছেন এসব নেতারা। এসব
নেতারাই গোটা ছাতককে দুটি অংশে বিভিক্ত করার পায়তারা করছেন। ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করতে গিয়ে নিজদের শক্তি প্রদর্শন করার বিষয়টি ছিল মুখ্য। ওইদিন গোটা শহর ছিল পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে। জাতীয় শোক দিবস পালনের নামে এসব কিসের ইঙ্গিত ছিল। প্রশাসনের্কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাধীন মতে কাজ করতে পারছে না। হুমকী-ধামকী ও তদরিরের কারনে
প্রশাসনের অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন চরম দূর্নীতিতে। ভাল, সৎ অফিসার ছাতকে আসতে চায়
না। আসলেও এখানে থাকতে চায় না। এর পেছনে কি কারন লুকিয়ে আছে। আওয়ামীলীগ নেতা
পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর সরকারী গাড়ি ভাংচুর করা হয় গোবিন্দগঞ্জে। এমিপ মুহিবুর
রহমান মানিককে ঘোষনা করা হয় অবাঞ্চিত। প্রশাসনিক চত্ত্বরে জনপ্রতিনিধিরা জড়িয়ে পড়েন
মুষ্টিযুদ্ধে। জনপ্রতিনিধির উপর হামলা-মামলা, এসব নোংরামী হচ্ছে কার স্বার্থে। ছাতক-দোয়ারায় নিজের বাড়ি পরিচয় দিলেই এসব তুলে ধরে অন্য জেলার মানুষ ছাতক-দোয়ারার মানুষকে লজ্জা দেয়। এখন প্রশ্ন হল-এ লজ্জা কার। এ লজ্জা আর কারো নয়-ছাতক- দোয়ারার অবহেলিত মানুষের।এসব ভেবেই এখানের নোংরা রাজনীতি থেকে নিজেকে দুরে রাখতেই তিনি(সাইফুর রহমান
চৌধুরী খোকন) উপজেলা যুবলীগের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 3057 বার
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 

ক্যালেন্ডার