আজকে

  • ৮ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
  • ২১শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং
  • ২রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুপথযাত্রী মৌলভীবাজারের লুবনা

Published: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৯, ২০১৮ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ    |     Modified: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৯, ২০১৮ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
 

ইমাদ উদদীন,মৌলভীবাজার থেকেঃ ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুপথযাত্রী লুবনা। এখন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। চিকিৎসাধীন লুবনার এমন করুণ পরিণতিতে তার পরিবার অসহায়। তার স্বামী ও চার সন্তান অঝোরেই কাঁদছেন। দিন দিনই অবস্থার অবনতি হচ্ছে চিকিৎসাধীন লুবনা খানমের। রোববার সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানালেন স্বামী আবদুস ছালাম তাদের চার সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লুবনার স্বামী আবদুস ছালাম বলেন, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী তার স্ত্রী চার সন্তানের জননী লুবনা খানম। তিনি বলেন, তার স্ত্রী লুবনা খানম কোমরের ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ২৭শে মে ২০১৭ তারিখে মৌলভীবাজারে অবস্থানরত (মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একজন কনসালটেন্ট) ডা. তারেক আহমদ চৌধুরীর প্রাইভেট চেম্বার আইকন মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে ওই ডাক্তার তার স্ত্রীকে চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ওষুধ সেবন করতে বলেন এবং কতগুলো প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা দেন। আমি তার পরামর্শ অনুযায়ী প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করাই। ১৩ই জুন আমার স্ত্রীকে নিয়ে পুনরায় ডা. তারেক আহমদ চৌধুরীর প্রাইভেট চেম্বারে গেলে তিনি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টসহ তাকে দেখেন এবং ব্যবস্থাপত্রে আরও ওষুধ লিখে দেন। ওষুধ খাবার পর আমার স্ত্রী লুবনা খানমের জ্বর আসে। মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে যায়। ১৯শে জুন পুনরায় ডা. তারেক আহমদ চৌধুরীর প্রাইভেট চেম্বারে গেলে তিনি আমার স্ত্রী ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন বলে ব্যবস্থাপত্রে আবারও ওষুধ লিখে দেন। ওষুধ খেয়ে আমার স্ত্রীর শরীরের আরো অবনতি হয় এবং খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তার শারীরিক অবস্থা বেগতিক দেখে আমি চিকিৎসার জন্য আমার স্ত্রীকে মৌলভীবাজার শহরের জেনারেল হাসপাতাল প্রাইভেট লিঃ-এ ভর্তি করি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ডা. রেজাউল করিম মীরকে কল করে আনেন। ডা. রেজাউল করিম মীর রোগীকে দেখে ‘চিকেন ফক্স’ রোগে আক্রান্ত মর্মে ব্যবস্থাপত্র দেন। তার ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ সেবনের পর আমার স্ত্রীর দুই চক্ষু দিয়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গসহ সমস্ত শরীর ফেটে রক্তপাত হতে থাকে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন দেখা দেয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে পরদিন জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আরেকজন চিকিৎসক ডা. স্বপন কুমার সিংহকে কল করে আনলে তিনি রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার না করে অবৈধ লাভের আশায় রোগীকে আরও ২ দিন জেনারেল হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করেন। এরপর আমার স্ত্রীর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। এবং চোখ ও মুখ দিয়ে অনবরত রক্তপাত হচ্ছে দেখে ডা. রেজাউল করিম মীর ও ডা. স্বপন কুমার সিংহ ২৩শে জুন ‘চিকেন ফক্স‘ মন্তব্যসহ ছাড়পত্র দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। আমি স্ত্রীকে নিয়ে ২৩শে জুন রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পর রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ‘চিকেন ফক্স’ লেখা থাকার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে ভর্তি না করায় আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আমার মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ঘুরে একপর্যায়ে সিলেট শহরের পূর্ব শাহী ঈদগাহ এলাকার সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করতে সক্ষম হই। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ‘ড্রাগ রি-অ্যাকশন’-এর ফলে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়েছে বলে জানান এবং ‘ড্রাগ রি-অ্যাকশন’ মর্মে ছাড়পত্র দিয়ে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে ২৪শে রোগীকে ভর্তি করে ৬ই আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসা করা হয়। ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ড্রাগ রি-অ্যাকশনের ফলে রোগীর দুই চক্ষু এবং শরীরের সমস্ত অঙ্গে পচন ধরেছে দেখে রোগীকে প্রথমে স্কিন বিভাগে ভর্তি করেন এবং পরে চক্ষু বিভাগে স্থানান্তর করে চোখের চিকিৎসা করেন। দীর্ঘ ১ মাস ১৩ দিন ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমার স্ত্রীর শরীরের ক্ষতস্থানের কিছুটা উন্নতি হলেও দুই চক্ষুই অন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে ঢাকায় বা অন্যত্র চক্ষু হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। আমি চোখের চিকিৎসার জন্য ১৩ই আগস্ট আমার স্ত্রীকে মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক রোগীর চোখের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে রেফার করেন। আমি স্ত্রীকে নিয়ে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। আবার আমার স্ত্রীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ১১ই সেপ্টেম্বের ভর্তি করে ২৫শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা নিই। পরে ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তাকে পুনরায় ঢাকা ইসলামিয়া হাসপাতালে নেয়া হয় এবং অদ্যাবধি ইসলামিয়া হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। কিন্তু দিন দিন তার অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে। তিনি বলেন, ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসা, ক্ষতিকারক ওষুধ প্রয়োগ, অবহেলা, চিকিৎসার নামে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আদায়ের হীন মানসিকতার ফলে এবং বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রোগীকে যথাসময়ে অন্যত্র উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার না করে খামখেয়ালিভাবে একের পর এক অতিমাত্রায় ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগের ফলে আমার স্ত্রীর ভবিষ্যৎ জীবন অনিশ্চিত ও দুটি চক্ষু অন্ধ হয়ে গেছে। আমি দীর্ঘ ৭ মাস ধরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন ডাক্তার, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাতায়াত এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলে প্রায় ১৭ (সতেরো লাখ) টাকা ব্যয় করে নিস্ব ও সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি এবং আমার স্ত্রীর দুটি চক্ষু হারিয়ে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমি বাড়ি আসার পর কয়েকজন নিয়ে ওই ডাক্তারগণকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে তাদের এই কাজ স্বাভাবিক কর্ম উল্লেখ করে আমাদের সামনে থেকে চলে যেতে বলেন। ওই ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসা, ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ এবং অবহেলা, উদাসীন কার্যকলাপ, রোগীকে জিম্মি করে টাকা উপার্জনের অপকৌশলের কারণে দুটি চক্ষু অন্ধ হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী। অথচ বিষয়টি তাদের নজরে আনায় ওই ডাক্তারগণ আমার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করায় অপমানে, রাগে, দুঃখে কাতর হয়ে আমি গত ১১ই ডিসেম্বর ওই ডাক্তারদের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আদালতে একটি মামলা করেছি।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1031 বার
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার