আজ বৃহস্পতিবার,২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

প্রধান বিচারপতিকে আর আদালতে বসতে না দেয়ার দাবি মানিকের

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৭ ৪:৫১ অপরাহ্ণ   আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৭ at ৭:২৪ অপরাহ্ণ
 
ইউকেবিডি টাইমস ডেস্কঃ অবকাশের পর প্রধান বিচারপতিকে আর আদালতে বসতে না দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, ‘তার (প্রধান বিচারপতি) কাছে দুটি জিনিস রয়েছে এই মুহূর্তে।

একটি হল ত্রয়োদশ সংশোধনী, আরেকটি ১৫৪ জন এমপি, যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এটা কিন্তু সম্পূর্ণ বৈধ, সাংবিধানিকভাবে বৈধ। কেউ যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে, তাহলে এ নিয়ম আছে।

ড. কামাল হোসেনও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এটা চ্যালেঞ্জ করা হলে হাইকোর্ট নস্যাৎ (বাতিল) করে দিয়েছেন। সেটা নাকি এখন তার আদালতে আছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি ছুটির (অবকাশ) পর আদালতে বসে এ দুটি বিষয় তুলে দেবেন। তার বিরাট পরিকল্পনা আছে এবং তার পেছনে বিরাট অপশক্তি আছে। সুতরাং সবাই শঙ্কিত এবং আমাদের দাবি, তাকে যেন আর (আদালতে) বসতে না দেয়া হয়।’

মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণসভা ও চলমান রাজনীতি’ বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান। বঙ্গবন্ধু একাডেমি এবং সম্মিলিত তরুণ পেশাজীবী পরিষদ যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিচারপতি মানিক বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা যে রায় এবং অবজারভেশন দিয়েছেন, তা আগেই লেখা ছিল। কারণ ১৩ জুলাই তিনি রায় দেন। এরপর রায়ের ওপর তিনি ৪০০ পৃষ্ঠার অবজারভেশন দিয়ে তা পূর্ণাঙ্গরূপে ১ আগস্ট প্রকাশ করেন। এ সময়ে তিনি আদালতের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থাৎ সব কাজ করে মাত্র ১৭ দিনে ৪০০ পৃষ্ঠার অবজারভেশন লেখা এক প্রকার অসম্ভব।

তাছাড়া আদালতের নিয়মানুযায়ী, প্রকাশের আগে রায় এবং অবজারভেশন অন্য বিচারকদের পড়তে দিতে হয়। সেক্ষেত্রে ৬ জন বিচারক যদি এটি পড়ার জন্য ৫ দিন করে সময় নেন, তাহলে অন্তত ৩০ দিন প্রয়োজন। এসব বিষয় থেকে প্রমাণ হয়, রায় আগেই লেখা ছিল। তার এ বিশাল অবজারভেশনের ভেতর আইনের কোনো বিষয় নেই, পুরোটাই রাজনৈতিক। সবচেয়ে আপত্তিকর বিষয় হল- কোনো একক ব্যক্তির অধীনে দেশ স্বাধীন হতে পারে না।

তিনি আরও অনেক আপত্তিকর কথা সেখানে বলেছেন, গত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। নারী সংসদ সদস্যদের অনির্বাচিত বলেছেন। আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বোপরি তিনি এ সমাজকে পঙ্গু বলেছেন। এসব লিখে তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে হেয় করেছেন। তার পেছনে অনেক দেশি-বিদেশি শক্তি কাজ করছে।

সাবেক এ বিচারপতি বলেন, প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর এসকে সিনহা গর্জে উঠলেন। ছিলেন বিড়াল, হয়ে উঠলেন সিংহ। তিনি নিয়মিত রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া শুরু করলেন। একজন দুর্নীতিবাজ বিচারপতিকে বাঁচাতে তিনি দুদকে চিঠি দিলেন, যে বিচারপতি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরে ওই স্থানের মাটির ঘ্রাণ নিয়ে বলেছিলেন, এটা ভারতের কাজ। প্রধান বিচারপতি এটা করতে পারেন না। এটাও একটি অপরাধ। তিনি নিজেও দুর্নীতিবাজ। তার দুর্নীতির খবর এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, আরও হবে।

১৫ আগস্টের নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জীবিতদের বিচার হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের কাছে দাবি, যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মরণোত্তর বিচার করতে আইন প্রণয়ন করুন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারে তিনি নিজে জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন।

তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, কর্নেল ফারুক ও রশীদ যখন জিয়াকে বলেছে শেখ মুজিবকে আমরা হত্যা করতে যাচ্ছি, জিয়া তাদের বলেছিলেন, তোমরা এগিয়ে যাও। অথচ উপসেনাপ্রধান হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল তাদের থামানো এবং মিলিটারি পুলিশকে বিষয়টি জানানো।

সাবেক সেনাপ্রধান কেএম শফিউল্লাহ আদালতে বলেছিলেন, ওইদিন সকালে সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে যখন সভা করা হয়, তখন সবাই অপ্রস্তুত ছিল। শুধু জিয়াই সেভ করে পোশাক পরে প্রস্তুত হয়ে এসেছিলেন। অর্থাৎ তিনি বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। এছাড়া জিয়ার ঘনিষ্ঠ মওদুদ আহমদও তার বইয়ে লিখেছেন, জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

জিয়া কখনও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না উল্লেখ করে বিচারপতি শামসুদ্দিন বলেন, জিয়া ছিলেন পাকিস্তান গোয়েন্দা বাহিনীর এজেন্ট। তার সঙ্গে আরেকজন ছিলেন, তিনি খন্দকার মোশতাক। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চিরতরে ধ্বংস করা।

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করা হয়। ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পারলে দেশ এতদিনে পাকিস্তান হয়ে যেত। তিনি বলেন, একটি দেশি-বিদেশি চক্র মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে দেশের স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে।

পাকিস্তানি গোয়েন্দা বাহিনী আইএসআই, জিয়া ও মোশতাকের সহায়তায় তারা ষড়যন্ত্র করেছে। স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় তারা স্বাধীনতার স্লোগান ‘জয় বাংলা’কে বন্ধ করে দিয়েছে। যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছেন, যেখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে, সেই ইতিহাস মুছে ফেলতে যেখানে শিশুপার্ক করা হয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় দেশে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। তারেক রহমান আগে হাওয়া ভবন থেকে ষড়যন্ত্র করতেন। এখন যুক্তরাজ্যের কিংস্টন এলাকায় প্রাসাদতুল্য বাড়িতে আরাম-আয়েশে থেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, সুপ্রিমকোর্টের রায়ে সরকার পতন হবে না। এটা বাংলাদেশ, পাকিস্তান না। কোনো জেনারেল, বিচারপতি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, ২১ আগস্ট যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা একই গোষ্ঠীর কাজ। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এগুলো করা হয়েছে। হত্যাকারীরা মনে করেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু আরও বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ মাস্টারমাইন্ড হল মুসতাক ও জিয়া। তাদের মরণোত্তর বিচারের দাবি জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের অবজারভেশনে প্রধান বিচারপতি যা বলেছেন, তা অনভিপ্রেত। তারা বড় বড় কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চান। তিনি বলেন, আজ যারা নিজেদের বড় রাজনীতিক হিসেবে মনে করেন, তারা সামরিক সরকারের তত্ত্বাবধানে নেতা হয়েছেন। তারাই ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এতবড় হত্যাকাণ্ডের পর বলেছেন, এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। তিনি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, দেশের বন্যার্ত মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর রোহিঙ্গাদের জন্য মায়াকান্না কাঁদছেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও ২১ আগস্টের বোমা হামলা দলের ভেতরের ও বাইরের শক্তি একজোট হয়ে করেছে। যতবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, ততবারই বাইরের শক্তির সঙ্গে দলের ভেতরের শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, নেতারা বিক্রি হয়ে যায়; কিন্তু দলের সাধারণ কর্মীরা কখনও বিক্রি হয় না। তারা তাদের ব্যক্তিত্ব বিসর্র্জন দেয় না।

ব্যারিস্টার জাকির আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব শাহজাহান আলী সাজু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন রুহুল, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা প্রমুখ।

(যুগান্তর)
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1198 বার
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 

ক্যালেন্ডার