আজ বৃহস্পতিবার,২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

ইসির সঙ্গে সংলাপ: ভোটে সবার অংশগ্রহণের কথা বলেছেন সাংবাদিকরা

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০১৭ ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ   আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০১৭ at ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
 

ঢাকা সংবাদদাতাঃ

অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। পাশাপাশি সকলের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনী আইন সংস্কারসহ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বলেছেন, নির্বাচনে শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিতে হবে। কমিশনকে পূর্ণশক্তি প্রয়োগ  করতে হবে। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের প্রথম দিনে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকসহ বিশিষ্ট সাংবাদিকরা অংশ নেন। তারা নির্বাচনী আইন সংস্কার, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন, প্রবাসীসহ সকল ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, কালো টাকা ও পেশি শক্তির ব্যবহার রোধ, সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ নানা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দেন। নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সংলাপ শুরু হয়ে চলে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। আজ ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধিরা ইসির সংলাপে অংশ নেবেন।
গতকাল সংলাপ শেষে সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ়তা দেখাতে হবে। নৈতিক অবস্থানে থাকতে হবে। এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। এই সকল ক্ষেত্রে যারা মূল অংশীদার রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, জানতে হবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না। আমরা বোঝাতে চেয়েছি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে সরকার যদি সচেতন হয়, কমিটমেন্ট থাকে, নির্বাচন কমিশন যদি সক্রিয় হয় এবং বড় দুটি রাজনৈতিক দল যদি কমিটেড হয় তবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। গণমাধ্যমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সমস্ত কালো আইন মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে ৫৭ ধারাসহ এবং সম্প্রচার নীতিমালা সেটা বাতিল করতে হবে। যেসব মিডিয়া বন্ধ আছে সেসব মিডিয়া খুলে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি দল বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করে জনমনে একটা প্রভাব সৃষ্টি করতে পারছে। নির্বাচন যেন প্রভাবিত করা যায় সে বিষয়ে চেষ্টা করছে। সেটার ব্যাপারেও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। যদি সম্ভব হয় নির্বাচনের আগে থেকে শেষ পর্যন্ত হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ রাখতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম সাংবাদিকদের বলেন, সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আমরা মতামত দিয়েছি। নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহারের ভূমিকা থাকে। নির্বাচনী ব্যয় বেঁধে দেওয়া থাকে। সে বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম পালনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য ইসিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো শক্তিশালী কমিশন আমাদের নয়। তবে সাংবিধানিক ক্ষমতার দিক থেকে আমরা কোনো অংশে কম বলে মনে করি না। আমরা বলেছি আপনারা শুধু দাঁড়িয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে দেখাবেন সেটা না। প্রকৃত ক্ষমতা দেখিয়ে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন সেটা দরকার।
সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর বলেন, এখন থেকেই সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ইভিএম নিয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বিএনপির নাম উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে ওই দলটির অনেক নেতার নামে মামলা রয়েছে। ওই মামলার সূত্র ধরে নির্বাচনের সময় তাদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, তার জন্য নির্বাচনকালে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের মামলার হয়রানি থেকে রেহাই দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি সেনা মোতায়েনের পক্ষে মত দেন।
মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের দুটি বিষয় ছিল গর্বের। আমরা বড়াই করে বলতাম। নির্বাচন ও গণমাধ্যম। আজ দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনের ইতিহাস হচ্ছে রক্তাক্ত। ১৯৯৪ সালে যদি মাগুরার নির্বাচন বিচারপতি এমএ রউফ বাতিল করতেন তাহলে ২০১৪ সালের নির্বাচন দেখতে হতো না। তিনি আরও বলেন, রেফারি ভালো না হলে খেলা ভালো হয় না। খেলায় লালকার্ড দেখানোর নিয়ম আছে, ফুটবলের কিংবদন্তি ম্যারাডোনাকেও দেখেছি মাঠ থেকে লালকার্ড দিয়ে বের করে দিতে। নির্বাচন কমিশনকে দক্ষ রেফারির ভূমিকা পালন করতে হবে।  সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপত্তিটা কোথায়? বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পৃথিবীর ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ নানা দেশে নির্বাচন পরিচালনা করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচনে তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হলে বিতর্কিত হয়ে যাবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক আছে। এখানে ভালো নির্বাচন হলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী গৌরব করতে পারে। বহির্বিশ্বে আমাদের ইমেজও বাড়বে।
বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সময় বদলে গেছে। মনে যা আছে সেটা সবসময় প্রকাশ না করাই ভালো। কারণ, কে কীভাবে নেবে সেটা আপনি জানেন না। মনের কথা বলতে হলে বাথরুমে গিয়ে বরং বলাই ভালো’।
বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, একটা বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে যে নির্বাচন একটা রাজনৈতিক উৎসব। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটা ভালো নির্বাচন করতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণ যেন নিশ্চিত করা যায়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। দলগুলোর আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি জানান, সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কেউ এটার পক্ষে মত দিয়েছেন। অনেকে বলেছেন নির্বাচন একটি বেসামরিক ইস্যু। সার্বিকভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। অনেকে বলেছেন এখন যেভাবে মোতায়েন করা হয় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে তারা থাকতে পারে। অনেকেই বলেছেন আমাদের সেনাবাহিনী দেশের বাইরে ভালো কাজ করে আমাদের দেশে কেন করতে পারবে না। ‘না’ ভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠদের মত এসেছে ‘নো’ ভোট না থাকা ভালো, কেউ কেউ বলেছেন ‘নো’ ভোট থাকতে পারে। আমি বলেছি ‘নো’ ভোট থাকলে ব্যক্তির বিরুদ্ধে হেইট ক্যাম্পেইন শুরু হতে পারে।
সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়ে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, এ নির্বাচনের দিকে সবাই তাকিয়ে রয়েছে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ইসির স্বাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। এমন আচরণ করতে হবে যাতে জনগণের আস্থা তৈরি হয়। আস্থা অর্জনে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। শ্যামল দত্ত জানান, নির্বাচনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে। সামনে সিটি নির্বাচনের ওপরই জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে আস্থা তৈরির পথ প্রশস্ত হবে। প্রেস ক্লাব সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সমর্থন করেন না। সেই সঙ্গে নাম সর্বস্ব পর্যবেক্ষক সংস্থাকে যেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেওয়া হয়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে আমরা যেটা দেখি একটি নির্বাচন করতে হলে যে ধরনের পরিবেশ দরকার, সেটি এখনও তৈরি হয়নি। বিদ্যমান সীমানাতেই ভোট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতেই সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো দল যাতে নিবন্ধন না পায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াত যাতে অন্য কোনো নামে বা অন্য কোনো ফরম্যাটে ভোট করতে না পারে সে বিষয়ে আইনি উদ্যোগ নিতে হবে।
সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজ একটা নির্বাচন করা। নির্বাচন করা মানে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা মানে বাংলাদেশের সব বড় বড় রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা। আমাদের এখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নির্বাচনের আগে এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে যে কোনো উপায়ে একটি নির্বাচন করতে হবে, সংবিধান রক্ষা করতে হবে। নাহলে দেশ থাকবে না, সংবিধান থাকবে না- এরকম একটা প্রসঙ্গ সামনে আনা হয়। সামনে এনে এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়, যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেয় না। অংশ নেওয়ার মতো পরিবেশ থাকে না। নির্বাচন কমিশন জনগণের অর্থে পরিচালিত হয়। জনগণের অর্থ খরচ করে, জনগণের অর্থে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে নির্বাচন কমিশন। ভোটারবিহীন অথবা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের কাজ হতে পারে না।
বিএফইউজে’র একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পন্থা বের করতে হবে। দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে কেবল গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন সম্ভব।
পরে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সংলাপের সারাংশ সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। সচিব বলেন, দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিকরা সকলের অংশগ্রহণমূলক আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। নির্বাচন কমিশনের আইনের সঠিক প্রয়োগের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেছেন। সেনাবাহিনী নিয়োগের পক্ষে এবং বিপক্ষে সবাই মতামত ব্যক্ত করেছেন কেউ বলেছেন সেনাবাহিনী মোতায়েন করলে ভালো হয়। কেউ বলেছেন প্রয়োজন নেই। ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা না রাখার সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করেছেন। ‘না’ ভোট রাখলে কী সুবিধা হয় না রাখলে কি সুবিধা হয় দুপক্ষই মতামত দিয়েছেন। সচিব আরও বলেন, এ নির্বাচনে অতিরিক্ত টাকার ব্যবহার ও পেশিশক্তির ব্যবহার যেন না হতে পারে এ বিষয়ে তারা পরামর্শ প্রদান করেছেন। নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য উনারা পরামর্শ দিয়েছেন। যে আইনি কাঠামো আছে ওই আইনি কাঠামোর মধ্যে নির্বাচন কমিশন যেন তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। আরেকটি প্রস্তাব এসেছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা। নির্বাচনের পূর্বে সকল দল যাতে সুন্দরভাবে অংশগ্রহণ করতে যারে সেজন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য প্রস্তাব এসেছে। ভোটার ও রাজনৈতিক দলের কাছে যেন আস্থা অর্জন করা যায়, নির্বাচন কমিশনকে সেভাবে কাজ করতে হবে।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অধিকাংশের মতেই ছিল সেনাবাহিনী যদি প্রয়োজন হয় তারা (ইসি) মোতায়েন করবে, যদি প্রয়োজন না হয় তারা মোতায়েন করবে না। নির্বাচন কমিশন সকলের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করে নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নেবে। দেশের পরিবেশ পরিস্থিতির ওপরে নির্ভর করে তখন ঠিক করা হবে।
রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে বিষয়টা আমরা তলিয়ে দেখব। এখন পর্যন্ত সংলাপ ফলপ্রসূ হবে কি না, নির্বাচন কমিশন মনে করে সংলাপ করা দরকার। সংলাপ করলে বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে। মতামত শোনার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আশা করি সকলের অংশগ্রহণের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
উনাদের একজন বলেছেন, রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসলো কি আসলো না, এটা তাদের বিষয়। আমাদের কথা হচ্ছে পরিবেশ পরিস্থিতি এমন রাখতে হবে যেন আস্থা অর্জন করতে পারে। দেশে নির্বাচনের পরিবেশ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দেড় বছর বাকি আছে। নির্বাচনী আবহ তৈরির জন্য আমরা সংলাপের আয়োজন করছি। এখন পর্যন্ত সংলাপে অর্জন। আমরা তো আশাবাদী। সংলাপ হচ্ছে। সবাই সাড়া দিচ্ছে, সবাই আসছে। সবার সঙ্গে সংলাপ শেষে মূল্যায়ন করা যাবে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষে মূল্যায়ন করা যাবে সংলাপে কতটুকু অর্জন হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য সংলাপ কোনো ভিত্তি তৈরি করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো আশাবাদী।
সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন, নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবির, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত, কালের কণ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, আমাদের অর্থনীতি সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, বিএফইউজের অপর অংশের মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, আনিসুল হক, আমানুল্লাহ কবীর, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা, কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকার, মাহবুব কামাল, সোহরাব হাসান, যায়যায়দিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কাজী রুকুনউদ্দীন আহমেদ, সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, সাংবাদিক কাজী সিরাজ, আনিস আলমগীর।
এদিকে আজ ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ইসির সঙ্গে সংলাপ করবেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করছে নির্বাচন কমিশন। গত ৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে এ কর্মপরিকল্পনার যাত্রা শুরু হয়। ২০১৯ সালের ২৮শে জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০শে অক্টোবরের পর থেকে শুরু হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1197 বার
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 

ক্যালেন্ডার