আজ বৃহস্পতিবার,২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশে ভয়াবহ যৌন কেলেঙ্কারি

প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০১৭ ৬:৫৯ অপরাহ্ণ   আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৭ at ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির ভয়াবহ এক অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা টিনেজ মেয়েদের পতিতা হিসেবে ব্যবহার করে। অপরিণত টিনেজ মেয়েদের তারা যৌনকর্মী হিসেবে অব্যাহতভাবে ফাঁদে আটকে রাখে। এ বিষয়ে অভিযোগ করে পুলিশ বিভাগ থেকে কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পুলিশ বিভাগের দ্বিতীয় একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জেসমিন আবুসলিন। তিনি দাবি করেছেন, অপরিণত বয়সে তাকে কমপক্ষে এক ডজনেরও বেশি পুলিশ সদস্যের সঙ্গে শয্যাগ্রহণ করতে হয়েছে। তারা তাকে যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহার করেছে। এর আগেও তিনি এমন অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পান নি। তবে দ্বিতীয় অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, তাকে যৌনতার ফাঁদে ফেলেছেন কমপক্ষে ৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা। তাদেরকে তিনি কোনোভাবেই থামাতে পারছেন না। তাই গত বৃহস্পতিবার তিনি পুলিশ বিভাগের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, এ নিয়ে পুলিশ বিভাগে অভিযোগ করা হলেও সেখানে যৌনতা চক্রের বিষয়ে তারা চোখ বন্ধ করে রাখে।

উল্লেখ্য, জেসমিন আবুসলিনের এখন বয়স ১৯ বছর। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের এক পুলিশ সদস্যের মেয়ে। এর আগে জেসমিন যে মামলা করেছিলেন সে মামলা ৯ লাখ ৮৯ হাজার ডলারের বিনিময়ে মিটমাট হয়েছে। তার আইনজীবী বলেছেন, পুলিশ বিভাগের তিন থেকে চারজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা রয়েছে জেসমিনের। তার এমন অভিযোগে ওকল্যান্ড পুলিশ বাহিনীতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগে জেসমিন বলেছেন, অপরিণত টিনেজ মেয়েদের সঙ্গে যৌনতায় পুলিশকে সুরক্ষা দিচ্ছে শহরের পুলিশ বাহিনী। রিচমন্ডের ৬ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তিনি। বলেছেন, তাকে যৌনকাজে ব্যবহার করতে ‘পাচার’ করেছিলেন রিচমন্ডের ৬ পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযুক্ত এসব পুলিশ সদস্যদের কুকর্ম বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন শহরে বর্তমান পুলিশ প্রধান অলউইন ব্রাউন ও সাবেক পুলিশ প্রধান ক্রিস ম্যাগনাস। উল্লেখ্য, জেসমিন সেলেস্টে গুয়াপ নামে শিশু যৌনকর্মী হিসেবে পেশা শুরু করে। পুলিশ বাহিনীতে কর্মকর্তাদের জন্য এক্সক্লুসিভ হিসেবে তাকে অঙ্গীভূত করা হয়। তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করা হতো তাকে। এর বিনিময়ে তাকে অর্থ দেয়া হতো। সুরক্ষা দেয়া হতো। আরো বিভিন্ন সুবিধা দেয়া হতো। জেসমিনের আইনজীবী জন বারিস একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, পুলিশের এমন কর্মকা- অত্যন্ত অসহনীয়। তারা একজন বিপদগ্রস্ত টিনেজ মেয়ের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে। মানসিকবাবে বা অন্য কোনো কারণে দুর্ভোগে পড়া মেয়েরা তাদের শিকারে সব সময় পরিণত হয়। এমন মেয়েদের তারা সহায়তা করার পরিবর্তে তাদের প্রতি তারা সবচেয়ে নেতিবাচক পদক্ষেপ নেয়। ওদিকে ওকল্যান্ডে পুলিশের যৌন কেলেঙ্কারির কাহিনী জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়ে পড়ায় এরই মধ্যে শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে সনাক্ত করা হয়েছে ১১ জন পুলিশ সদস্যকে। তার মধ্যে একজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। একজনের পদাবনতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। দু’জনকে ৮০ ঘন্টা ও ১২০ ঘন্টা বরখাস্ত করা হয়েছে। সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়েছে ৫ জনকে। আইনজীবী বারিস বলেন, আলমেদা কাউন্টি শেরিফ অফিস, কন্ট্রা কোস্টা কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট, লিভারমোর পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধেও মামলা করার পরিকল্পনা করছেন জেসমিন।

পুলিশের এই যৌন কেলেঙ্কারির বিষয়টি ফাঁস হয় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় একজন কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেন। তিনি অন্যান্য অফিসারদের উদ্দেশে লিখে যান একটি চিরকুট। এ নিয়ে তদন্তে বেরিয়ে আসে নোংরা সব কাহিনী। এক পর্যায়ে জেসমিন দাবি করেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে কয়েজ ডজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তাকে ঘুমাতে হয়েছে। তারা তার শরীর ভোগ করেছে। এমন কি তাকে রাস্তায় পতিতাবৃত্তি করতে উৎসাহিত করেছে তারা। এক কর্মকর্তা তো কাকে ভাড়া করে নিয়ে যেতেন হোটেলে। সেখানে খদ্দের ধরাতেন তিনি। এ জন্য কি পোশাক পরতে হবে তা বলে দিতেন ওই কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তার টহল গাড়িতে জেসমিনকে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে হয়েছে অন্য একজনের সঙ্গে। যেসব স্থানে কর্তৃপক্ষ পতিতাবিরোধী অভিযান চালায় সেসব স্থানে জেসমিনকে না যেতে সতর্ক করা হয়। ওকল্যান্ডের বর্তমান ও সাবেক ৭ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার সঙ্গে এমন অপরাধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মধ্যে একজন দোষ স্বীকার করেছেন।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1035 বার
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 

ক্যালেন্ডার