আজ সোমবার,২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী স্মরণে স্মৃতিকথাঃশামস শামীম

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৭ ১১:৩৮ অপরাহ্ণ   আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৭ at ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
 

 

সালেহ চৌধুরী। ছিলেন কলম সৈনিক। দৈনিক পাকিস্তানের (পরে দৈনিক বাংলা) সাবেক ফিচার এডিটর। একাত্তরে কলম ফেলে দিয়ে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন দেশমাতৃকা স্বাধীন করতে। একাত্তরের বীর যোদ্ধা ও সংগঠক তিনি। টেকেরঘাট সাবসেক্টর প্রতিষ্ঠায় তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। এই সাব সেক্টর থেকে দুর্গম হাওরাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার পাশাশি অস্ত্রহাতে পাকিস্তানী হায়েনা ও তাদের দোসরদের তাড়িয়ে বেড়িয়েছেন। একের পর এক থানা লুট করে অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। দাসপার্টিকে অভিযান পরিচালনায় সর্বাত্নক সহযোগিতা করেছেন। শেষ জীবনে এসে নিজের মুক্তিযোদ্ধা ভাতায় সহযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। এই স্বপ্নটি আরো বড় ছিল তাঁর। শেষ করে যেতে পারেননি।

(সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী ও শামস শামীম)

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। নিয়মিত কলাম লিখেছেন জাতীয় দৈনিক গুলোতে। মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে নিয়মিত স্থানীয় দৈনিক ও সাময়িকীগুলোতে তথ্যবহুল লেখা লিখে নতুন প্রজন্মকে করেছেন উদ্ধুদ্ধ। নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্মী হিসেবে তার কাছ থেকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা পেয়েছি। তথ্য ক্রস চেক করতে নানা সময়ে বিরক্ত করেছি তাঁকে। তাঁর ভরাট গলায় এখনো কানে বাজে ‘কিতাবা’। ২০১১ সালে বাংলার বিরলপ্রজ কবি ও সুনামগঞ্জের সন্তান প্রজেশ কুমার রায়কে নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সেখানে ভূমিকায় নগন্য আমাকে স্মরণ করেছেন। এটা তাঁর কাছ থেকে আমার পরম পাওয়া।
শুধু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখাই নয় হুমায়ূন সাহিত্য নিয়ে তার কাজ রয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুপরবর্তী তাঁর সাহিত্যসমগ্র সম্পাদনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশ্বসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদও করেছেন। বহুমাত্রিক লেখক হিসেবে নানাভাবে তিনি বিরল বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেছেন। দাবাপাগল মানুষটি দাবায়ও ছিলেন বিশেষ পারঙ্গম। দাবা ফেডারেশনেও এক সময় যুক্ত ছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ তাকে দিয়ে অভিনয়ও করিয়েছেন-জাতির জনকের ভূমিকায়। আকিবুকিতেও সিদ্ধ ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকতায়ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন। ছিলেন কমনওয়েলত জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের বাংলাদেশের সভাপতি। সেক্টর ফোরান্ডামের উপদেষ্টাও ছিলেন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অপরাজেয় বাংলা’ নামটা তার দেওয়া। যুদ্ধ চলাকালীন ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবসে দেশের অনন্য যে শহীদ মিনার মুক্তিযোদ্ধা-জনতা নির্মাণ করে প্রথম বিজয় দিবস উদযাপন করেছিলেন সেই শহীদ মিনারের ডিজাইনার তিনি। শহীদ মিনারে সবুজ জমিনে লাল বৃত্তের উপরে লেখা ‘যাদের রক্তে মুক্ত এদেশ’ স্লোগানটাও তাঁর দেওয়া। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে হাওরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার অনন্য গ্রন্থ ‘ভাটি এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ’ এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল।
আমাদের হাওরাঞ্চলের গর্ব, দিরাই উপজেলার গচিয়া গ্রামের এই সন্তান শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন। তার আত্নার শান্তি কামনা করি। সহযোদ্ধারা তার স্মৃতি রক্ষায় উদ্যোগী হবেন, আমাদের সঙ্গে নিবেন এই প্রত্যাশ রাখি।
দেশ স্বাধীন করার চিরন্তন এক সুখ আমাদের উপহার দেওয়ায় আমরা আপনাকে আমৃত্যু মনে রাখব হে যোদ্ধা। স্যালুট কমরেড। সালাম।

লেখকঃসাংবাদিক,কবি,মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক তরুণ গবেষক। সুনাম গঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃদৈনিক কালের কন্ঠ,একাত্তর টিভি।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1259 বার
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 

ক্যালেন্ডার