আজকে

  • ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

চাঞ্চল্যকর ২১ আগস্ট হামলার রায় নিয়ে লন্ডনে তারেক রহমানের বক্তব্য (ভিডিওসহ)  

Published: মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮ ৮:০০ অপরাহ্ণ    |     Modified: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৮, ২০১৮ ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
 

সিলনিউজ ডেস্ক:’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ২১ আগস্ট হামলা মামলায় তার নাম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে। ২১ আগস্ট মামলার বিচার চলাকালীন অবস্থায় পুনরায় তদন্তের নামে প্রতিহিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করতেই তার নাম এই মামলায় জড়ানো হয়।  এটি স্রেফ প্রতিহিংসার রাজনীতি। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর ২০১৮) লন্ডন থেকে অনলাইনে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব  কথা বলেন।

Video Player
00:00
00:00

তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে (আব্দুল কাহহার আকন্দ) চাকুরীতে পুনর্বহাল করে। তাকে পুনরায় এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।  নিয়োগ পেয়ে এই কর্মকর্তা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকে (মুফতি হান্নান) ১০০দিনের বেশি সময় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে তার মুখ থেকে বের করানো হয় তার নাম।  তবে পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আদালতে গিয়ে নিজেই তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন করেন।  তিনি আদালতকে জানান, তাকে নির্মম নির্যাতন করে তার মুখ দিয়ে তারেক রহমান নাম বলানো হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, আর্শ্চযের বিষয় হলো, যেই একজন মাত্র ব্যক্তির মুখ থেকে জোরপূর্বক নাম বের করে ২১ আগস্ট মামলায় তাকে (তারেক রহমানকে) জড়ানো হয়েছে অথচ  ওই ব্যক্তিকে (মুফতি হান্নান) অন্য একটি মামলায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বক্তব্যের তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, এটি কি স্বাভাবিক ঘটনা?

২০ মিনিটের বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি কখনোই ঘৃণ্য হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। ২১ আগষ্টের নৃশংস ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন সরকার কিংবা বিএনপির কেউ জড়িত নয়।  বিএনপি যে জড়িত নয়, এর কতগুলো  সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রমান রয়েছে ওলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট পুলিশ প্রশাসন রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগকে জনসভার অনুমতি দিয়েছিলো । জনসভার দিন এবং তার আগের দিন পুলিশ প্রশাসন যথানিয়মে মুক্তাঙ্গনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। ২১ আগস্ট মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের জনসভার খবর সেসময়কার সকল  পত্রপত্রিকায়ও  প্রকাশিত হয়েছিল। এমনকি ২১ আগস্ট মুক্তাঙ্গনের সমাবেশে আওয়ামী লীগের লোকজন আসতেও শুরু করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কে, কেন, কার আদেশে,  কি উদ্দেশ্যে পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়েই মুক্তাঙ্গন থেকে সমাবেশের স্থান সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। কেন সরিয়ে নেয়া হয়েছিল? শেষ মুহূর্তে কে কার পরামর্শে সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করেছিল সেটি এখনো জনগণকে জানানো হয়নি। জনগণ এর কারণ জানতে চায়?

 

এই মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের জবানবন্দির সূত্র ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের জনসভায় হামলা পরিকল্পনা সাজাতে মুফতি হান্নানসহ কোনো কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসী দুই দিন আগে থেকেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছিলো। তাহলে প্রশ্ন, ওইসব জঙ্গি -সন্ত্রাসীরা কেমন করে আগেই জেনে গেলো মুক্তাঙ্গনে নয় আওয়ামী ;লীগের  সমাবেশ হবে অফিসের সামনে?

তারেক রহমান বলেন, এই হামলার সঙ্গে তাকে কিংবা বিএনপিকে জড়ানো সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক কারণ ওই জনসভায় হামলা থেকে বিএনপি’র কিছুই পাওয়ার ছিলোনা। যেহেতু বিএনপি তখন ক্ষমতায় সুতরাং আওয়ামী লীগের মতো একটা দলের সমাবেশে হামলা চালিয়ে বিএনপি কেন  নিজেই নিজের সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইবে?

 

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট মামলার রায় প্রসঙ্গেও খোলামেলা কথা বলেন তারেক রহমান। তারেক রহমান বলেন, ২১ আগস্ট হামলা মামলার রায় ঘোষণা দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত। আদালত রায় দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করলেও এর আগেই শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতামন্ত্রীরা মামলার রায় দিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, রায়ের দিন হয়তো দেখা যাবে,  বিচারক  আওয়ামী লীগ সরকারের ঘোষণা করা পূর্ব নির্ধারিত রায়টি পড়বেন।

বিচারকের রায় সম্পর্কে তারেক রহমানের এমন ধারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমনটি ধারণা করার কারণ হলো, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ মামলার বিচারেও দেখা গেছে অনেক আগে থেকেই সরকারের নেতাকর্মীরা মামলার রায় ঘোষণা করে দিয়েছিলেন।  আর নির্দিষ্ট বিচারক আওয়ামী লীগের নেতার্কর্মীদের ঘোষিত রায় যথানিয়মে পড়ে দিয়েছেন।

তারেক রহমান আরো বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতির রায় সরকারের পছন্দ না হওয়ায় তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে একটি মামলার রায় সরকারের মনোপুত: না হওয়ায় ওই নিম্ন আদালতের বিচারককেও দেশ ছাড়া করা হয়েছে। সুতরাং, ২১ আগস্ট হামলা মামলার রায়ও  হয়তো আগের মতোই হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ফরমায়েশি রায়।

তিনি বলেন, রায়কে পুঁজি করে বর্তমান ব্যাংক ডাকাত সরকার হয়তো আদালতের ঘাড়ে বন্দুক তার বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের মাত্রা আরেকটু বাড়িয়ে দেবে।  এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন,  ‘চলার পথে আমার আস্থা এবং আল্লাহর ওপর, আমার বাবা মা আমার আদর্শ, দেশের জনগণ আমার রাজনৈতিক শক্তি, দেশ এবং জনগণের কল্যানে কাজ করতে গিয়ে আমার বাবা জীবন দিয়েছেন, আমার মা’ এই বয়সেও কারা নির্যাতন ভোগ করছেন, আমিও দেশ এবং জনগণের স্বার্থে যে কোনো বিপদ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত’ ।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ প্রত্যাশা করে অতীতের মতো ২১ আগস্ট হামলা মামলার কোনো ফরমায়েশী রায় হবেনা। তারেক রহমান বলেন,

বর্তমানে রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায় বিচার নেই বলেই আটমাসের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি

প্রশ্ন করে বলেন, কি কারণে খালেদা জিয়া মাসের পর মাস কারাবন্দি ? যিনি আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দিনের পর দিন আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, বিচারকদের সীমাবদ্ধতা জানা সত্ত্বেও যিনি বিচার বিভাগের মর্যাদাকে খাটো হতে দেননি, অথচ তার বিরুদ্ধে বিচারের নামে চলছে অবিচার।

তারেক বহমান প্রশ্ন করে বলেন, যে মামলায় রায়ের দোহাই দিয়ে  বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে সেই মামলায় তিনি উচ্চআদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তাহলে এখন কোন মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে? তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ করতে আদালতকে ব্যবহার করে যেভাবে ডজন ডজন মামলা হাজির করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আটকে রাখা হয়েছে এতে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা চরিতার্থ হলেও বিচার বিভাগের মর্যাদা বাড়ছেনা, আইনের শাসন প্রতিপলিত হচ্ছেনা বরং প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি।

তারেক রহমান আরো বলেন তিনি কিংবা তার মা বেগম খালেদা জিয়া কিংবা ‘বিএনপি’ এবং বিএনপি’র নেতাকর্মী প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা, অতীতেও করেনি ভবিষ্যতেও করবেনা।

বক্তব্যে তারেক রহমান তৃণমূল জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের প্রাণশক্তি বলে উল্লেখ করেন।  জাতীয়তাবাদী শক্তির সাফল্য ও অগ্রযাত্রার কথা বর্ণনা করে তারেক রহমান বলেন,  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী দর্শনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি গোষ্ঠী জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লাগাতার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যার মধ্যে দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এখন ষড়যন্ত্রকারীরদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।   তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখন থেকেও তাদের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের টার্গেটে পরিণত করেছে।

দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী সমর্থকদের কাছে আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখুন। এই সংকটময় মুহূর্ত ধৈর্যের সঙ্গে  মোকাবেলা করুন।  বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন, কারো পাতা ফাঁদে পা দেবেন না। ঐক্য বিনষ্ট করতে এবং বিশ্বাসে চিড় ধরাতে নানারকোন ফাঁদ পাতা হয়েছে, অতএব সবাইকে সাহস ও সতর্কতার সাথে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন।

 

ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে সফল করার জন্য তিনি দলের নেতাকর্মীসহ সবার প্রতি আহবান জানান।

(ওয়ানবাংলা)

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার