আজকে

  • ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ৮ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

মানবতার টানে মন চলে যায় সেখানে

Published: শনিবার, অক্টোবর ২১, ২০১৭ ৩:০০ পূর্বাহ্ণ    |     Modified: শনিবার, অক্টোবর ২১, ২০১৭ ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
 
জুবায়ের আহমেদ :
২৫ আগষ্ট থেকে শুরু করে পুরো সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে মিয়ানমার রাখাইন(আরাকান) রাজ্যে সেনাবাহিনী যে মধ্যযুগীয় তান্ডব লীলা চালিয়েছে তা একবিংশ শতাব্দীতে এসে পৃথিবীবাসীদের আবারো দেখতে হবে তা কল্পনাও করেননি কেউ। হত্যা, ধর্ষন, নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ফলে শান্তিপ্রিয় রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে পাশ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা এখন খেয়ে নাখেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সেখানে।
পৃথিবীর প্রতিটি মানব দরদী হৃদয় এ নির্যাতিত জনগোষ্টির কষ্ট অনুভব করার চেষ্টা করেছে। সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে বিশ্ববাসী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কান্নাজড়িত কন্ঠের
অসহায়ত্বের বর্ণনা শুনেছেন।
মোহাম্মদ হামজা
তাদের সাহায্যার্থে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চ্যারিটি সংগঠন গুলো হাত বাড়িয়েছে। আবার অনেকে একত্র হয়ে অর্থ সংগ্রহ করে তা চ্যারিটি সংগঠনে মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন।
দিন দুয়েক আগে লন্ডন ব্রিজ আন্ডারগ্রাউন স্টেশন দিয়ে যাওয়ার পথে হঠাৎ চোখ আটকে গেল একটি সাইন বোর্ডে।
একটু এগিয়ে গিয়ে দেখলাম লেখা মায়ানমারের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে এ স্টেশনে, যারা দান করতে আগ্রহী তাদের সে দান ধন্যবাদ সহিত গ্রহন করা হবে।
পরে খেয়াল করলাম কয়েকটি পয়েন্ট টিএফএল কর্মীরা দান বক্স নিয়ে দাড়ি আছেন। পাশে চোখ ফিরিয়ে দেখলাম দান বক্স হাতে নিয়ে হাসি মুখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন এক স্টেশন স্টাপ। কৌতূহল বসত জানার চেষ্টা করলাম বিস্তারিত। জানলাম নাম তার মোহাম্মদ হামজা, কনভার্টেট মুসলিম।
গত দু’সপ্তাহ ধরে প্রতি দিন লন্ডন ব্রিজ পাতাল রেল স্টেশন, কানাডা ওয়াটার স্টেশন ও ওয়াটারলো স্টেশনে কাস্টমারদের কাছ থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহ করছেন তারা রোহিঙ্গাদের জন্য। ঐ দিনই ছিল অর্থ সংগ্রহের শেষ দিন। অর্থাৎ, ৫ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তারা রোহিঙ্গা জনগোষ্টির জন্য নগদ অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
প্রতিদিন শুধুমাত্র লন্ডন ব্রিজ স্টেশন থেকে প্রায় ১০০০ পাউন্ড সংগ্রহ করছেন পাতাল রেল ব্যবহারকারী কাস্টমারদের কাছ থেকে। রেলের ওটা বা নামার সময়কালে স্টেশনের বিভিন্ন পয়েন্টে দাড়িয়ে মানুষদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহে ব্যস্ত তার আরো অনেক সহকর্মীরা।
তিনি বলেন, তাদের টার্গেট হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করতে যা পরে ডিজেসটার্স ইমার্জেন্সি কমিটি নামের চ্যারিটি সংগঠনের মাধ্যমে মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের কাছে পাঠিয়ে দিতে।
হামজার আরেক সহকর্মী জেইমস জানান, নিজ দেশের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর যে নির্মমতা দেখাচ্ছে মায়ানমার সরকার তা কখনও গ্রহনযোগ্য হতে পারে না।
তারা এর দ্রুত একটি সমাধান চান।
আমাদের কথা চলাকালে আসা যাওয়ার পথে অনেককেই দেখেছি দু’এক পাউন্ড করে দিয়ে যেতে হাসি মুখে।
কথা শেষে আমি চলতে শুরু করলাম আমার গ্রন্তব্যের দিকে আর ভাবলাম কি বৈচিত্র্যই না মানুষের মধ্যে।
যে মানুষ গুলোর সাথে প্রতিদিন দেখা হত,কথা হত। যে বন্ধুর সাথে গ্রামের পাঠশালায় লেখা পড়া করে, একি মাঠে খেলাধুলা করে বেড়ে ওঠেছে শুধুমাত্র সময়ের ব্যবধানে সে মানুষগুলো জমে পরিণত হয়েছে। সদল বলে সাহায্য করছে,অংশগ্রহন করেছে মানুষরুপী সেসকল মায়ানমার সেনাবাহিনীর পশুদের তান্ডবে যাদের কাছে দুধের শিশু নিরাপদ নয়, ৮০ বছরের বৃদ্ধরাসহ কেউ নিরাপদ নয়।
আজ পৃথিবীর বুকে একট টুকরু জলন্ত নরক হয়ে দাড়িয়ে আছে আরাকান।
আবার যে মানুষগুলো হাজার হাজার মাইল দূরে, যাদের সাথে কখনও দেখাও হয়নি,ভাষা,সংস্কৃতি,ধর্মের কিছুরই মিল নেই। তাঁরাই কিনা রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে,এদের মন কাঁদে। কিসের টানে? উওর পাই মানবতার টানে।
 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার